রাম ভক্ত শ্রীরবীন্দ্রনাথ


বাংলা ইতি কথা 🙏 বাংলার ধর্মে 

রামনবমী এবং রামনবমী। বাংলা এবং বাঙালির চেতনে রাম। রাম নবমী এই সালে ২৯শে মার্চ ২০২৬।

বাংলার গ্রামে গঞ্জে মানুষ রাম রাত্রি পালন করে রামায়ণ গান  এবং কীর্তন শোনে । হরে রাম হরে রাম বাংলা ও বাঙ্গালীর আধ্যাত্মিক জীবনের প্রকাশ,এর উপর কিছু দিনের জন্যে পর্দা ফেলা যেতে পারে কিন্তু তা চিরকালিন নয়।

রামের ইতিহাস রামায়ণের রাম তালিকায় নয় বরং রামায়ণের বার্তায়। রামায়ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মূল ভাবনা চরিত্রের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। শ্রীরবীন্দ্রনাথ  এবং শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  থেকে আমরা জানতে পারবো রামায়ণের মূল কথা।



 রামায়ণে রাম এক মহান ব্যক্তিত্ব। শুধু ব্যক্তিত্ব নয় হিন্দুর কাছে তিনি ভগবান।
কিন্তু বাংলায় যখন রাম মন্দির উদ্ধারের কাজ শুরু হয় তার সম্পর্কে নানা কুকথা লেখা হয়েছিল। বাম এবং ধর্মনিরপেক্ষ পারিবারিক দলগুলো রামের বিরুদ্ধে তো বিষেদগার করেছেই, এমনকি আনন্দবাজার পত্রিকায় অত্যন্ত কুৎসিত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রবন্ধ লেখা হয়েছে।
এই প্রবন্ধ তাদের কাছে একটা উত্তর হবে। রবীন্দ্রনাথের উপর রামচন্দ্রের অপার প্রভাব ছিল।
রামচন্দ্রের জীবন আগে আলোচনা করা যেতে পারে, রামচন্দ্র ছিলেন যোদ্ধা, তিনি শত্রুকে দমন করতে পারতেন এবং তিনি ছিলেন বিনম্র, ক্ষমা করতে দ্বিধাবোধ করতেন না। চরম শত্রুকেও ক্ষমা করে দিতেন। কেউ যদি প্রশ্ন করে কিভাবে রামচন্দ্র কে ব্যাখ্যা করা যায় তবে "ক্ষমা" শব্দটি ব্যবহার করতেই হবে। রাম বনবাসী হয়ে কোন রাজবাড়ীতে অতিথি হননি এবং রাম রাবণ যুদ্ধের সময় তিনি কোন রাজ্য থেকে সাহায্য নেননি। তিনি ছিলেন ভ্রাতৃ বৎসল। পিতার আজ্ঞা পালন করতে তার দ্বিধাবোধ নেই। সাম্রাজ্য কোন কিছুর লোভই তাকে কর্তব্য পথে বিচলিত করতে পারেনি। তিনি প্রজা বৎসল। যারা রাম রাবণের যুদ্ধে সাহায্য করেছিল ,তাদের তার রাজ্যাভিষেকে ডেকেছিলেন। তারা ছিল পাহাড়-পর্বতের অতি সাধারণ মানুষ। রাজ্যাভিষেকে তিনি কোন রাজাকে ডাকেননি। তখন তিন-চারটে বিয়ে করার প্রচলন ছিল। শ্রীরামচন্দ্র সীতাকে বিয়ের সময় অনুজ শ্রীলক্ষণকে বলেছিলেন তিনি শুধুমাত্র একজন নারীকেই বিয়ে করবেন।



শ্রীরামের এই মহান চরিত্র শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রভাবিত করবে না, এ কেমন করে হয়।
শৈশবে তিনি কাশীরাম দাসের রামায়ণ শুনতেন বাড়ির প্রহরী থেকে। তার বর্ণনা তিনি দিয়েছেন। তারপর তার কবিতা পাঠ করে এই কথা উল্লেখ করা যায় যে তিনি শৈশবে নিজেকেই শ্রীরামচন্দ্রই ভাবতেন। "শিশু" কাব্যগ্রন্থের বনবাস কবিতায় দেখি সেই বালক মায়ের কাছে বলছে বাবা তাকে রামের মতো বনে পাঠালে ,সেই এক্ষুনি যেতে রাজি ,কেবল তার একটি লক্ষণ ভাই চাই। 

আরও বলছেন "বনবাস "কবিতায়,
আমাকে মা শিখিয়ে দিবি!
রাম যাত্রার গান ,
মাথায় বেঁধে দিবি চুড়ো ,
হাতে ধনুক বান ,
চিত্রকূটের পাহাড়ে যাই ,
এমনি বরষাতে ,
লক্ষণভাই যদি আমার থাকতো সাথে সাথে।
শ্রী রামচন্দ্রের বনবাস নিয়ে বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন "সেই একদিন কোথা থেকে যেন একটা ঝড় এসে সব নিভিয়ে দিয়েছিল। শ্রী রবীন্দ্রনাথ বনে যাওয়া নিয়ে সঙ্শয়ে ছিলেন অর্থাৎ পিতার আদেশে, না সেচ্ছা নির্বাসন। পিছিয়ে পরা মানুষের সাথে তৎকালীন সমাকালের মানুষ কে এক করার জন্য। তার এই চিত্রকূট যাওয়া বনবাসি এবং অন্য ভারতের সাথে তাদের জুড়ে দেওয়ার জন্য
শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রামের বনবাসে যাওয়ার কারন বলছেন নিম্নরূপ , গোড়ায়,"গোড়ায় ভারতবর্ষের দুই মহাকাব্যের মূল বিষয় ছিল সেই প্রাচীন সমাজ বিপ্লব ।অর্থাৎ সমাজের ভেতরকার পুরনো ও নতুনের বিরোধ। রামায়ণের কালেই রামচন্দ্র নতুন দলের পক্ষ নিয়েছিলেন তা স্পষ্ট দেখা যায়। বশিষ্ঠের সনাতন ধর্ম হয়েছিল রামের কুল ধর্ম। বশিষ্ট বঙশই ছিল তাদের বহু পুরনো পুরোহিত বঙশ। তথাপি অল্প বয়সেই রামচন্দ্র সেই বশিষ্টের বিরুদ্ধপক্ষ বিশ্বামিত্রের অনুসরণ করেছিলেন। রাম যে পন্থা নিয়েছিলেন তাতে দশরথের সম্মতি ছিল না কিন্তু বিশ্বামিত্রের প্রবল প্রভাবের  কাছে তার আপত্তি টিকতে পারেনি। পরবর্তী ইতিহাসের স্মৃতিকে কোন এক রাজবংশের পারিবারিক ঘরের কথা করে এনেছিল তখনই দুর্বল চিত্ত বৃদ্ধ রাজার অদ্ভুত স্ত্রৈণতাকেই কারণ বলে মনে করা হয়েছে।"


অন্যদিকে সীতা কে ছিলেন? কি বা তার পরিচয়?
রবীন্দ্রনাথের কথা " সীতা কোন সামান্য রাজকুমারী নন। তিনি আর্যদের  কৃষিবিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী জনক একদিকে যেমন ব্রহ্ম জ্ঞানের অনুশীলন করেছিলেন আরেকদিকে স্বহস্তে হাল চালনা করেছিলেন ,এর থেকেই জানতে পারি কৃষি বিস্তারের দ্বারা আর্য সভ্যতার বিস্তার করা ক্ষত্রিয়দের একটি ব্রতের মধ্যে ছিল। এমন অবস্থায় সেই শিবের হরধনু ভাঙবে কে ,একদিন এই এক প্রশ্ন আর্য সমাজে উঠেছিল শিবোপাসকদের প্রভাব নিরস্ত করে যিনি দক্ষিণখন্ডে আর্যদের কৃষিবিদ্যা, ও ব্রহ্মবিদ্যা বহন করে নিয়ে যেতে পারবেন তিনি যথার্থভাবে ক্ষত্রিয়ের আদর্শ জনক রাজার মানস কন্যার সঙ্গে পরিণীত হবেন । বিশ্বামিত্র রামচন্দ্রকে সেই হরধনু ভঙ্গ করার দুঃসাধ্য পরীক্ষায় নিয়ে গিয়েছিলেন ।রাম যখন বনের মধ্যে প্রবল কোন দুর্ধর্ষ  শৈববীরকে নিহত করলেন তখনই তিনি হরধণু ভঙ্গের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন এবং সেই মুহূর্তে তিনি সেটাকে অর্থাৎ হাল চালনকারি রেখাকেই বহন করে নেওয়ার অধিকারী হতে পারলেন । তখনকার অনেক বীর রাজাই সীতাকে গ্রহণ করার জন্য উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা হরধনু ভাঙতে পারেননি এজন্য রাজর্ষি জনকের কন্যাকে লাভ করবার গৌরব  হতে তারা বঞ্চিত হয়ে ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু এই দুঃসাধ্য ব্রতের অধিকারী কে হবেন ক্ষত্রিয় তপস্বীগণ সেই সন্ধান থেকে বিরত হননি। সন্ধান রামচন্দ্রের মধ্যে এসে সার্থক হলো "।


ভাষা ও ছন্দ কাব্যে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন"স্বর্গ থেকে দেবশ্রী নারদ  বাল্মিকীকে বললেন তোমার এই ছন্দ ব্রহ্মলোক থেকে ব্রহ্মা শুনেছেন তিনি আমাকে বললেন তুমি তো তমসার তীরে গিয়ে বাল্মিকীকে প্রশ্ন কর এই ছন্দ নিয়ে সে কোন দেবতার বন্দনা গান করবে। বাল্মিকী মাথা নেড়ে বললেন এই ছন্দে আমি কোন দেবতার বন্দনা গান করবো না। বাল্মিকী মাথা নেড়ে বললেন আমি কোন দেবতার বন্দনা গান রচনা করব না যা স্বর্গ থেকে এসেছে তা আমি স্বর্গে ফিরিয়ে দেব না। আমার ছন্দে আমি মানুষকে দেবতা করে তুলব।


কহ মোরে ,সর্বদর্শী হে দেবর্ষি,
তার পুণ্য নাম ।
নারদ কহিলা ধীরে, অযোধ্যার রঘুপতি রাম।
রবীন্দ্রনাথ আবার লিখছেন রামচন্দ্র ‌‌ " 

যখন বিশ্বামিত্রের সঙ্গে বাইরে বেরোলেন সেই তরুণ বয়সেই তিনি তার জীবনের তিনটি বড় বড় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। প্রথম তিনি শৈব রাক্ষসদের পরাস্ত করে হরধনু ভঙ্গ করেছিলেন ।
দ্বিতীয় যে ভূমি হালচালনার অযোগ্য রূপে ,অহল্যা রূপে পাষাণ হয়ে পড়েছিল, এবং সেই কারণে দক্ষিণা পথের প্রথম অগ্রগামীদের মধ্যে অন্য ঋষি গৌতম ,যে ভূমিকা একদা গ্রহণ করেও অবশেষে অভিশপ্ত বলে পরিত্যাগ করেন ,যা দীর্ঘকাল ব্যর্থ হয়ে পড়েছিল রামচন্দ্র সেই কঠিন পাথরকে ও সজীব করে তুলে আপন কৃষি নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছিলেন; তৃতীয় ক্ষত্রিয় দলের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণদের যে বিদ্বেষ প্রবল হয়ে উঠেছিল তা  ক্ষত্রঋষি বিশ্বামিত্রের শিষ্য আপন ভুজবলে পরাস্ত করেছিলেন।"

রামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে তিনি বলেছেন " কৃত্তিবাসীর রামভক্ত বৎসল রাম ,তিনি অধম পাপী সকলকে উদ্ধার করেন তিনি গুহক চন্ডালকে মিত্র বলে আলিঙ্গন করেন, বনের পশু বানরদের তিনি প্রেমের দ্বারা ধন্য করেন, ভক্ত হনুমানকে ভক্তিতে আদ্র করিয়া তাহার জন্ম সার্থক করেছেন ভক্ত রাবন ও শত্রু ভাবে তার কাছ থেকে বিনাশ কালে উদ্ধার হয়ে গেল"।
তিনি আরো বলেন ," ভগবান যে শাস্ত্র জ্ঞানহীন অনাচারী বানরদের ও বন্ধু কাঠবিড়ালির অতি সামান্য সেবাও যে তাহার কাছে অগ্রাহ্য হয় না ,পাপিষ্ঠ রাক্ষসকে যে তিনি যথোচিত শাস্তির দ্বারা প্রভাবিত করিয়া উদ্ধার করেন এই ভাবটি কৃত্তিবাসে প্রবল হইয়া ভারতবর্ষের রামায়ণ কথার ধারাতে গঙ্গার শাখা ভাগীরথীর ন্যায় আরেকটি বিশেষ পথে লইয়া গিয়াছে"।
" সাহিত্যের পথে"  প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন ,"রামকে পেলুম সে তো একটিমাত্র মানুষের রূপে নয় অনেক কাল থেকে অনেক মানুষের মধ্যে যে সকল বিশেষ গুণের ক্ষণে ক্ষণে কিছু কিছু স্বাদ পাওয়া গেছে কবি মনে সে সমস্ত দানা বেঁধে উঠল রামচন্দ্রের মূর্তিতে রামচন্দ্র হয়ে উঠলো আমাদের মনের মানুষ"।
১২৯২ বঙ্গাব্দে " বালক"  পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ লিখছেন বৃহৎ ভাবের নিকটে আত্মবিসর্জন করাকে যদি পাগলামি বলে তবে সেই পাগলামি এককালে প্রচুর পরিমাণে আমাদের ছিল। ইহাই প্রকৃত বীরত্ব। কর্তব্যের অনুরোধে রাম যে রাজা ছাড়িয়া বনে গেলেন তাই বীরত্ব। এবং সীতা ও লক্ষণ যে তাকে অনুসরণ করিলেন । ভরত যে রামচন্দ্র কে ফিরিইয়া আনিতে গেলেন তাও বীরত্ব । হনুমান যে প্রাণপণে রামের সেবা করিয়েছিলেন তাও বীরত্ব । হিংসা অপেক্ষা ক্ষমা যে অধিক বীরত্ব, গ্রহণ অপেক্ষা ত্যাগে অধিক বীরত্ব। এই কথাই আমাদের কাব্যে ও শাস্ত্রে বলিতেছে। পালায়োনিকে আমাদের দেশে সর্বাপেক্ষা বড়ো জ্ঞান মনে করিত না। এই জন্য বাল্মিকীর রাম রাবণকে ক্ষমা করিয়াছেন ।একবার বাণ মারিয়া, একবার ক্ষমা করিয়া 'তন্মধ্যে শেষের জয়ই শ্রেষ্ঠ।
রক্তকরবী নাটকে তিনি লিখেছেন রত্নাকর গোড়ায় দস্যু ,তারপরে ধর্ষণ বৃত্তি ছেড়ে ভক্ত হলো রামের অর্থাৎ ধর্ষণ বিদ্যার প্রভাব এড়িয়ে কর্ষন বিদ্যায় যখন দীক্ষা নিলেন তখনই সুন্দরের আশীর্বাদে তার বীনা বাজলো। এককালে যিনি দস্যু ছিলেন তিনিই যখন কবি হলেন তখনই আরণ্যকদের হাতে স্বর্ণালংকার পরাভবের বাণী তার কন্ঠে এমন জোরের সঙ্গে বেঁচে ছিল হঠাৎ মনে হতে পারে রামায়ণটা রূপক কথা ।বিশেষত যখন দেখি রাম রাবণ দুই নামের বিপরীত অর্থ রাম হলো; আরাম ,শান্তি, রাবণ হল; চিৎকার ,অশান্তি একটিতে নবঙ্করের মাধুর্য ,পল্লবের মর্মর আরেকটিতে শান বাঁধানো রাস্তার উপর দিয়ে দৈত্যরথের বীভৎস শৃঙ্গ ধ্বনি"।
ভারতবর্ষের ইতিহাসের ধারা কবি লিখেছেন এ কথা ভারতবর্ষ বলিতে পারে নাই যে তিনি চন্ডালের মিতা বানরের দেবতা বিভীষণের বন্ধু ছিলেন তিনি শত্রুকে ক্ষয় করিয়াছিলেন এ তাহার গৌরব নহে ,তিনি শত্রুকে আপনার কাছে করিয়াছিলেন তিনি আচারের নিষেধকে সামাজিক বিদ্বেষের বাধাকে অতিক্রম করিয়াছিলেন ।তিনি আর্য অনার্য জাতির মধ্যে প্রীতির সেতুবন্ধন করিয়ে দিয়েছিলেন।
শুদ্র তপস্বীকে তিনি বধদণ্ড দিয়াছিলেন এই অপরাধ রামচন্দ্রের উপরে আরোপ করিয়া পরবর্তী সমাজ রক্ষকের দল রামচরিতের দৃষ্টান্তকে স্বপক্ষে ‌‌আনিবার চেষ্টা করিয়াছে ।যে সীতাকে রামচন্দ্র সুখে দুঃখে রক্ষা করিয়াছেন প্রাণপণে শত্রু হস্ত হইতে উদ্ধার করিয়াছেন, সমাজের প্রতি কর্তব্যের অনুরোধে তাহাকে  বিনা অপরাধে পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হয়েছিলেন"।
উত্তর কাণ্ডের এই কাহিনী সৃষ্টির দ্বারা স্পষ্টই বুঝিতে পারা যায়, আর্য জাতির বীরশ্রেষ্ঠ আদর্শ চরিত্র রূপে পূজা রামচন্দ্রের জীবনীকে একদা সামাজিক আচার রক্ষার অনুকূল করিয়া বর্ণনা করিবার বিশেষ চেষ্টা জন্মিয়াছিল কিন্তু অনেক সময় সমাজ রক্ষার জন্য তো আচার রক্ষা করিতে হয়।
সমাজের জন্যই ব্যক্তিগত প্রেম ভালবাসা প্রভৃতি সাধারণ মনুষ্যত্ব সুলভ দুর্বলতা বিসর্জন দিয়েছিলেন রাম। তিনি যে সাধারণ মানব ,নন মহামানব। রামায়ণের কবি রামচন্দ্রের পিতৃ ভক্তি ,সত্য পালন সৌভাত্র ,দাম্পত্য প্রেম ,ভক্ত বাৎসল্য প্রভৃতি অনেক গুনগান করিয়া যুদ্ধ কান্ড পর্যন্ত ছয় কাণ্ড মহাকাব্য শেষ করিলেন কিন্তু তবুও নতুন করিয়া উত্তরকান্ড রচনা করিতে হইল। তার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক গুণই যথেষ্ট হইল না সর্বসাধারণের প্রতি তার কর্তব্য নিষ্ঠা তাহার চরিত্রগুণকে মুকুটিত করিয়া তুলিল"। (স্বদেশী সমাজ প্রবন্ধের পরিশিষ্ট)।
রামচন্দ্র যে বানরদিগকে বশ করিয়াছিলেন তা রাজনীতির দ্বারা নহে, ভক্তি ধর্মের দ্বারা। এইরূপে তিনি হনুমানের ভক্তি পাইয়া দেবতা হইয়া উঠিয়াছিলেন । পৃথিবীর সর্বত্রই দেখা যায় যে কোন মাহাত্মাই বাহ্য ধর্মের স্থলে ভক্তিধর্মকে জাগাইয়াছেন, তিনি স্বয়ং পূজা লাভ করিয়াছেন। রামচন্দ্র ধর্মের দ্বারাই অনার্যদিগকে জয় করিয়া তাহাদের ভক্তি অধিকার করিয়াছিলেন। তিনি বাহুবলে পরাস্ত করিয়া রাজ্য বিস্তার করেন নাই। দক্ষিনে তিনি কৃষি ভক্তিমূলক সভ্যতা ও ভক্তিমূলক একেশ্বরবাদ প্রচার করিয়াছিলেন। তিনি সেই যে বীজ রোপন করিয়া আসিয়া ছিলেন বহু শতাব্দি পরেও ভারত বর্ষ তাহার ফল লাভ করিয়াছিল। এই দাক্ষিণাত্যের ক্রমে শৈব ধর্ম ও ভক্তি ধর্মের রূপ গ্রহণ করিল এবং একদা এই দাক্ষিণাত্য হইতেই ব্রহ্মবিদ্যার এক ধারায় ভক্তি-স্রোত আরেক ধারায় অদ্বৈত জ্ঞান উচ্ছসিত হইয়া সমস্ত ভারত বর্ষকে প্লাবিত করিয়া দিল।
রামায়ণের আদি কবি গার্হস্থ্য প্রধান হিন্দু সমাজের যত কিছু ধর্ম রামকে তাহারি অবতার করিয়া দেখাইয়াছিলেন। পুত্ররূপে ভাতৃরূপে, পতি রূপে ,বন্ধু রূপে, ব্রাহ্মণ ধর্মের রক্ষা কর্তা রূপে,অবশেষে রাজা রূপে বাল্মিকী রাম আপনার লোক পুজ্যতা প্রমাণ করিয়াছিলেন। তিনি নিজে রাবণকে মারিয়াছিলেন ,সেও কেবল ধর্ম পত্নীকে উদ্ধার করিবার জন্য অবশেষে সেই পত্নীকে ত্যাগ করিয়াছিলেন লোক রঞ্জনের জন্য। নিজের সমুদয় সহজ প্রবৃত্তিকে শাস্ত্র মতে কঠিন শাসন করিয়া সমাজ রক্ষার আদর্শ দেখাইযাছিলেন ।আমাদের স্হিতি প্রধান সত্যতায় পদে পদে  যে ত্যাগ ক্ষমা ও আত্মনিগ্রহের প্রয়োজন হয় রামের চরিত্রে তাহাই ফুটিয়া উঠিয়া, রামায়ণ হিন্দু সমাজের মহাকাব্য হয়ে উঠিয়াছে"।


রবীন্দ্রনাথ বলছেন রামায়ণের সবচেয়ে বড় গুন যে, এই মহাকাব্যে ঘরের কথাকেই খুব বড় করে দেখানো হয়েছে। মহাকাব্যের বিষয়বস্তু সাধারণত রাজায় রাজায় যুদ্ধ আর সেই যুদ্ধের যে করুন পরিণতি মানুষের মৃত্যু , বিজয়ীর আনন্দ, পরাজিতের আর্তনাদ এই সবই হয়। কিন্তু রামায়ণ অন্য সব মহাকাব্যের থেকে আলাদা। কারণ তার মহিমা রাম রাবণের যুদ্ধকে নিয়ে নয়। সেই যুদ্ধ শুধু রাম ও সীতার দাম্পত্য প্রেম যে কত উজ্জ্বল তা দেখানোর উপলক্ষ। পিতার প্রতি পুত্রের বশ্যতা ,ভ্রাতার জন্য ভ্রাতার আত্মত্যাগ, পতি পত্নীর মধ্যে পরস্পরের প্রতি নিষ্ঠা ও প্রজার প্রতি রাজার কর্তব্য কতদূর পর্যন্ত যাইতে পারে রামায়ণ তাহাই দেখাইয়াছে"  ।

রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে রামমুর্ত্ত হয়েছেন মূর্তির রূপে। তিনি এক মহান পুরুষের জীবন ব্যাখ্যা করে আমাদের সামনে ঘরের মানুষ করে তুলেছেন । রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে  ভারত যেন কথা বলছে তার হাজার হাজার বৎসরের আদর্শ নিয়ে।

Ram Navami Ram Ratri Ramkatha







Lifestyle and wellness In 

India, Kolkata, West Bengal, ,Kolkata 700150.

Weathers Report: 

Temperature is normal, 29 degrees Celsius.

Sunset: 5:40 P.M

Sunrise: 6:57 A.M

Today's Temperature: Normal 

Civil Twilight start: 5.44 A.M

Civil Twilight End: 5:48 P.M

Civil Solar Noon: 11.55 A.M


Born Free And Live Free, Feel Good










মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আমর বাংলা ব্লগে সবাই কে অভিনন্দন। মন্তব্য করতে পারেন।