শ্রীরামকৃষ্ণ এবং তার ১২ অশ্ব

🔱🔰 শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের আগমন হিন্দু জাতিকে তার আত্মশুদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেবার জন্য।👤🔔

উদাসীন ও অত্যাচারে জর্জরিত হিন্দু সভ্যতাকে আত্মশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্বামী বিবেকানন্দ যখন হিমালয়ে সাধনা করতে যেতে চাইলেন,তিনি তখন ভারতের নির্যাতিত ও অত্যাচারে জর্জরিত দরিদ্র মানুষের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি বিবেকানন্দকে বললেন "নিজের মুক্তি পেতে চাচ্ছিস। চারিদিকে নির্যাতিত অধ: পতিত মানুষ।" ইঙ্গিত দিলেন তাদের জন্য কাজ করতে হবে।

ভারত বিদেশী আক্রমণে জর্জরিত। প্রায় ১৩০০ বছর ধরে ভারত এ আক্রমণ সহ্য করেছে, যার পর নাই অত্যাচারিত হয়েছে। ধর্ম ও সংস্কৃতির উপর চরম আঘাত হেনেছিল বিদেশী আক্রমণকারীরা। নারীদের  উপর অত্যাচার ছিল সীমাহীন, এক আসুরিক শক্তি ভারতবর্ষের উপর চেপে বসেছিল। হিন্দুদের ক্রীতদাস বানানো ও বিক্রি করা,ধর্মান্তরিত করা, হত্যা  এবং ধর্ষণ  এই সমস্ত আক্রমণকারীদের প্রতিদিনকার কাজ ছিল । 


শ্রী রামকৃষ্ণ নারায়ন অবতার

শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ 


মন্দিরের পর মন্দির ভেঙেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পর বিশ্ববিদ্যালয়  ধ্বংস করে দিয়েছে। বই পুঁথি জ্বালিয়ে দিয়েছে, এই ছিল চরম অত্যাচার। মুসলিম ঐতিহাসিক ফেরেশতার মতে প্রায় ৩০ কোটি লোককে হত্যা করেছিল এই আরব,পাঠান ,তুর্কি এবং পার্সীরা

ব্রিটিশদের মূল চক্রান্ত ছিল ভারতবর্ষকে শুধু করায়ত্ব করা নয় ধর্মান্তরিত করা ও বটে। খ্রিস্টান মিশনারি ও লর্ড মেকলের সাংগপাঙ্গরা হিন্দু ধর্মের নানা অপব্যাখ্যা করতে থাকে। তারা কৌশলে হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করতে থাকে। দিদ্বা   বিভক্ত হিন্দু সমাজ নিজের ধর্মকেই ছোট চোখে দেখতে শুরু করে। তারা মনে করতে থাকে হিন্দু ধর্ম একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন  ধর্ম। বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্ক নেই বলে প্রচার চালায়। মুর্তি পূজা নিয়ে হিন্দুদের মধ্যে হীনমন্যতা দেখা দেয়। হিন্দুরা ভুলে যায় "বহুধা বদন্তি বিপ্রা:" ।

 হিন্দুরা ভুলে গিয়েছিল ঈশ্বরীয় জ্ঞানী ব্যক্তিরা ঈশ্বরকে বহুরূপে দেখেন। রামমোহন রায় খৃষ্টান ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হিন্দু ধর্মকে খৃষ্টানী রূপ দিলেন। অনেকে অনুসরণ করলো। কিন্তু টিকলো না।১৮৩৬ খৃষ্টাব্দে এই অধ:পতিত জাতিকে টেনে তুলতে আবির্ভূত হলেন  শ্রীরামকৃষ্ণ। তিনি দিক দিশা দিলেন। তৎ সময়ে বাঙলার সব পন্ডিত ব্যাক্তি তার চরণতলে পতিত হলেন। হিন্দু ধর্মের সহজ সরল ব্যাখ্যা করলেন।এই অবতার পুরুষ বললেন  "ঈশ্বর  একেতে ও আছেন আবার দুইতে ও আছেন" । এই কথাটি বিদ্যুৎ প্রবাহের মতো কাজ করলো। হিন্দু সমাজ সম্বিত ফিরে পেল।বিশ্ব আলোড়িত হলো। পাশ্চাত্যের পণ্ডিতরা তার জীবনী লিখলেন।কেউ বললেন প্রফেট অফ দ্যা প্রফেট।

তিনি সবার অগোচরে বারোজন শিষ্যকে আগামী দিনের ভারত তৈরি করার জন্য নির্মাণ করেছিলেন এবং বিশ্বকে হিন্দু ধর্মের বার্তা দিতে তৈরি করলেন। এই বারোজন জনই তার অশ্ব।

) স্বামী বিবেকানন্দ: (১৮৬৩-১৯০২)

স্বামী বিবেকানন্দ  স্বাধীনতার প্রেরণা পুরুষ

স্বামীজি 







শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের অন্যতম প্রিয় শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। তেজদীপ্ত মহাপুরুষ। যা সামনে পড়ে তার তুফানের মত উড়ে যায়। তার সম্পর্কে প্রফেসর রাইট বলেছিলেন  তিনি এমনই জ্ঞানী ব্যক্তি সারা পৃথিবী একদিকে আর তিনি একদিকে। বইয়ের ভেতর কোথায় কি আছে তা কয়েক সেকেন্ড বই উল্টে দিয়ে বলতে পারতেন। এই পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এক জার্মান দার্শনিকের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী এই মহামানব ঘুমন্ত এক জাতিকে বেত্রাঘাতে জাগরিত করেছেন। হিন্দু সমাজের অনন্ত জিজ্ঞাসা জমা হয়েছিল একে একে তার উত্তর দিয়েছেন। আর বলেছেন আমরাই  শ্রেষ্ঠ অর্থাৎ হিন্দুরাই শ্রেষ্ঠ। তিনি বললেন উঠো জাগো।

আমেরিকা ইউরোপ স্বামী বিবেকানন্দের ভ্রমণের  পূর্বে হিন্দুধর্মকে কুসংস্কার মন্ডিত বলে ভাবতো।ভারতবর্ষকে যাদু টোনার দেশ বলে মনে করতো ঐ সমস্ত দেশের সাধারণ মানুষেরা। কপর্দকহীন অবস্থায় পৌঁছলেন আমেরিকায় ।শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের মানসপুত্র ঈশ্বরীয় আশীর্বাদ নিয়ে  পৃথিবী জয় করলেন।  মন্ত্রমুগ্ধের মতো মানুষ পৃথিবী শুনলো তার কথা। ঘুমন্ত এক জাতি ঘুম ভেঙ্গে যেন উঠে বসলো। বেদান্ত দর্শন এবং বেদ আধুনিক মানুষের সামনে এক মহান বার্তা নিয়ে এলো ,তিনি হলেন মাধ্যম। ভারতবর্ষ যে তার সাধনার মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার কথা বলে গেছে এবং সারা পৃথিবীকে আপন করার জন্যই ভারতবর্ষের তপস্যা সে কথাও পৃথিবীকে বললেন ।তিনি আমাদের সংবাদ দিলেন ভারত ধর্মের শক্তিতে উঠে দাঁড়াবে। তিনি চরিত্র নির্মাণের কথা বললেন। যে জাতির চরিত্রের পতন ঘটে সেই জাতি আর ঘুড়ে দাঁড়াতে পারে না। তিনি হয়ে উঠলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণা। তার প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ দিলেন স্বাধীনতা সঙ্গ্রামীরা।

২) স্বামী অখন্ডানন্দ:(১৮৬৪-১৯৩৭)

স্বামী অখন্ডানন্দ ভারত পথিক

ভারত পথিক 



কলকাতার  মানিকতলা ঘাট স্ট্রিটে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিরিশে সেপ্টেম্বর মহালয়া তিথিতে শিশুটির জন্ম হয়।নামকরণ হলো গঙ্গাধর ।ছোট থেকেই নিষ্ঠাবান সাধক বাগবাজারের দীননাথ বসুর বাড়িতে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস এসেছেন খবর পেয়ে ছুটে এলো দেখা করতে , সন্ধান পেলেন এক দিব্য রাজ্যের। সন্ন্যাস নেওয়ার পর গঙ্গা তীর ধরে মুর্শিদাবাদের সারগাছি পৌঁছালেন ।সন্ধ্যেবেলা একটি ছোট্ট মেয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে  কাঁদছে দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন ,"কেন কাঁদছো মা?" 

ছোট্ট মেয়েটি উত্তর দেয়," আমরা বড় গরীব একটি মাটির কলসি আছে তাও জল ভরতে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে ।এখন জল নেব কেমন করে ।" স্বামীজি দিলেন একটি কলসি কিনে। আর জল খাবারের জন্য কিছু পয়সা।তারপর তাকে দেখে সমগোত্রীয় কিছু বালক বালিকা এসে দাঁড়ালো। তিনি সব কিছু উজাড় করে তাদেরকে দিয়ে দিলেন। একে তো সন্ন্যাসী আবার সর্বস্ব ত্যাগী। ক্রমে ক্রমে সারগাছিতে একটি আশ্রয় গড়ে তুললেন। গরিব দু:খীদের দেবতা জ্ঞানে সেবা করতে লাগলেন এবং স্বামী বিবেকানন্দের বাণীকে কর্মের দ্বারা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগলেন।

শুধু সন্ন্যাসী জীবনযাপন কাটানো তার লক্ষ্য ছিল না। শিব জ্ঞানে জীব সেবা তার লক্ষ্য ছিল। এই ছিল দেশের সেবার ই অঙ্গ। নিজে চরকায় সুতো কেটে কাপড় পড়তেন। তখন ভারতে কাপড় উৎপাদিত কম হতো। স্বদেশী জাগরণের প্রেরণায় তিনি এসব করতেন। বাল গঙ্গাধর তিলক চিত্তরঞ্জন দাস প্রভৃতি দেশ বরেণ্য দের ও অতি শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। 

সারগাছি আশ্রমে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে ১৩ই জানুয়ারি মকর সংক্রান্তির দিন সংঘের দ্বিতীয় স্বর-সঙ্গ চালক পরম পূজনীয় মাধব সদাশিব গোলওয়ালকার তার কাছে দীক্ষা গ্রহন করেন। মাধব সদাশিব   গোলওয়ালকার এই আশ্রমে দুই বছর থেকে গুরু সেবা করেন। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে ৭ই ফেব্রুয়ারি কি হল ত্যাগ করে শ্রী শ্রী ঠাকুরের শ্রীচরণে সমাহিত হন। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের তৃতীয় সভাপতির দায়িত্বভার পালন করেছেন। 

৩) স্বামী বিজ্ঞানানন্দ:( ১৮৬৮-১৯৩৮)

স্বামী বিজ্ঞানানন্দ ভারত সন্তান

আলোর পথে 



হরিপ্রসন্নের জন্ম হয় ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে ২৮ শে অক্টোবর ২৪ পরগনা জেলার বেলঘড়িয়ায় পিতা শ্রীযুক্ত তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়। পিতা মাতার আদরের পুত্র হরিপ্রসন্ন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ হওয়ার পর বিহারের বাকি পড়ে গিয়ে পাটনা কলেজ থেকে স্নাতক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার জন্য তিনি পুনে যান। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক কষ্টের জন্য শেষ পরীক্ষায় বসতে পারেননি। বড় দিদির আর্থিক সাহায্যে পরবর্তী বছর পরীক্ষায় পাশ করে এবং একটি সরকারি কাজে যোগ দিতে গাজীপুরে আসেন। পরে উত্তরপ্রদেশের এটাওয়া ,মিরাট , বুলন্দশহর প্রভৃতিস্থানে কাজ করেন ।সংস্কৃত বিষয় ছাড়াও ধর্ম, দর্শন ,জ্যোতির্বিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে তার পাণ্ডিত্য সর্বমান্য ছিল। ঠাকুর রামকৃষ্ণের কথা শুনেছিলেন একদিন দেওয়ান গোবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে শ্রীরামকৃষ্ণ কে দেখেন মহারাজ এবং বড়দা পালের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর মন্দির ঠাকুরের প্রথম দর্শনেই এবং অন্তরঙ্গতা এই বালকের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে গেল। শ্রী শ্রী ঠাকুরকেই প্রাণের দেবতা বলে মেনে নেয়। একদিন চাকরি ছেড়ে আরাম বাজারের মাঠে যোগ দেয়। কঠোর সাত্ত্বিক জীবনযাপন করতেন। অধিকাংশ সময় জব ধ্যান নিয়ে থাকতেন ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে স্বামী বিবেকানন্দ দেশে ফিরে আসার পর স্বামীজীর আগ্রহে সন্ন্যাস গ্রহণ করে স্বামী বিজ্ঞানানন্দ নাম ধারণ করেন।

১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ ই জুলাই ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শে স্বামীবিজ্ঞানানন্দ বেলুড়ে শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বেলুড় মঠ নির্মাণের সম্পূর্ণ রূপকার ছিলেন স্বামী বিজ্ঞানানন্দ। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২৫ এপ্রিল মহাসমাধি প্রাপ্ত হন। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের চতুর্থ অধ্যক্ষ হয়েছিলেন।

৪) স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ:( ১৮৬৩-১৯১১)

স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ আলোর যাত্রী

আলোর যাত্রী 



হুগলি জেলার ময়াল ইছাপুর গ্রামের ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে ১৩ই জুলাই আষাঢ়ের কৃষ্ণ ত্রিদেশীয় স্মৃতি থেকে জন্ম হয়। পিতা ঈশ্বরচন্দ্র চক্রবর্তী গৃহ আলো করে এলো এক নতুন শিশু নাম হল শেষ শশী। কলকাতায় এসে পড়াশোনা শেষে চাকরির শুরু করলো শশী। ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্বন্ধে ছিলেন অজ্ঞ শরতের এক শুভ লগ্নে শ্রী শ্রী ঠাকুরের প্রথম দর্শনে মিলেছে তার চির পাওয়ার ধন। গুরু সেবা গুরু নিষ্ঠাতেই সে করেছিল সিদ্ধিলাভ। শশির সেবা ভাব ছিল অতুলনীয়। আটপুরে হোমাগ্নিতে আত্মাহুতি দেওয়ার পর ইচ্ছা নাম হলো স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ। শশী মহারাজ মাদ্রাজ, ত্রিবাঙ্কুর ,মহিশূর, ব্রহ্মদেশ রামকৃষ্ণ মঠ তৈরি করেছেন 1911 খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে তার আত্মাকে প্রভু রামকৃষ্ণ নীরবে শ্রীচরণে মিলিয়ে নিলেন।

৫) স্বামী-অভেদানন্দ:(১৮৬৬-১৯৩৯)

স্বামী অভেদানন্দ    বেদে  বিজ্ঞান

স্বামী অভেদানন্দ 




শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের কথা শুনে আনমনা বালক ছুটেছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে প্রবেশ করে পূজা রেখে জিজ্ঞাসা করে এখানে পরমহংস মহাশয় থাকেন কোথায়? 

উত্তরে পুরোহিত বলল ,"হ্যাঁ থাকেন ।কিন্তু এখন তিনি কলকাতায় গেছেন। হতাশ হয়ে বালক সেখানেই বসে পড়ল। সন্ধ্যা হল মন্দিরের আরতির পরে পরে গাড়ি থেকে নামলেন শ্রী ঠাকুর। কালি কালি বলে ঘরে ঢুকলেন। ঠাকুরের কথায় বালক দক্ষিণেশ্বরে রাত্রি বাস করে পরের দিন ঠাকুরের আশীর্বাদ নিয়ে বাড়ি ফিরলো ।এই বাড়িতে এই বালক কালিপ্রসাদের জন্ম হয় ।পিতা ছিলেন শ্রী যুক্ত রসিক লালচন্দ্র মাতা শ্রীমতি নয়নতারা দেবী। কলকাতায় ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ২রা অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। ভালো নাম  কালিপ্রসাদ থেকে কালি তপস্বী । সন্ন্যাসী জীবনে নাম হয় স্বামী অভেদানন্দ দেশ থেকে দেশান্তরে ভারতের গৌরবময়  ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রচার করলেন 25 বছর ধরে। আমেরিকায় বেদান্ত সোসাইটি নামে একটি সোসাইটি করেন। বেদান্ত এবং বিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্কের কথা তিনি আমেরিকার বিদ্বৎ জনের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেন।

৬) স্বামী নিরঞ্জনানন্দ(১৮৬২-১৯০৪)

স্বামী নিরঞ্জনান্দ শ্রী রামকৃষ্ণের শিষ্য

তপস্বীর 



24 পরগনার বিষ্ণুপুর গ্রামের এক বালক কলকাতার মামার বাড়িতে পড়াশোনা করার জন্য আসে। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে শ্রাবণ পূর্ণিমার দিনেতে জন্ম দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে শ্রী শ্রী শ্রী ঠাকুরের কাছে প্রণাম করতেই চির পরিচিতের মত ঠাকুর বলেন রাতদিন ভূত ভূত করলে ,তুমি ভূত বিশেষ হয়ে যাবে ,আর যদি ঈশ্বর চিন্তা করো তাহলে হবে দেবতুল্য বালক নিত্য নিরঞ্জন ঠিক করে তাকে দেবতুল্য হতে হবে। কিন্তু মামা বাড়ির করা শাসন থাকা সত্ত্বেও শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ কি সাক্ষাৎ ভগবান গরম দেবতা বলে স্বীকার করলো। আট পুড়ে গিয়ে সন্ন্যাস হলো নিত্য নিরঞ্জন এর নাম হলো স্বামী নিরঞ্জনানন্দ , নাম হল স্বামী নিরঞ্জনানন্দ। শ্রী গুরু সেবা এবং গুরু মার প্রতি ভক্তি ছিল অপরিসীম গুরু ভাইদের প্রতিও ছিল অগাধ ভক্তি। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ৯ই মে দিবস স্মৃতি রেখে গেলেন অমৃত লোকে। 

৭) স্বামী ব্রহ্মানন্দ(১৮৬৩-১৯২২)

স্বামী ব্রম্মানন্দ মঠ ও মিশনের প্রথম সভাপতি

প্রথম সভাপতি 



বিশ্ব বিখ্যাত রামকৃষ্ণ সংঘের নেতা স্বামী ব্রহ্মানন্দ সকলের ঘনিষ্ঠ রাখাল মহারাজ। জন্ম ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে একুশে জানুয়ারি ২৪ পরগনার বসিরহাটের কাছে শিকরা কুলীন গ্রামের রাজবাড়ী তে । ছোট্ট বালক আসে  কলকাতায় মামার বাড়িতে পড়াশোনা করতে। কলকাতা  ট্রেনিং একাডেমিতে সহপাঠী নরেনের সঙ্গে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা। কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন সারারাত্রি জেগে ব্রহ্মের ধ্যান একসময় কোন্ননগরের ডাক্তার ভুবনমোহন মিত্র মহাশয়ের কন্যার সঙ্গে বিয়ে হল রাখালের। নতুন জামাইকে প্রণাম করতে মিত্র মহাশয়ের বাড়ির সবাই হাজির দক্ষিণেশ্বরে। রাখাল কে দেখা মাত্র ঠাকুর রামকৃষ্ণ বললেন ,"এই যে ব্রজের রাখাল !প্রণাম করার পর- বললেন ," আবার আসিস "।ঠাকুরের এই কথাতেই আকর্ষিত হয়ে ঘর-দৌড় ছেড়ে একসময় চলে আসে দক্ষিণেশ্বরে কিন্তু ঠাকুরের কথার মাঝে মধ্যে শ্বশুরবাড়ি আসে। এমন সময় ঠাকুর দেখা দিলেন ।সেই ছোট এলো দক্ষিণেশ্বরে কোমল কঠোর ভাবে তৈরি  করেন তার মানসপুত্রকে । শ্রীশ্রী ঠাকুরের মূর্তি ও অস্থি নিয়ে প্রতিষ্ঠা হয় বরানগরের এক ভাঙ্গা বাড়িতে " মঠ" । স্বামী বিবেকানন্দ যখন দেশে প্রত্যাবর্তন করেন সেই সময় স্বামীজীর গলায় মালা পরিয়ে বললেন মহারাজ প্রণাম! স্বামীজী বুকে জড়িয়ে বললেন,  প্রণাম কেন করো ভাই ? জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সম পিতা কিনা তাই স্বামীজীর প্রত্যুত্তরে প্রণাম করে এসে বলেন " গুরুবৎ গুরুপুত্রেষু" এভাবেই কিশোরের বন্ধু সহপাঠী এই দুই সন্ন্যাসীর কৃষ্ণ সুদামা মিলন হয়। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ১০ই এপ্রিল ঠাকুরের মৌণ ইশারায় ফিরে গেলেন এই ধরাধাম ছেড়ে।বেলুড় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রথম সভাপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন। 

 ৮) স্বামী প্রেমানন্দ:(১৮৬১ -১৯১৮)

স্বামী প্রেমানন্দ শুনিয়েছেন অমৃতকথা

অমৃতকথা 



১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ ১০ই ডিসেম্বর হুগলি জেলার আটপুর  গ্রামের বাসিন্দা পিতা শ্রীযুক্ত তারাপদ ঘোষ। ছোট্ট বাবুরাম আঁটপুর থেকে এলো মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন এর ছাত্র হয়ে পড়াশোনা করতে। শ্রী ঠাকুরের কথামৃত লিখে জগৎবরণ্যে  হয়েছেন ।মাস্টার মহাশয় শ্রীযুক্ত মহেন্দ্রনাথ গুপ্তকে সবচেয়ে ভালো লাগে। এই মাস্টার মহাশয়ের হাত ধরি দক্ষিণেশ্বরে শ্রী শ্রী ঠাকুরের কাছে হাজির। পড়াশোনাটা শেষ হলো না কিন্তু দক্ষিণেশ্বরে  মাঝেমধ্যেই যাওয়া-আসা ছিল ।একদিন মাতা মাতঙ্গিনী দেবীকে নিয়ে এলো দক্ষিণেশ্বরে। শ্রী শ্রী ঠাকুরের দিব্য পরশে বাবুরামের দিন কাটে মহানন্দে। ধর্মপানা মায়ের নির্দেশে একদিন সকল সহযোগী তরুণদের নিয়ে সে চলে এলো আটপুরে  নিজেদের বাড়িতে ।প্রচলিত অগ্নিশিখা শপথ হল সন্ন্যাস ধর্মে সকলের নতুন নামকরণ বাবুরাম হলেন স্বামী প্রেমানন্দ। জগতে বড় হতে হলে প্রত্যেক কাজে সময়ও নিয়ম ঠিক রাখা উচিত তাই নিত্য প্রতিদিন সৎসঙ্গ ,জপ, ধ্যান পূজা কথামৃত পাঠ তাছাড়া স  জীব জ্ঞানে সেবা করতে লাগলেন। গ্রামে গ্রামে শ্রী শ্রী ঠাকুরের কথা ভক্তদের মনে গেঁথে দেওয়া নিয়ম করে চলতে লাগলো। ম্যালেরিয়া মহামারীতে গ্রামে গ্রামে পুকুর নর্দমা পরিষ্কার ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে শরীর দুর্বল হলো, কালা জ্বর এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা একের পর এক আঘাত করতে থাকে। 1918 খ্রিস্টাব্দে ত্রিশে জুলাই শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণে মিলিয়ে গেল তার মন ও আত্মা। 

) স্বামী স্বামী শিবানন্দ: (১৮৫৪-১৯৩৪)

স্বামী শিবানন্দ এক মহাজীবন

স্বামী 









তারকদা। শুধুমাত্র সাধারণ সন্ন্যাসী ছিলেন না।তিনি যে মহাপুরুষ সত্যি সত্যিই সকলের কাছে পরিচিত মহাপুরুষ মহারাজ। রামকানাই ঘোষালের ছেলে তারকনাথ ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ১৬ই নভেম্বর বারাসাতে জন্ম গ্রহণ করেন। মাতা, বামা সুন্দরী দিদি এবং তারকনাথ বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছে, দক্ষিণেশ্বরের ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের কথা। দক্ষিণেশ্বরের আগে একদিন পরিচয় হয় প্রাণের দেবতার সঙ্গে। আলাপ পরিচয় তারপর প্রায়ই আসেন ঠাকুরের টানে। ঠাকুরকে ঘিরে তারকনাথের হৃদয় যমুনা আনন্দে ছল ছল করে দিনরাত। পঞ্চবটিতে  ধ্যানস্হ হয়ে  ঈশ্বর লাভ করে প্রভু রামকৃষ্ণের জয় ধ্বনি, প্রচারকার্যে মাদ্রাজ- সিংহল যাত্রা। বেদান্ত প্রচার গীতা  প্রভৃতি নিয়ে চলেন। এগিয়ে চলেন হিমালয়, আলমোড়া ,কাশি, নাগপুর, উট কামান্ডের   পাহাড়ে, ঢাকা ,ময়মনসিংহ এবং দেওঘরে যেখানেই যান সেখান থেকে আসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ভক্তির অর্ঘ্য। জীবনটাই যে উৎসর্গ হয়েছে শ্রীশ্রী ঠাকুরের কাজে আপনাকে তিল তিল করে বিলিয়ে দিয়েছেন সকলের তরে। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ২০শে ফেব্রুয়ারি তার অমৃতময় স্মৃতিটুকু রেখে গেলেন। রামকৃষ্ণ মঠ মিশনের দ্বিতীয় সভাপতি হয়েছিল।

১০) স্বামী ত্রিগুনাতিতানন্দ: (১৮৬৫-১৯১৫)

স্বামী ত্রিগুনাতিতানন্দ মরণে করে গেলে দান

বিষ করিলে পান



২৪ পরগনা জেলার পাইকহাটির জমিদার বাড়ি। এই মাতুলালয়ে ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ৩০ শে জানুয়ারি জন্ম হয় সারদা প্রসন্নের ।শিশুর জন্ম লগ্ন খুব ভালো গণৎকারেরা বললেন ,"শিশু নিশ্চয়ই মহাপুরুষ হবে"। মাত্র 14 বছর বয়সে 108 টি দেবতার প্রণাম মন্ত্র এবং স্তোত্র মুখস্হ ,সুমিষ্ট কণ্ঠে গীতা ও চন্ডী পাঠ করে। পিতা শ্রীযুক্ত শ্রীকৃষ্ণ মিত্র কলকাতায় এনে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন ভর্তি করালেন ।স্বভাব মিষ্টি বলে রামকৃষ্ণ ভক্ত মাস্টার মহাশয় সেই মহেন্দ্র গুপ্তের প্রিয় হলেন। তিনি নিয়ে যেতেন দক্ষিণেশ্বরে শ্রী শ্রী ঠাকুরের কাছে ছেলের ধর্ম সাধনা দিন দিন বাড়তে দেখে পিতা শ্রীকৃষ্ণ লুকিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করলেন ।তুমি সারদা প্রসন্ন স্তম্ভিত ।ঠাকুর রামকৃষ্ণ তখন কাশীপুরে থাকতেন ঠাকুরকে দেখা করে পুরীর উদ্দেশ্যে রওনা হল। মা-বাবা খবর পেয়ে পুরি থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন ।এফ এ পরীক্ষায় ভালোভাবেই পাস করল তারপর বরানগর মাঠে থাকতে শুরু করল। পরে সন্ন্যাস নাম হল স্বামী স্ত্রী তার একান্ত প্রচেষ্টায় বাংলা সন  ১৩০৫ সনের  পহেলা মাঘ প্রথম পত্রিকা প্রকাশ হলো। পত্রিকাটির নাম উদ্বোধন। ধীরে ধীরে পত্রিকাটিকে সু প্রতিষ্ঠিত করলেন। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে বিদেশে সানফ্রান্সিসকোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে নিয়মিত গীতা ,উপনিষদ ব্যাখ্যা বিভিন্ন বিষয়ে বক্তৃতা দিতেন ভক্ত জড় হত ।সেখানে কয়েক বছর পর একদিন হাজার হাজার লোকের মধ্যে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করছেন এমন সময় একটি বোমা ফাটলো আঘাত পেলেন স্বামী ত্রিগুনাতিতানন্দ। ১৪ দিন হাসপাতালে ভর্তি যন্ত্রণায় কাতর কিন্তু নেই কোন বহিঃপ্রকাশ ।মিশনারিরা এই আঘাত করেছিল। এক ভক্তকে বললেন দেখো কাল স্বামীজীর জন্মদিন আমি কালই চলে যাব কেউ বিশ্বাস করে না তাঁর কথা কিন্তু তিনি তো সত্য স্বরূপ মহাপুরুষ ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ই জানুয়ারি আপনার অক্ষয় কীর্তি রেখে চলে গেলেন অমর রাজ্যে ।স্বামী ত্রিগুনাতিতানন্দ নন্দ বলতেন তপস্বীর মতো থাক অশ্বের মত খাট ,যা কর্তব্য তা এখনই কর।

১১) স্বামী সারদানন্দ (১৮৬২-১৯২৭)
স্বামী সারদা নন্দ মেধাবী ছাত্র

মেধাবী ছাত্র 





মেধাবী ছাত্র শরৎচন্দ্র একদিন নামকরা ছেলে হবে এবং জগৎ জুড়ে তার নাম হবে,ছোট থেকেই বোঝা গিয়েছিল। ছোট থেকেই জামা কাপড় এটা সেটা যেটাই নিজের বলে মনে করতো, সেগুলো গরিবদের অকাতরে বিলিয়ে দিত ।কারো কষ্ট দেখলে খুবই কষ্ট পেতো। বারো বছর বয়সে  পৈতে ধারণ হলো। ১৭ বছর বয়সে কলকাতায় থেকে পাশ করলো প্রবেশিকা পরীক্ষা। একদিন বন্ধু কালী কৃষ্ণের  সঙ্গে দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে শ্রীশ্রী ঠাকুরের আলো করা মুখে মৃদু হাসি, চোখে করোনা ধারা দেখেই আকর্ষিত হল। ঠাকুরকে প্রণাম করলো নির্মিত যথাযথ দক্ষিণেশ্বরে শ্রীশ্রী ঠাকুরের সঙ্গে পরিচয় করতে বললেন । ডাক্তারি পড়ার জন্য ভর্তি হলো ,পড়া হলো না ঠাকুরের টানে ।শরতের মন স্থির করার জন্য কখনো পঞ্চবটিতে ,কখনো কালীগৃহে মনের অহংকার ঘোচানোর জন্য ভিক্ষা করতে পাঠাতেন শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ। শিক্ষায়ও ঠাকুরের পরশে এগিয়ে চলে তার সাধনা ।পিতা ,শরতের হাত ধরে বললেন ,"শরৎ তুমি ছাড়া আমাদের ভরসা করার কেউ নেই কিন্তু তোমায় ধরে রাখতে পারলাম না , আশীর্বাদ করি তোমার ইষ্ট দর্শন হোক যে পথ তুমি নিয়েছো  ,সে পথ দৃঢ়ভাবে ধরে রেখো"। আটপুরে ,পিতা শ্রীযুক্ত গিরিশচন্দ্র এবং চক্রবর্তী সারদা দেবীর মাধ্যমে ধর্ম শিক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করলেন। কলকাতা বিবেকানন্দ সোসাইটিতে সব মায়েরা শ্রী মায়ের কাছে ধর্ম শিক্ষা নিয়ে শান্তি পেতো। স্বামী বিবেকানন্দের সহযোগী হয়ে সুদূর পাশ্চাত্য দিকে দিকে  হিন্দু ধর্মের প্রচার করেছেন। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ২৩ শে ডিসেম্বর ঝলমলে শুক্লা ষষ্ঠীর আলোতে এই ধরাধামে এসেছিলেন। এমনি ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে ১৯শে আগস্ট আধার কৃষ্ণা ষষ্ঠী তিথিতে এই জগত খালি করে দেবদূত নিয়ে গেলেন তার হৃদয় রাজ্যে।

১২)স্বামী তুরিয়ানন্দ(১৮৬৩-১৯২১)

স্বামী তুরিয়ানন্দ গেয়েছেন জীবনের জয়গান

ভারত পথিক 



হরিলুটের সময় জন্ম হয় বলে নবজাতকের নাম রাখা হয় হরিনাথ। বাগবাজার বসুপাড়া পল্লী ।বাড়ির কনিষ্ঠ সন্তান বলে সকলের প্রিয় ও আদরের হরিনাথের ।হরিণাথের জন্ম হয় ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারী মাসে। হরিনাথকে তার পিতা শ্রীযুক্ত চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং মাতা শ্রীযুক্তা প্রসন্নময়ী দেবী সমানভাবে ভালোবাসেন ।কিন্তু মাত্র তিন বছর বয়সেই বিপত্তি হল ।মাতৃহারা হলো  হরিনাথ

 বৌদির কাছে বড় হতে শুরু করলো। বাংলায় স্কুলে পড়াশোনা ,শরীরচর্চা, এবং সংস্কৃত শাস্ত্র আলোচনা । 12 বছর বয়সে হরিনাথের বাবা বিদায় নিল ইহজগৎ থেকে আবার দুঃখ এই ভাবে দিন এগিয়ে যায় সময় অপেক্ষা করে না ।কলকাতায় একটি বাড়িতে  শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এসেছেন শুনে সেখিনে গেল।ঠাকুর তাকে ডেকে বললেন বেদান্ত বিচারে ,"ব্রহ্ম সত্য জগত মিথ্যা "।অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ঠাকুরের দিকে। ভগবান ভক্ত ভাষণ চোখের জলে  ভাসিয়ে নিয়ে যায় ভাব সাগরে।ধীরে ধীরে শ্রী শ্রী ঠাকুরের কাছে ধর্ম শিক্ষা নেন।

 একদিন ঘর  ছেড়ে বরানগরের মঠে যোগ দিল সন্ন্যাস ধর্মে ।স্বামী তুরীয়ানন্দ বিভিন্ন তীর্থস্থানে সাধনা করলেন ধর্ম প্রচারের জন্য সমুদ্র পাড়ি দিয়ে কেমব্রিজ নিউ ইয়র্ক সন ফ্রান্সিসকো প্রভৃতি স্থানের বক্তৃতা করে যশ গৌরব প্রাপ্ত হলেন।  ইংরেজিতে লেখাপড়া না করলেও ওখানে  গিয়ে বেদান্ত এবং গীতার মতো কঠিন বিষয় তিনি সাবলীল ভাবে ইংরেজিতে বলতে পারতেন। ঐ সব জায়গায় গিয়ে নিয়মিতভাবে হিতউপদেশের গল্প এবং ধর্ম নিয়ে বলতে থাকেন।  তাকে 1922 খ্রিস্টাব্দ একুশে জুলাই শ্রী রামকৃষ্ণ চরম লোকে লিলেন ঠাই  হলো চির আশ্রয়ে।

Meditation or ধ্যানের ধারণা কি?

 Wishlink. Com







Lifestyle and wellness In 

India, Kolkata, West Bengal, ,Kolkata 700150.
Weathers Report: 
Temperature is normal, 29 degrees Celsius.
Sunset: 5:40 P.M
Sunrise: 6:57 A.M
Today's Temperature: Normal 
Civil Twilight start: 5.44 A.M
Civil Twilight End: 5:48 P.M
Civil Solar Noon: 11.55 A.M
Born Free And Live Free, Feel Good






মন্তব্যসমূহ