History আদি শঙ্করাচার্য আবির্ভাব

 🔱 ভারতের ইতিহাস এবং ইতিহাস: Indian history:ভারতে প্রথম সফল আরব আক্রমণ:

Maha Jogi Shankaracharya spiritual growth

Shankaracharya 


আদি শংকরাচার্যের আবির্ভাব হয়েছিল যখন ইসলাম আরবের মাধ্যমে ভারতবর্ষে পদচিহ্ন রেখেছিল। আরবরা ভারত বর্ষ আক্রমণ চালিয়েছে যখন উমাইয়াদের রাজত্ব আরবে ছিল। এর পূর্বে  আরবরা আজকের মুম্বাইয়ের সমুদ্র উপকূলে বাইশ বার আক্রমণ চালিয়েছিল তৎকালীন হিন্দু সভ্যতাকে মোকাবেলা করে তাদের পরাজিত করেছিল। এই আরব ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদ যেখানেই গেছে সেখানে সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটিয়েছে এবং ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টি করেছে।

৭১২ খ্রিস্টাব্দে আরবরা মোহাম্মদ বিন কাসিম এর নেতৃত্বে ভারত বর্ষ আক্রমণ করে। তখন সিন্ধু প্রদেশে সম্রাট দাহির রাজত্ব করতেন। ভারতবর্ষে বিভিন্ন ছোট ছোট রাজারা রাজত্ব করতেন এবং তাদের মধ্যে কোন ঐক্য বোধও ছিল না। বিদেশি শক্তিশালী আক্রমণ কারিকে সাহায্য করার জন্য লোক ছিল। সম্রাট দাহির যখন বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন তখন বৌদ্ধরা বিদেশী শত্রুকে সাহায্য করে। সেই সময় দেখা যায় ভারতীয় নৌবাহিনী শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু অন্যদিকে আরবরা লুন্ঠনের জন্য, বিভিন্ন দেশ আক্রমণ করা,  নারী এবং পুরুষের ক্রীতদাসের ব্যবসা চালানোর জন্য তারা শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তুলেছিল। ডক্টর এ .পি .জি আব্দুল কালামের ভাষায় বলা যায় এরা ভারতীয় সভ্যতার তুলনায় কম সভ্য ছিল। এদের নারীর প্রতি কোন মর্যাদা ছিল না, এই প্রথম আক্রমণেই‌ তারা নারীর উপর চরম অত্যাচার করে এবং তাদেরকে  যৌনদাসী হিসেবে নানা জায়গায় বিক্রি করে। আরবরা ইসলামের অনুসারী ছিল এবং যুদ্ধে পরাজিত নারীকে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করতো। ইসলামের ভাষায় নারী ও পুরুষ উভয়ে ছিল গনিমতের মাল বা যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ । শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা করতো। নিরস্ত্র কে হত্যা করে। একমাত্র যারা ধর্মান্তরিত হতো তারাই বেঁচে যেতো

 পারমাণবিক বোমার আবিষ্কার কর্তা বিজ্ঞানী ওপেন হেইমারের মতে ভারতীয় যুদ্ধনীতি ছিল শ্রেষ্ঠ নীতি। ভারতের যুদ্ধ নীতিতে নিরস্ত্র ,শিশু, বৃদ্ধদের এবং নারীদের আক্রমণ করা হতো না এবং তাদের হত্যা করলে সে ছিল অপরাধ। এবং  আক্রমণের পূর্বে শত্রুকে সাবধান করে দেওয়ার রীতি ছিল।বিজ্ঞানী বলেছেন তৎকালে ভারতীয়রা যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতো না তারা যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে বসে যুদ্ধ দেখতো
Invaders history were most cruel

Invaders atrocities against Hindus 


ভারতীয় নৌবাহিনী  শক্তিশালী ছিল না। এই যুদ্ধ ,স্থলেই হয়। হঠাৎ করে যুদ্ধক্ষেত্রে দাহিরের হাতি জল খাওয়ার জন্য সমুদ্র চলে যায় এবং এবং সম্রাট দাহির সেনা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।শত্রুর দ্বারা বেষ্টিত হয়ে তিনি মারা যান।

তারপরে মন্দির ভাঙ্গা হয়। সিন্ধু প্রদেশের মন্দিরগুলি ভেঙে ফেলা হয়। বিগ্রহ ভেঙে বলা হয়। ধর্মান্তর এবং নারীর উপর চরম অত্যাচার শুরু হয়। এই আরব আক্রমণকারীদের সভ্য মানুষের যত রকম বিধি-নিষেধের মধ্যে দিয়ে চলতে হয় তাদের তা ছিল না।

তারপর দিন তারপর দিন সম্রাট দাহিরের পত্নী লাদি রাজধানীর অধিকাংশ মেয়েদের নিয়ে জহর ব্রত পালন করেন। এবং সেই দিন ১০০০ মুন্ডিত মস্তক ব্রাহ্মণকে কাশেমের সামনে হাজির করা হয় । তাদের ধর্মান্তরিত এবং হত্যা করা হয়। একদল বিশ্বাসঘাতক হিন্দু এবং কিছু বৌদ্ধ তাদেরকে তাদের কে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিকে আক্রমণ করতে সহায়তা করে। 
Invaders legacies were barbaric

Invaders 

বীরাঙ্গনা দুই  নারী :

সম্রাট দাহিরের দুই মেয়ে  বন্দী বানানো হয়। একজনের নাম ছিল সূর্যদেবী আরেকজনের নাম ছিল পরিমল দেবী তাদের কারাবন্দি  অবস্থায়  দামাস্কাসে পাঠানো হয়।  সঙ্গে ছিল অন্যান্য হিন্দু ক্রীতদাস ও যুদ্ধবন্দী অসঙ্খ্য  হিন্দু নারী ।ডবসন ও ইলিয়ট থেকে জানা যায় তখন খলিফা ছিল "খালিদ বিন ওয়ালিদ"। খলিফার দরবারে তারা তিন মাস পরে পৌঁছায়।  তখনকার দিনে দামেস্ক যাওয়া খুব কঠিন কাজই ছিল। আর সঙ্গে যদি থাকে এই বিশাল নারী এবং পুরুষের যুদ্ধ বন্দি বাহিনী। "ডবসন এবং ইলিয়টতে"  আছে যখন খলিফা অনুবাদ কারীর মাধ্যমে তাদের জিজ্ঞাসা করেন তাদের নাম কি?

 বড় মেয়েটি নিজেকে "জানকি" বলে পরিচয় দেয়। সে বলে সে ভুল করে সূর্যদেবী বলেছে সেইই দাহির সম্রাটের কণ্যা। আলোরের অধিবাসী বৃন্দ অনেক আগেই বলেছে তাদের রানী মৃত। তবে কি এক ষড়যন্ত্র ছিল অর্থাৎ সম্রাটের পরিবারকে বাঁচানোর জন্য সাধারণ মানুষ অন্য নারীকে পাঠিয়েছিল। এ আমার কথা না "ডবসন  এবং ইলিয়ট"  ই এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

খলিফা যখন তাদেরকে বলে  (অনুবাদ কারীর মাধ্যমে জানতে পারে) বড়টি খলীফার সঙ্গে থাকবে এবং ছোট মেয়েটি টিকে হারেমে পাঠানো হবে।  এরা কখনো সভ্য সমাজের খলিফা এবং বাদশা ছিল না, এবং তাদের আচরণ ও সেই রূপ ছিল।এতে বড় মেয়েটি  ক্ষুব্ধ হয় এবং সেই পরিকল্পনা করে বলে তুমি আমাকে ভোগ করবে কি ?

আমি তো এটো হয়ে গেছি?

 আমাকে তোমার সেনাপতি কাশেম ভোগ করে এখানে পাঠিয়েছে। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খলিফা কাশেম কে হত্যার আদেশ দেয়  এবং তাকে জীবন্ত  অবস্থায় গরুর পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে হত্যা করা হয়। কাশেমের বয়স ২৭-২৮ বছরের বেশি ছিল না।

এরপর আরবের বর্বর শাসক যখন বুঝতে পারেন বড় মেয়েটি তাকে ফাঁদে ফেলেছে তখন এই দুই মেয়েকে ছুটন্ত ঘোড়ার পেছনে বেঁধে হত্যা করা হয়। এই দুই নারী ছিলেন অসম সাহসী এবং বীরাঙ্গনা ,তারা সম্রাট দাহিরের  মৃত্যুর প্রতিশোধ নিয়েছিল।

 এক ইসলামী ঐতিহাসিক নিম্নলিখিত ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করেন।   

"যুদ্ধক্ষেত্রে হাতিতে আরোহন করে দাহির  যুদ্ধ করছিলেন। হঠাৎ করে তিনি কিছু মহিলাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখতে পান তারা অভিযোগ করে আরবরা আমাদের এই অবস্থা করেছে আপনি আমাদের রক্ষা করুন। সম্রাট দাহির বলেন আমি থাকতে এসব হতে দেব না। তিনি তখন যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। কাশেম প্রস্তুতই ছিলেন তিনি সৈন্যদের স্থির ছুটতে বলেন। একটি তীর হাতির উপর গিয়ে পড়ে । হাতি জল পিপাসায় জল খেতে ছুটে । তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কাসেমের সৈন্যরা তাকে ঘিরে ধরে এবং তিনি সেখানে বীরের মতো যুদ্ধ করতে করতে নিহত হন

ভারতে এই আক্রমণ কে কেন্দ্র করে বিদেশী আক্রমণকারীরা পরবর্তীতে উত্তর, মধ্য পূর্ব ও দক্ষিণে এগুতে থাকে। আরবদের সাথে যুক্ত হয় তুর্কি পাঠান ও পার্সীরা। অত্যাচারের পর অত্যাচার।ধর্মের উপর সম্পদের উপর, নারী ও পুরুষের উপর। মন্দির ও বিগ্রহ ধ্বংস করতে থাকে।

মহাযোগী এবং হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির রক্ষা কর্তা আদি শংকরাচার্যের আবির্ভাব

প্রায় ৭২২ খ্রিস্টাব্দে কেরালার কালাডি গ্রামে আদি শংকরাচার্যের জন্ম।। খুব অল্প বয়সেই তিনি সন্ন্যাসী হন। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি সন্ন্যাসী হয়ে গৃহত্যাগ করেন । তাকে প্রচ্ছন্ন শিব বলা হয়। তিনি ত্রিশূল ধারি  দেবাদিদেব মহাদেবের অঙ্শ লো।

তিনি অদ্বৈত বেদান্তবাদী ছিলেন এবং ১০ নামি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রবিদদের বিতর্কে পরাজিত করেন। তিনি অদ্বৈত বেদান্তবাদী দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন জগত মিথ্যা ব্রহ্ম সত্য। ৩২ বছর বয়সে তিনি এই ইহ ধাম ত্যাগ করেন। তিনি চারটি মঠের প্রতিষ্ঠা করেন , এই মঠ গুলো আধ্যাত্মিকতার এবং ধর্মীয় বিশুদ্ধ মতের প্রচারের মাধ্যমে সারা হিন্দু সমাজকে রক্ষা করবে। 

ভারত বর্ষের  যখন অন্ধকার নেমে আসতে চলেছে, বীরেরা যখন জীবনকে তুচ্ছ করে বলি প্রদত্ত হয়েছেন , হিন্দুরা যখন আত্মকলহে মগ্ন এবং জাতপাতের কলহে আত্মবিস্মৃত  ঠিক তখনই        মহাযোগী  আদি শংকরাচার্যের আবির্ভাব। আমাদের মনে রাখতে হবে দেব শক্তির বিকাশ ও আধ্যাত্মিকতার বাতাবরণে ভারত বর্ষকে রক্ষার এক ঐশ্বরিক পরিকল্পনা। হিন্দু ইতিহাসে ৭১২ সাল ও ৭২২ সাল দুইই গুরত্বপূর্ণ।

ভারতের ইতিহাসকে বিকৃত করেছে একদল মানুষ। বাংলার ইতিহাসে তথা ভারতের ইতিহাস পড়তে গিয়ে আক্রমণ কারির  ইতিহাস আমরা পড়েছি। হিন্দু সমাজ তথা সনাতন ভারতের জয়  নিশ্চিত। ষড়যন্ত্র হউক আর  মিথ্যার  মায়াজালই হউক ধীরে ধীরে সরে যাবে।


Yoga lifestyle and wellness

বাংলা ইতি কথা 





India, Kolkata, West Bengal, ,Kolkata 700150.

Weathers Report: 

Temperature is normal, 29 degrees Celsius.

Sunset:5.40 P.M

Sunrise:6.57 A.M

Today's Temperature: Normal 

Civil Twilight start: 5.44 A.M

Civil Twilight End:5.48 P.M

Civil Solar Noon: 11.55 A.M


Born Free And Live Free, Feel Good






মন্তব্যসমূহ