✒ RSS কি ও কেন?
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী হিন্দু সমাজ গড়তে চায়। বৃহত্তর হিন্দু সমাজের উত্থানের সাথে ভারতের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি জড়িত। সংগঠিত হিন্দু সমাজ ,সংগঠিত ভারত। সংগঠিত ভারত,শক্তিশালী ভারত। সঙ্ঘ চরিত্র নির্মাণ করে ,এক ঐক্যবদ্ধ হিন্দু সমাজ গঠন করতে চায়।
আর, এস, এস প্রতিষ্ঠা কে করেন?
ড: কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার। তিনি মহারাষ্ট্রের এক হত দরিদ্র ব্রাম্মন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাল্যকালে মা বাবা কে হারান। তিনি ডাক্তারি না করে সমাজ ও রাষ্ট্রের চিকিৎসা করেন। নাগপুর ছিল তার শহর।
তিনি জন্মগত দেশসেবক। স্কুলে ছাত্রদের সংগঠিত করে বন্দে মাতরম ধ্বনি দেন। এদিন স্কুলে পরিদর্শক ভ্রমণ ছিল। সব ছাত্ররা সেদিন বন্দে মাতরম ধ্বনি দিয়ে ছিল তারই পরিকল্পনায়। তখন বন্দে মাতরম ধ্বনি দেওয়া দেশদ্রোহিতার সামিল ধরা হতো। কিন্তু কেউই তার নাম করে নি। কিন্তু পরিদর্শক, শ্লোগান দান কারি ছাত্র কে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। তিনি তা করতে রাজি হননি। এবং স্কুল থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়।
তখন কোলকাতার মহাপ্রাণ ব্যক্তিরা বিদ্যাগৃহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে এই দেশপ্রেমিক ছাত্রদের ভর্তির ব্যবস্থা করা হতো।তারা যেন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। দেশের জন্য এই শুভ সূচনা সম্পূর্ণ করেন কয়েক জন কোলকাতার মহাপ্রাণ ব্যাক্তি। রাসবিহারী ঘোষ এই স্কুল স্থাপনা করেন । তখন এন্ট্রান্স পরীক্ষার সময়। তিনি পুনের বিদ্যাগৃহ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দেন। তিনি বালগঙ্গাধর তিলকের সাথেও কাজ করেন।
বালগঙ্গাধর তিলকের সাথে কথা বলে তিনি কোলকাতায় ডাক্তারী পড়তে আসেন। উদ্দেশ্য বিপ্লব সম্পর্কে অবগত হওয়া। তিনি কলকাতার চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এবং শান্তিনিকেতন লজ হয় তার ঠিকানা। এখানে বিপ্লবী শ্যামসুন্দর চক্রবর্তীর সাথে পরিচিত হন। অনন্য চরিত্রের মানুষ ছিলেন শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী। দরিদ্র মানুষটি দেশের জন্য সমর্পিত প্রাণ। তিনি বন্দেমাতরম কাগজে লিখতেন।
ডাক্তারজী খ্যাতনামা বিপ্লবী নলিনী সেনগুপ্তের সাথে যোগাযোগ করেন। নলিনী সেনগুপ্ত রাসবিহারী বোসকে নিয়ে শান্তি নিকেতন লজে আসেন তার পরিচয় করিয়ে দিতে।
কেশব অণুশীলন সমিতিতে যোগদান করেন। অনুশীলন সমিতিতে কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে যুক্ত হতে হতো । ডাক্তারজী কে এইরূপ কোন পরীক্ষা দিতে হয়নি।
ডাক্তারজী কোলকাতায় অনেক সেবা কাজ করেন। আবার অনুশীলন সমিতি র নানা দায়িত্ব পালন করেন। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের হয়ে তিনি বন্যায় সেবা কাজ করেন। অসীম দারিদ্র্যের সাথে লড়তে লড়তে তিনি ডক্টর পরীক্ষা পাশ করেন। কিন্তু সরকারি স্বীকৃতি মিললো না। তিনি আশোতোষ মুখার্জী ও অশোক সরকারের সাথে কথা বলে এক পরিকল্পনা তৈরি করলেন। সরকারি সিদ্ধান্তে র বিরুদ্ধে সভা সমিতির খবর কাগজ গুলো ছাপাতে লাগলো। সরকার কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না। সবই ছিল প্রচার। বড় বড় ব্যাক্তিত্বের নাম জড়িয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজি করানো। সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি হলো ও সরকার একটি পরীক্ষার মাধ্যমে স্বীকৃতি দিতে রাজি হলো । কিন্তু ডক্টরজি অন্য ধাতুতে গড়া। তিনি বৃটিশদের অনুমতি পরীক্ষায় বসলেন না।
ফিরে স্ব- স্থানে:
ডক্টরজী নাগপুরে ফিরে গেলেন। বিপ্লবী শক্তি ও সঙগঠন গড়ে তোলেন। অস্ত্র সংগ্রহের জন্য একটি বৃটিশ আর্মস ডিপো লুট করেন। ধর পাকড় শুরু হয়। তিনি ভারত ব্যাপি বিপ্লবের সুচনাকে সাময়িক ভাবে বন্ধ করতে বলেন এবং সংযত হতে বলেন। কিন্তু কয়েকটা মাস পরে দেখতে পান অনেকের মন থেকে বিপ্লবের ইচ্ছা চলে গেছে। অনেকে টাকা পয়সার হিসেব দিতে প্রস্তুত নয়। ঐ অস্ত্র দিয়ে আবার ডাকাতি হচ্ছে। তখন তিনি চিন্তা করতে শুরু করেন আমাদের দেশের মানুষের চরিত্র নিয়ে।
মধ্যবর্তী সময়ে তিনি Congress এর সেবা দলের প্রধান হন। পরে নাগপুর অধিবেশনে তিনি সেবা দলের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সেবাকারীদের প্রধান হয়ে সেবা দলকে নিয়মের মধ্যে আনতে চেষ্টা করেন। প্রতিবাদ উপর মহল থেকে শুরু হয়। তারা এই বলে বিরোধিতা করে যে নিয়মই মেনে চলি না কেন তা অহিংসা আন্দোলনের সমর্থক নয়। তিনি আরো দেখতে পান নিয়মনীতি বলতে কিছু নেই। কাছে পীঠে সবাই বেড়াতে চলে যায় । বড়ো অধ:পতন হয়েছে আমাদের চরিত্রের। বারোশ বৎসর পরের অধীনে ছিলাম এবং সামুহিক চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে। দলীয় কমিটি পরিবর্তন হলে, সব পুরণোদের বাদ দেওয়া হয়। তার মনে প্রশ্ন জাগে, এইভাবে মনে হয় কি আমরা হৃত গৌবব ফিরে পাবো ? তিনি ইতিহাস পাঠ শুরু করেন। তিনি ভালো বাঙ্গলা জানতেন।
স্বামী বিবেকনন্দ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বসভায় বলেন যে ভারত মহা সভ্যতার ধারক ও বাহক। তার দেবার মত এখনও আছে, যার দেবার আছে সেইই বাচিয়া থাকে। স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণা দায়ি উৎস স্বামী বিবেকনন্দ। সুভাষ বসু লেখা থেকে বুঝতে পারি জাতীয় ধারার উন্মেষ ঘটিয়েছেন রামকৃষ্ণ। বরোশ বৎসরের পরাধীন জাতি তার আত্মপরিচয় হারিয়ে নিজের গৌরব অনুভব করতে পারছিল না। জাতি শত শত অত্যাচারে হিন্দু হিসাবে পরিচয় দিতে কুণ্ঠা বোধ করতো। রামকৃষ্ণ বললেন তিনি দুইতে আছেন আবার একেতে ও আছেন। পাত্র ভেদে একেতে বা বহুতে পেতে পারেন তাকে।তিনি সমস্ত বিভেদ ভুলিয়েছেন।
তার মানস পুত্র স্বামী বিবেকানন্দ একবার বলছিলেন হিন্দুদের এক সঙগঠনের প্রয়োজন। ভারতের ভাব, আদর্শ ,দর্শন নিয়ে গড়ে উঠবে এই সঙগঠন, সমাজকে পথ দেখাবে। তা হবে ভারতের কেন্দ্র স্থলে। নাগপুর ই ভারতের কেন্দ্র । রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, 'ছোট কাজ করতে অবহেলা করি তাই বড় কাজ করতে পরি না। অজ্ঞাত কুলশীল হয়ে কাজ করতে হবে।' রবীন্দ্রনাথ বলেছেন হিন্দুত্ব ভারতের জাতিগত পরিনাম। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, " হিন্দু ভারতবর্ষের এক জাতিগত পরিণাম। ইহা মানুষের শরীর মন হৃদয়ের নানা বিচিত্র ব্যপারকে বহু সদূর শতাব্দী হইয়া এক আকাশ, এক আলোক, এক ভৌগোলিক নদনদী, অরণ্য পর্বততের মধ্য দিয়া অন্তর ও বাহিরের বহুবিধ ঘাত প্রতিঘাত পরম্পরার এক ইতিহাসের ধারা দিয়া আজ আমাদের মধ্যে উর্ত্তীন হইয়াছে"। তিনি কালান্তরে হিন্দু-মুসলমান নিয়ে আবার লিখলেন, "হিন্দু বৌদ্ধ মুসলমান খৃষ্টান ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে পরস্পর লড়াই করিয়া মরিবে না এইখানে তাহারা সামঞ্জস্য খুজিয়া পাইবে । সে সামঞ্জস্য অহিন্দু হইবে না"। রবীন্দ্রনাথ ও বিবেকানন্দ পড়লে মনে হয় ডাক্তারজীর সঠিক পথেই হেটেছেন ।
ডাক্তারজী নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করেন। এবং তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌছান যে হিন্দু সম্প্রদায় ভারতীয় সভ্যতার সাথে সম্পৃক্ত অংশ। হিন্দু সভ্যতার সাথে ভারতের উত্থান। হিন্দু সভ্যতার পতনের সাথে ভারতের পতন। তাই সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ সমাজের মাধ্যমে ভারত শক্তিশালী হবে। তাই ঐক্যবদ্ধ হিন্দু সমাজ ভারতে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটাবে।
তিনি এই সময় ঝৃষি অরবিন্দ ও সুভাষ বসুর সাথে দেখা করে তাদের মতামত জানতে চান। সুভাষ বসু বলেন, "এটাই পথ। কিন্তু আমি রাজনীতিতে আছি"। ঝৃষি অরবিন্দের সাথে দেখা করেন, অরবিন্দ তার পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
খিলাফত আন্দোলন শুরু করা হলো। অহিংস আন্দোলন আর অহিংস থাকলো না। খিলাফত আন্দোলনের সাথে ভারতের কোন সম্পর্ক ছিল না। এই আন্দোলনের কুফল ফললো অনেক। হিন্দুর প্রাণান্ত ও দেহান্ত দুই হতে লাগলো। অহিংস আন্দোলনে বুদ হিন্দু আত্মক্ষার সুযোগ পেল না। মহাত্মার কাছে হিন্দু জীবনের কোন মূল্য ছিল না। খিলাফতের মাধ্যমে রাজনীতি, মুসলিম সমাজ শক্তিশালী ও সংগঠিত হয়। শুরুতে ডক্টরজী ও সাভারকর মহাত্মার সাথে দেখা করেন। কিন্তু ফল হল না। মহাত্মার এই সব কাজের প্রতি বাদ করেন শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু রাজনীতি যদি সমাজকে অবহেলা করে তবে তার ফল বিষম হয়। Congress পার্টির পক্ষ থেকে তোষণ নীতির পটভূমি রচনা করেন মহাত্মা। এক বগ্গা নীতির অংশ। হিন্দুদের উপর আক্রমণ চালাও, আমরা চুপ হয়ে থাকি।
সহিংসতার কারনে মহাত্মার অসহযোগ আন্দোলন বন্ধ করে দেন পরবর্তীতে। অহিংসা ও হিন্দু মুসলিম ঐক্য মুল্যহীন কথা হয়ে দাঁড়ায়।
ডক্টরজী একটি সভা আহবান করেন, উদ্দেশ্য হিন্দু সংগঠন করবেন। বিভিন্ন দলে কাজ করা মানুষ। অন্য সামাজিক সংস্থার কাজ করা লোক। কেউই ক্ষতি স্বীকার করতে রাজি নয়। নিজের মত দিতে ব্যস্ত।
ডাক্তারজী সিদ্ধান্ত নিলেন নিজের বন্ধুদের নিয়ে শুরু করবেন। নিজের বাড়িতে সভা ডাকলেন। বাড়িটি ছিল কাঠের বাড়ি। সেই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন তার বন্ধুরা। সকল শারীরিক ও বৌদ্ধিক স্তর বাড়াতে বললেন। পরিবর্তন ঘটাবেন, তারা অর্ধশিক্ষিত হলে সমাজের পরিবর্তন ঘটবে কি করে? পরবর্তীতে কার্যকর্তাদের মধ্যে দিক দিশা দিয়েছিলেন তিনি। তিনি জানান কার্যকর্তাদের কমপক্ষে গ্রাজুয়েট হতে হবে। তিনি সংঘের রূপরেখা বলেন।
বিস্তারিত ভাবে ব্যাখা : আর এস
এস এবং হিন্দুদের সঙগঠন:
✒আর,এস,এস এবং আর,এস,এস ,স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিকে কাজে রূপান্তরিত করে। স্বামী বিবেকানন্দ একবার তাঁর সহকর্মী সন্ন্যাসীকে বলেছিলেন যে দেশের মধ্য-কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু সংগঠন গড়ে তোলা দরকার।
স্বামী বিবেকানন্দ
দেশের বোধ, আদর্শ ও দর্শন নিয়ে এটি গঠিত হবে। ডাক্তারজি ভারতের মধ্য শহর অর্থাৎ নাগপুরে আর,এস,এস গঠন করেন। স্বামী বিবেকানন্দ এবং স্বামী বিবেকানন্দ, আমাদের বলেছিলেন যে শারীরিক সুস্থতা হল কাজ করার প্রাথমিক শর্ত। ডাক্তারজি শারীরিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দিতেন। সংঘ শাখাগুলি স্বয়ংসেবককে অনুশীলন এবং শৃঙ্খলা প্রদান করে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তিটিও বিবেচনা করেছিলেন: রবীন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে কঠিন কিছু অর্জন না করা পর্যন্ত, আসুন আমরা অগ্জ্ঞাত কুল শীল থাকি: আসুন পটভূমিতে থাকি এবং কোন কাজ কে ছোট মনে না করি ও প্রচার থেকে দূরে থাকি। ডক্টরজি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্লেষণকে হৃদয় দিয়ে নিয়েছিলেন: কিন্তু আমাদের মানুষের মানসিক গঠন এই ধরনের মানসিকতা ত্যাগ করার জন্য উপযুক্ত নয়। তারা এমনকি প্রাথমিক দৈনন্দিন কাজগুলিকেও (যেগুলো কোন মনোযোগের যোগ্য নয়) সফলভাবে শেষ করার জন্য অনুসরণ করে না, কিন্তু কাজ করে। উচ্চস্বরে এবং শ্রী হীন প্রচারের দিকে নজর। ডাক্তারজি তাই লোকদের হৃদয়ের পরিবর্তনের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন এবং সংঘের চরিত্র গঠনের কার্যকলাপকে প্রচার ও প্রচার থেকে দূরে রাখতে বলেছিলেন। শাখায় ছোটখাটো কাজের মাধ্যমে চরিত্রের বদল শুরু হয় । শাখা পদ্ধতি, জীবনধারাকে এমন ভাবে বদলে দেয় যে, দেশ ও হিন্দু সমাজের জন্য স্বয়ংসেবক রা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে।


আর,এস,এস, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ একটি অত্যন্ত সুপরিচিত সংগঠন। কয়েক দশক আগে, বিবিসি ঘোষণা করেছিল যে এটি হিন্দু সংহতকরণের জন্য ভারতে কাজ করা সবচেয়ে ব্যাপক এবং বৃহত্তম বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তারপর থেকে আর,এস,এস বেড়েছে এবং একাধিক অনুপাতে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এখনও, খুব কম, সংঘের চেনাশোনার বাইরে, শক্তিশালী সংগঠক, ডক্টর কেশবরাও বলিরামপন্থ হেডগেওয়ার সম্পর্কে জানেন, যিনি "ডক্টরজি" নামে পরিচিত। হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ডাক্তারজি একটি সংগঠিত পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। হিন্দু সংগঠন গঠনের ক্ষেত্রে ডাক্তারজির একান্ত চেষ্টা ও অনন্য পরামর্শ গ্রহণ করে কিছু যুবক এবং তার সাথি হয়। 
তিন সরসঙ্ঘচালক

ডাঃ হেডগেওয়ার জন্মগতভাবে দেশপ্রেমিক ছিলেন, এবং এই সহজাত দেশপ্রেম আট বছর বয়সে ফুটে ওঠে যখন তিনি ব্রিটিশ রাণী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম বার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলের শিশুদের বিতরণ করা মিষ্টিগুলো ছুড়ে ফেলে দেন। এমন অনেক অনুষ্ঠান রয়েছে যা প্রতিফলিত করে কিভাবে তিনি তার দেশপ্রেমিক প্রকৃতির প্রকাশ ঘটিয়ে বড় হয়েছিলেন। তিনি তীব্রভাবে অনুভব করেছিলেন যে আমাদের মাতৃভূমিকে যে কোনও মূল্যে বিদেশী জোয়াল থেকে মুক্ত করতে হবে এবং তাই বিপ্লবীদের সাথে কাজ করে এটি অর্জনের জন্য উদ্যোগী হয়ে কাজ করেছিলেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং হিন্দু মহাসভা। তিনি যে কোন কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন তার সম্পৃক্ততা ছিল সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ এবং নিবেদিতপ্রাণ।
সাভারকর, নেতাজি এবং ডাক্তারজি

এটি প্রভাব এবং খ্যাতি, নাম, সম্পদ এবং নারীর আকাঙ্ক্ষা দ্বারা মোহিত ছিল না। তৎকালীন ব্রিটিশ রাজত্বের রাজধানীতে বিপ্লবী দের সঙ্গে কাজ করার কথা জানতেই তিনি মেডিকেল ডিগ্রি নিতে কলকাতায় যান। ডাক্তারি ডিগ্রি পাওয়ার পর তিনি একদিনের জন্যও অনুশীলন করেননি, যদিও তিনি দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করেছিলেন এবং দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত কঠোর আর্থিক অবস্থার মধ্য গিয়েছিলেন। সারাজীবন তিনি শুধু দেশের জন্য বেঁচে থাকতে চান এবং তার ভালোর জন্য কাজ করেন। কলকাতা থেকে ফিরে আসার পর, তিনি নাগপুর এবং কাছাকাছি এলাকায় কাজ করেন এবং 1922 সালে প্রাদেশিক কংগ্রেসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে উন্নীত হন। তিনি একজন অত্যন্ত শক্তিশালী বক্তা ছিলেন; তার জ্বলন্ত কথা যুবকদের আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করেছিল যার জন্য তাকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছিল এবং তাকে আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি জোরেশোরে আত্মরক্ষা করেছিলেন। বিচারক বলে উঠলেন " তার আত্মপক্ষের যুক্তি তো আরও ভয়ঙ্কর"। ড. হেডগেওয়ার একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে তা অনুসরণ করেন৷
বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ এবং ডাক্তারজি

স্থানের স্বল্পতার জন্য, সেই ভাষণের কয়েকটি বাক্য এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে, ভাষণটি এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে। .. "ভারত এবং ভারতীয়দের, তাই আমরা স্বাধীনতা দাবি করি"
আমি আপনাকে এই সহজ প্রশ্নে সরকারকে পরামর্শ দিতে বলছি, এটা কি প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী নয়? যদি এটি সত্য হয় যে একটি দেশের অন্য দেশের উপর শাসন করার অধিকার রয়েছে। ভারতবর্ষের মানুষকে পায়ের তলায় পদদলিত করার ক্ষমতা ব্রিটিশদের কে দিয়েছে? এটা কি ন্যায়, নৈতিকতা ও ধর্মের নির্মম হত্যা নয়? আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করি , যতক্ষণ না আমরা এটি অর্জন করি আমরা শান্তিতে থাকতে পারি না"।
জাফরান পতাকা

বিচারক তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এক বছর পর যখন তিনি মুক্তি পান তখন মতিলাল নেহেরু সহ বিশিষ্ট নেতারা তাকে গ্রহণ করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আর,এস,এস-এর প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তারজি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয় সংগঠনের প্রতিটি স্তরে কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলাহীনতা লক্ষ্য করেছিলেন। কিছু লোক এটি পছন্দ করেনি এবং এই পরীক্ষাটি প্রত্যাশিত ফলাফল দেয়নি। স্বার্থপরতা প্রবল ছিল এবং আদর্শগতভাবেও তিনি কংগ্রেসের মুসলমানদের তুষ্ট করার নীতিতে অসন্তুষ্ট ছিলেন।
স্বয়ংসেবকের সমাবেশ

তিনি কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই সমস্ত অভিজ্ঞতার গভীরে প্রবেশ করেছিলেন; এত বছরের ভ্রাতৃত্বের মধ্যে, মুসলমানরা কি কখনো আমাদের কোনো ইঙ্গিতের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে?
তারা কি হিন্দু সমাজের প্রতি কোন উষ্ণতা গড়ে তুলেছে?
তারা কি ভারত মাতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও প্রার্থনা করতে আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার সামান্যতম ইচ্ছা প্রকাশ করেছে?
মুসলমানরা কিভাবে নির্ভয়ে হিন্দুদের উপর হামলা করছে?
আর কেন হিন্দুরা, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারছে না।
এটা কি লজ্জার বিষয় নয়?
কেন এমন হল?
হেডগেওয়ার ততক্ষণে বুঝতে পেরেছিলেন যে হিন্দুদের মধ্যে সংহতি এবং আত্ম-সম্মানবোধের অভাবই হল সমস্ত দোষের কারণ। প্রধান ও একমাত্র স্থায়ী সমাধান যার মধ্যে হিন্দু চেতনাকে আত্মসম্মানিত ঐক্য ও সাহসের মধ্যে প্রতি স্থাপন করা। এটি ছিল হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও শৃঙ্খলাহীন হওয়ার অভিশাপ, যা তাকে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত করেছিল।

ক্যাম্প তাঁবু

1925 সালে যে পরিবেশ বিরাজ করছিল, তাতে বেশ কয়েকজন জাতীয় নেতা হিন্দুদের সংগঠিত করার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। অন্য কেউ, এমনকি ডাক্তারজীর প্রচেষ্টাকে সাম্প্রদায়িক শিশুসুলভ ইত্যাদি বলে সন্দেহ করেছিলেন ,তবে ডাক্তারজি শান্ত এবং অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। সেই দিনগুলির ঘটনাগুলি অধ্যয়নমূলকভাবে বিশ্লেষণ করার পরে তিনি যে মিশনের ধারণা করেছিলেন তার যোগ্যতার প্রতি তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। গভীর প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তার মন মগ্ন। আমাদের জাতির প্রকৃত প্রকৃতি কি:
আমরা আসলে কোন স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছি?
এর বৈশিষ্ট্য কি?
আবার আমাদের জাতীয় পতন ও দাসত্বের মূল কারণ কী?
ডঃ হেডগেওয়ার অতীত ইতিহাসের গভীরে অনুসন্ধান করেছেন এবং মৌলিক সত্যকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমাদের একটি প্রাচীন জাতি, এটি বিশ্বের অন্যান্য জাতির আবির্ভাবের অনেক আগেই এসেছিল। যখন পশ্চিমের আধুনিক জাতিগুলির অধিকাংশই জঙ্গলের বাইরে ছিল না, এবং বিশ্ব এমনকি যীশু বা মোহাম্মদের কথাও শোনেনি, আমাদের দেশ সর্বজনীনভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার কৃতিত্বের জন্য সম্মানিত ছিল। বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্য দর্শন এবং আধ্যাত্মিকতা। . আর এই সবই প্রাচীন
বাসিন্দাদের সীমাহীন প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের ফলে সম্ভব হয়েছে , যা হিন্দু জনগণ নামে পরিচিত।
জাতীয় রেনেসাঁর সমস্ত মহান জনক ব্যক্তিত্বরা হিন্দু জাতির এই ঝর্ণা থেকে সুধা পান করেছিলেন এবং মুসলিম এবং ব্রিটিশ উভয় আক্রমণকারীদের সাথে লড়াই করেছিলেন। রানা প্রতাপ হোক বা শিবাজি বিদ্যারণ্য বা গুরু গোবিন্দ সিং, বিবেকানন্দ বা অরবিন্দ বা সুভাষ। তিলক বা গান্ধী। তারা সকলেই একই সুরে বক্তৃতা করেছিলেন, বিবেকবান হিন্দু র সহজাত চেতনার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং জনগণকে কর্মে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
ডাক্তার হেডগেওয়ার উপসংহারে এসেছিলেন যে ব্রিটিশ আধিপত্যের এই দীর্ঘস্থায়ী আক্রমণ এবং মুসলিম বিচ্ছিন্নতাকে যদি মোকাবেলা করতে হয় তবে একমাত্র কার্যকর পথ হল হিন্দু জনগণকে জাগিয়ে তোলা এবং সংগঠিত করা। এবং তাদের জাতীয়তাবাদের চেতনায় পূর্ণ করতে। কারণ তিনি অনুভব করেছিলেন যে এটি এমন জাতীয় শক্তির ভিত্তির উপর ভিত্তি করে যে ব্রিটিশ শক্তিকে নত করা যেতে পারে এবং মুসলমানদের উপলব্ধি করানো যায় যে জাতীয় মূলধারায় মিশে গিয়ে তাদের স্বার্থ আরও ভালভাবে পরিবেশিত হয়। এটি আমাদের জাতীয় জীবনের এই মৌলিক সত্যের উপলব্ধি যা ডাঃ হেডগেওয়ার দ্বারা RSS-এর আদর্শগত ভিত্তি তৈরি করেছিল।
তাই সংঘের লক্ষ্য ছিল আমাদের জনগণকে জাতীয় চরিত্র ও সংহতির প্রকৃত চেতনায় পুনরুদ্ধার করা। জাতপাত, অস্পৃশ্যতা প্রভৃতি যে সমস্ত সামাজিক কুফল গত কয়েক শতাব্দী ধরে আমাদের জাতিকে বিঘ্নিত ও ধ্বংসাত্মক করেছে তা নির্মূল করতে হবে এবং আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির মহৎ ও জীবন টেকসই মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা শ্রেণী, লিঙ্গ বা ধর্ম, প্রদেশ বা রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এই নীতিগুলির উপর ভিত্তি করে, ডাক্তারজী ভেবেছিলেন প্রথমে বুদ্ধিমান কর্মীদের একটি নিবেদিত এবং আন্তরিক দল গড়ে তোলা উচিত এবং উদাসীন হিন্দু সমাজকে জাগিয়ে তোলার জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।
ডাক্তারজি গভীরভাবে চিন্তা করেছিলেন যে কীভাবে এবং কী এমন ব্যবহারিক পদ্ধতি হওয়া উচিত যার মাধ্যমে এই ধরনের আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে?
কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সতর্ক ও গভীর চিন্তা-ভাবনার পর, তিনি অভিনব পরিকল্পনায় আঘাত করেছিলেন: এই ধারণাটি ছিল যে একটি এলাকা বা এলাকার ব্যক্তিরা তাদের জাত বা অবস্থানের পার্থক্য ভুলে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে এবং সময়ে নিয়মিত মিলিত হওয়া উচিত, ব্যর্থ না হয়ে। সেই এক ঘন্টার, সাধারণ প্রোগ্রাম যা শৃঙ্খলাকে প্রভাবিত করবে এবং শরীর, মন এবং বুদ্ধিকে সঠিক পথে চালিত করবে,পারস্পরিক ভালবাসা, স্নেহ এবং বিশ্বাসের পরিবেশে প্রশিক্ষণ দেবে, কোনও পার্থক্য নয়, উত্সাহী খেলা এবং শারীরিক অনুশীলনে কোন অবহেলা নয়, সমবেত দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার ব্যবস্থা
হয়। আমাদের দেশের জাতীয় বীর ও অন্যান্য মহাপুরুষদের নিয়ে ছোট ছোট আলোচনা এবং শেষ অবধি "ভারতমাতা কি জয়" দিয়ে একটি সাধারণ প্রার্থনা পরিচালনা করতে হবে। এই একদল সভাকে "শাখা" বলা হত, এবং অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে "একজন স্বয়ংসেবক" বলা হত, একজন স্ব-প্রণোদিত, আত্মনির্ভরশীল এবং সমাজের নিঃস্বার্থ সেবক। এই ধরনের শাখাগুলি ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি শহর, শহর এবং গ্রামের প্রতিটি এলাকাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। পরস্পর নমস্কারের পর ভগবাধ্বজ উত্তোলনের মাধ্যমে শাখা শুরু করা উচিত।
ব্যক্তিগতভাবে বিনিময়ে কিছু না পেয়ে প্রত্যেককে একটি নির্দিষ্ট স্থানে এবং সময়ে একটি কারণের জন্য প্রতিদিন দেখা করা সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু ডঃ হেডগেওয়ার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং অবসর সময়ে প্রতিদিন স্বয়ংসেবকের বাড়িতে যেতেন। তাদের সাথে বসা, স্নেহপূর্ণ এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু সময় কাটানো এ কাজকে ত্বরান্বিত করেছে। তাঁর স্নেহ, আন্তরিকতা এবং দেশপ্রেম সবকিছু এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে, তিনি সবাইকে পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে অনুসরণ করতে প্রভাবিত করতেন।
সন্ধ্যা হলে আবার ঘরে ঘরে গিয়ে শাখায় নিয়ে যাওয়ার জন্য দেখা করতে যেতেন। এটি শাখা সমাবেশকে সফল করে তোলে এবং স্বয়ংসেবকরা অত্যন্ত উত্সাহের সাথে প্রতিদিন শাখা সমাবেশে যোগ দিতে শুরু করেন। ডাঃ হেডগেওয়ার প্রতিটি ব্যক্তির চরিত্রকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং তাদের উন্নয়নগুলিও পর্যবেক্ষণ করেছিলেন । তিনি 15 থেকে 18 বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তাদের মতাদর্শগত প্রত্যয়ে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি ,তারা নিজেরাই যেন শাখা চালাতে পারে, শাখা পরিচালনার প্রশিক্ষণ স্বয়ং সেবকদের দেন।
শাখার জীবন্ত মডেলটি স্বয়ংসেবকদের তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় দৃষ্টি অনুপ্রেরণা এবং নির্দেশনা প্রদান করেছিল, তবে এসব হেডগেওয়ারের জীবনই রয়ে গেছে। তিনি আন্তরিকভাবে এবং সতর্কতার সাথে তার সমস্ত ত্রুটিগুলি কাটিয়ে সংঘের মাধ্যমে যে মিশনের সূচনা করেছিলেন তার একটি উজ্জ্বল মূর্ত প্রতীক হিসাবে একটি চিত্রের উপর কাজ করেছিলেন। তিনি একজন খাঁটি আন্দোলনকারী এবং যোদ্ধা থেকে নিজেকে একজন নীরব, ধৈর্যশীল এবং শান্ত জাতিনির্মাতা হিসেবে সংস্কার করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন । তার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এবং জন্মগত উত্তপ্ত মেজাজের স্বভাবকে একটি স্নেহময় এবং প্রেমময় প্রকৃতির কাছে ফেলে দিয়ে তিনি আরেকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক আয়ত্ত করেছিলেন । প্রত্যেকের সাথে , অনানুষ্ঠানিক এবং জীবন্ত যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছ। এই ব্যক্তিগত স্পর্শ তাকে প্রতিটি মানুষের কাছে প্রিয় করেছিল। ড. হেডগেওয়ার সাধারণ স্বয়ংসেবককে নিবেদিত ও দক্ষ, কার্যকরী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও বিকাশের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্লাসের একটি ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছিলেন, এই স্বয়ংসেবকদের নিবেদিতপ্রাণ এবং দক্ষ কার্যকরী কর্মী হিসেবে গড়ে তোলেন। এই স্বয়ং সেবকরা নিবেদিতপ্রাণ এবং দক্ষ কার্যকরী কর্মী হয়ে উঠে ছিল। এই স্বয়ংসেবকরা হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত এই বিশাল দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে থাকা সংঘ এবং এর সহযোগী কার্যকলাপের বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
সমাজ রূপান্তরের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে ওঠা স্বয়ংসেবকরা যে কোনো ক্ষেত্রেই তারা প্রবেশ করেছে এবং সর্বত্র জাতীয় পুনর্জন্মের জন্য দৃঢ়ভাবে কাজ করে চলেছেন এবং ব্যাপকভাবে সফল প্রমাণিত হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত ম্যাপিং এবং RSS এ হাইলাইট
RSS এর পূর্ণরূপ কি? : সম্পূর্ণ ফর্ম আরএসএস
রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ
আর,এস,এস-এর প্রতিষ্ঠাতা কে? : আর এস,এস প্রতিষ্ঠাতা
ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। 1925 সালের 27 তম দিনে বিজয়া দশমীর শুভ দিনে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম বৈঠক হয় নাগপুরে তাঁর বাড়িতে কয়েকজনের সঙ্গে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভালাজি কাওরে, আন্না সোহানি, বালাজি হোদ্দার, বাপ্পারাও বেহেদি এবং প্রবাহকর বলওয়ান্ত ওরফে ভায়াজি ধনি।
আর,এস,এস-এর মূল নীতিগুলি কী কী?
যার তিনটি নীতি আমাদের একসাথে রাখার জন্য একটি সুতো তৈরি করেছে।
1. হিন্দুধর্ম তার চিরন্তনতার কারণে আমাদের একসাথে রাখে। বৈচিত্র্য এবং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাই হল ঐক্যের ভিত্তি।
2. পূর্বপুরুষরা আমাদের সম্প্রীতি এবং শান্তিতে ভরা একটি গভীর-মূলযুক্ত জীবনধারা দিয়েছেন। হিন্দু জীবন পদ্ধতি কেবল একটি ধর্ম নয় একটি দর্শন, কেবল একটি দর্শন নয়, দৈনন্দিন জীবন।
3. সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে সত্য. ইন্দ্রিয় সমযম এবং নৈতিকতা আমাদের ধর্ম ও ধর্মের ভিত্তি।
মহিলারা কীভাবে আর,এস,এস-এ অংশগ্রহণ করতে পারেন?
আর,এস,এস একটি পুরুষ সংগঠন। একজন মহিলা এখানে যোগ দিতে পারবেন না। রাষ্ট্রীয় সেবিকা সমিতি মহিলাদের জন্য।
আর,এস,এস-এর বর্তমান প্রধান কে? : RSS নেতা (Karjyakarta), RSS-এর বর্তমান নেতা কে?

বর্তমান সরসঙ্ঘচালক ড.মোহন ভাগবত

বর্তমান সরসঙ্ঘচালক (প্রধান) ড. মোহনরাও ভাগবত।
আর,এস,এস প্রধানের নিয়োগ কে দেয়?
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক বিদায়ী সরসঙ্ঘচালক নিয়োগ করেন।
আর,এস,এস সদর দপ্তর কোথায়?
আর,এস,এসের হেড কোয়ার্টার নাগপুরে। শহরটি মহারাষ্ট্রে অবস্থিত। এটি ভারতের কেন্দ্রে অবস্থিত শহর।
আরএসএস সংগঠনের উদ্দেশ্য কী?
হিন্দু সমাজকে একত্রিত করে আরএসএস হিন্দু জাতীয়তাবাদ পুনর্গঠন করছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের বলেছিলেন ভারত একটি হিন্দু জাতি। শক্তিশালী হিন্দু জাতি মানে শক্তিশালী ভারত। স্বামী বিবেকানন্দ এবং ভগিনী নিবেদিতা হিন্দু জাতীয়তাবাদের একই পথে ছিলেন।
8 সরসঙ্ঘচালকদের তালিকা
1. ডাঃ কেশব বলিরামপন্থ হেডগেওয়ার 1925 থেকে 1930
2. লক্ষ্মণ বাসুদেব পরানজাপে 1930 থেকে 1931
3. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার 1931 থেকে 1940
4.মি. এস গোলওয়েলকার 1940 থেকে 1973
5. মধুকর দত্তত্রয় দেওরস 1973 থেকে 1994
6. রাজেন্দ্র সিং 1994 থেকে 2000
7 কেএস সুদর্শন 2000 থেকে 2009
8. মোহন ভাগবত 2009
মোদি কি আর,এস,এস প্রচারক?
মোদি এখন শুধুই স্বয়ংসেবক। একজন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচারক তার নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তি বজায় রাখতে পারেন না। মোদি এখন সাংসদ, তাকে এটা করতে হবে।
প্রচারক কে?
আর,এস,এস কি Bjp-এর অন্তর্গত?
আর,এস,এস হিন্দু জাতীয়তাবাদ পুনর্গঠনের জন্য গঠিত একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। প্রতিদিন স্বয়ংসেবকগণ ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে ভারতকে বিশ্বগুরু করার জন্য।
স্বয়ংসেবকরা জাতির গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং সেই পথে যাত্রা করেছে সঙ্ঘ।
জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের উপায় হল ধর্ম রক্ষা করা।
আর সর্ব ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য, স্বয়ং সেবকরা কাজ শুরু করে। বিজেপি ও তাই। RSS এর বিবিধ ক্ষেত্র বিজেপি। বি, জে, পি একটি রাজনৈতিক দল।
বিজেপির লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল?
কিন্তু বিজেপি একটি রাজনৈতিক দল। এর একটি রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে। একবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় , গুরুজীর কাছে জনসংঘের জন্য কয়েকজন যুবক চেয়েছিলেন। দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক ৬ জন স্বয়ংসেবককে জনসঙ্ঘে যোগদানের অনুমতি দেন। জনসংঘ ছিল বিজেপির আদি সংগঠন। শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, দীন দয়াল উপাধ্যায়, সুন্দরলাল ভান্ডারী এবং লালকৃষ্ণ আডবাণী ছিলেন সেই 5 জন।
সেই প্রেক্ষাপটে কেউ কারোর উপর নয়। দুজনের মধ্যে একটা অনুপ্রেরণামূলক সম্পর্ক রয়েছে। লক্ষ্য , সাংগঠনিক আচরণ এবং সংস্কৃতিও ভিন্ন।
আর,এস,এসের শীর্ষ 10টি সংগঠন এবং আরও:
শিক্ষা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ,বুদ্ধিজীবী, সমবায়, সেবা, আদিবাসী উন্নয়ন এবং গণসংগঠনের ক্ষেত্রে RSS-এর হাজারের বেশি সময় লাগে বিবিধ ক্ষেত্র রয়েছে, আবার প্রাণবন্ত ক্ষেত্রের নিজস্ব বহু সংস্থা রয়েছে।
1. বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
2. হিন্দু জাগরণ মঞ্চ।
3. বিদ্যা বিকাশ পরিষদ ,28000 এর বেশি স্কুল।
4. সারা ভারতে প্রতিটি জেলায় সেবা ভারতী এবং সেবা ভারতী।
5. বণবাসী কল্যাণ আশ্রম অন্যান্য সংস্থার সাথে উপজাতীয় এলাকায় কাজ করছে।
6. বিজ্ঞান ভারতী
7. সংস্কৃত ভারতী ,কথা এবং সংস্কৃত শেখায়,
9. ক্রীড়া ভারতী
10. সমাজ সেবা ভারতী।
11. বঞ্চিত এলাকায় "একল বিদ্যালয়ের "দেড় লাখেরও বেশি স্কুল রয়েছে ।
12. ভারতীয় মজদুর সংঘ বিশ্বের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন।
13। ভারতীয় কিষাণ সংঘ।
14. আরোগ্য ভারতী ।
15. সাহিত্য পরিষদ ।
16.সংষ্কার ভারতী।
17. অখিল ভারতীয় ইতিহাস সমকলন।
18. প্রজ্ঞা ভারতী।
19. পূর্ব সৈনিক সেবা পরিষদ।
20 অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ
21. সীমা জাগরণ মঞ্চ ইত্যাদি।
এই সমস্ত সঙগঠন চালনার জন্য স্বয়ং সেবকেরা সময় ও পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করছে।
কবে সংঘ নিষিদ্ধ হয়েছিল?
1948 সালে সংঘের উপর নিষেধাজ্ঞা। সংঘ এবং স্বয়ংসেবকদের জন্য এই দিনগুলি কঠিন ছিল। তারা দূরদর্শিতা এবং ধৈর্য দিয়ে এটি কাটিয়ে উঠেছে।
RSS-এর মূল কার্যক্রম:
নীতি: আর,এস,এস কিছুই করবে না শুধুমাত্র ব্যক্তি নির্মাণ করবে কিন্তু স্বয়ংসেবক সব করবে।
1. Vivida Khestra নামে হাজার হাজার সংগঠন গড়ে তোলেছে। ক্ষেত্রগুলি হল অর্থনৈতিক, শিক্ষা, শ্রমিক ইউনিয়ন, ছাত্র, জনজাতির,সেবা, উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিজীবী সংগঠন ইত্যাদি।
2. স্বয়ংসেবক গোয়া, দাদরা এবং হায়দ্রাবাদের মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। অনেক স্বয়ংসেবক এই জন্য তাদের জীবন দিয়েছেন।
3. পাকিস্তানি ও চীনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সমর্থন ও সাহায্য করা। শুধু সমর্থন নয়, সেবা প্রদানের মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে কাজ ও সাহায্য করেছে সব যুদ্ধেই। 1965 এবং 1971 সালে তারা সেনাবাহিনীকে সেবা প্রদান করে। চুরকা মুর্মুর গল্প কিংবদন্তি হয়ে উঠেছে। চীনা আগ্রাসনের সময় নেহেরু সরকার দিল্লির ট্রাফিক চলাচল স্বয়ংসেবকের কাছে হস্তান্তর করেছিল।
4. অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে স্মার্ট ম্যাপিং: আর,এস,এস একটি সংস্থা যা নীরবে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে কাজ করছে। রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেছেন, "অস্পৃশ্যতা যদি পাপ না হয় তবে পৃথিবীতে অন্য কোন পাপ নেই"।
5. গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম: জরুরি অবস্থা জারির পর, হাজার হাজার স্বয়ংসেবক সহ সরসঙ্ঘচালক বালাসাহেব দেওরাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
RSS-এর মহান কাজের স্মার্ট ম্যাপিং: মহান স্বামী বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল:
কন্যাকুমারী: স্বামী বিবেকানন্দ রক চার্চের দখলে ছিল। রকের আশেপাশের লোকেরা খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল। স্বামী বিবেকানন্দ রককে পুনরুদ্ধার করা ছিল একটি কঠিন কাজ।
সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে আর,এস,এস-এর একনাথ রানাডে, সর কার্যবাহকে এই প্রকল্পের জন্য নিযুক্ত করা হয়। যাইহোক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী হুমায়ুন কবির ,হিন্দু সোসাইটি কর্তৃক বিবেকানন্দ স্মৃতিসৌধ পুনরুদ্ধারের বিরুদ্ধে ছিলেন। সর্বোপরি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন একজন খ্রিস্টান। ওই সব লোক এর বিরোধিতা করছিল।
একনাথ রানাডে সব সাংসদ এবং বড় ব্যক্তিত্ব সহ সেই সমস্ত লোকের সাথে দেখা করেছিলেন।তিনি এতো পরিশ্রম করেছিলেন যে পরিবর্তীতে অন্ধ হয়ে যান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছয় মাস অন্ধকার ঘরে থাকতে হয়েছে। জনগণকে সংঘবদ্ধ করার জন্য প্রচার ও শুরু করেন। মানুষ এক টাকা করে দিয়েছে। অবশেষে, রকটি হিন্দুদের দ্বারা পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল।
রাম মন্দির আন্দোলন ছিল হিন্দু সভ্যতার এক মহান কাজ। আর,এস এস আন্দোলন শুরু করে তা সম্পন্ন করে।
নমামি গঙ্গে, একমাতা যজ্ঞ, গোহত্যা নিষেধাজ্ঞা, রাম সেতু আন্দোলন ছিল হিন্দু সমাজকে জাগ্রত করার সর্বশ্রেষ্ঠ গণআন্দোলন। এগুলো এত সহজ কাজ ছিল না। অনেক স্বয়ংসেবক তাদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।
আর,এস,এস কীভাবে আর্থিক সমস্যা মেটাবে?
আর,এস,এস মানুষের কাছ থেকে কোনো অনুদান বা চাঁদা নেয় না। প্রারম্ভিক দিনগুলিতে, আর,এস,এস সাবস্ক্রিপশন এবং অনুদানের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেছিল। কয়েক মাস পর স্বয়ং সেবকরা হতাশ হয়ে পড়েন। কারণ মানুষ নিয়মিত চাঁদা ও অনুদান দিতে আগ্রহী নয়।
গুরু পূজার দিন, ডাক্তারজি একটি গৈরিক ধ্বজ নিয়ে এসেছিলেন এবং তাদের বলেছিলেন যে গৈরিক ধ্বজ আমাদের গুরু হিসাবে পূজন হবেন। আমরা তার কাছে আত্মসমর্পণ করবো এবং তাকে আমাদের সমর্পনের টাকা পরিশোধ করব। এর একটা বড় দিক আছে। এক, একজন গুরু হবেন নৈর্ব্যক্তিক সত্তা। কেউ কখনও সংঘ গুরুর সমালোচনা করতে পারবে না। সবাই ভেবেছিল ডাক্তারজি গুরু হবেন কিন্তু তা হয়নি। দ্বিতীয়ত, স্বয়ংসেবকরাই আর্থিক সমস্যা মেটাবেন। গুরু পূজনের প্রথমে বা শুরুতে স্বয়ংসেবকরা ৮৪ টাকার সমর্পণ করেন। একে বলে গুরু দক্ষিণা , পবিত্র অর্থ।
শাখা কি?, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
চরিত্র গঠনে সংঘের একটি অভূতপূর্ব ব্যবস্থা। শাখা হল এক ঘণ্টার অনুষ্ঠান। এই অংশটি চারটি বিভাগে বিভক্ত। এই অংশগুলি নিম্নরূপ:
1. 20 মিনিটের জন্য শারীরিক মাত্রা: স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে শারীরিক সুস্থতা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। সহজ কিন্তু অর্থপূর্ণ শারীরিক ব্যায়াম অনুসরণ করা হয়। শাখায় একটি সুশৃঙ্খল চরিত্র গড়ে তোলার জন্য।
2. বৌদ্ধিক 15 মিনিটের বুদ্ধিবৃত্তিক মাত্রা: সহজ বিষয় যা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য। দেশাত্মবোধক গান, সুভাষিত, বোধ কথা, অন্যান্য সামাজিক ও জাতীয় বিষয় শাখায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
3. খেলা বা গেমের মাত্রা: আদিবাসী মানে সম্পূর্ণ গেমগুলি শাখাতে গৃহীত হয়, উদাহরণস্বরূপ, কাবাডির একটি পুনর্জন্ম পদ্ধতি রয়েছে যা হিন্দু জীবনের সাথে যুক্ত।
4. 5 মিনিটের জন্য প্রার্থনা।
Shakha কিভাবে আমাদের জীবন পরিবর্তন করে?
প্রতিদিন, আমরা আমাদের খাওয়ার প্লেট ধুয়ে ফেলি আবার খাওয়ার সময় ধুই কিন্তু আমরা আমাদের স্বাস্থ্য এবং চরিত্রের জন্য কিছুই করি না। শাখা চরিত্রের ধোয়ার জায়গা। এটা কোনো তত্ত্ব নয়, বাস্তবে আমরা দেখেছি কিভাবে স্বয়ং সেবক দেশ ও সমাজের জন্য ঘর ছেড়েছেন।
শাখায় চরিত্র গঠনের 10 টি টিপস
একটি ছেলে তার চরিত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির বিকাশ ঘটাতে পারে।
1. অন্যের নির্দেশ পালন করার অভ্যাস করুন।
2. শরীর এবং মনের মধ্যে সামঞ্জস্য
3. একটি সুশৃঙ্খল জীবন।
4. শারীরিক সুস্থতা এবং মননশীলতা।
5. অস্পৃশ্যতা ভুলে যান।
6. সাংগঠনিক আচরণ বিকাশ করুন।
7. দেশপ্রেম বিকাশ করুন
8. নেতৃত্ব বিকাশ
9. শিখুন, কিভাবে সমাজে কাজ করবেন?
10. সমাজের মানুষের কথা বিবেচনা করে সংকট মোকাবেলা ও মোকাবেলা করার দক্ষতা বিকাশ করুন।
আর,এস,এস কীভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল?
ডাক্তারজি জন্মগতভাবে দেশপ্রেমিক ছিলেন। স্কুল জীবনে বন্দে মাতরম স্লোগান দেওয়ার কারণে তাকে নীল সিটি স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি পুনেতে রাসবিহারী ঘোষ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাগৃহ স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। রাসবিহারী ঘোষ ঋষি অরবিন্দের সহায়তায় সেই সমস্ত ছাত্রদের জন্য এই বিদ্যালয়গুলি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল তাদের পড়ার সুবিধা র জন্য এই স্কুলের প্রতিষ্ঠা হয়। বাল্যকালে তিনি বালগঙ্গাধর তিলকের সংস্পর্শে ছিলেন।
এক শুভাকাঙ্ক্ষীর সাহায্যে তিনি কলকাতায় আসেন ডাক্তার হতে। কিন্তু তখন কলকাতা ছিল বিপ্লবী সংগঠনের স্বর্গ। বিপ্লবী আন্দোলন সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্যে তিনি কলকাতায় আসেন। তিনি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তীর সাথে কাজ শুরু করেন যিনি একজন বিপ্লবী ছিলেন। তিনি নলিনী সেন গুপ্তের সাথে পরিচিত হন। নলিনী সেন গুপ্ত অনুশীলন সমিতির সদস্য ছিলেন, একজন মহান বিপ্লবী। নলিনী স্বাধীনতার পর তাকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। একবার রাসবিহারী বসু তাঁর সাথে দেখা করতে "শান্তিনিকেতন লজে" এলেন। ডাক্তারজি র একটি কোড নাম, অর্থাৎ কোকেন নামে অনুশীলন সমিতিতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি পুলিন বিহারী ঘোষের সাথে দেখা করতে পারেননি কারণ সে সময় তিনি নবাব সলিমুল্লাহর সহায়তায় ব্রিটিশ সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক কাজে জেলে ছিলেন । ত্রৈলৈক্য নাথ মহারাজ তার বিখ্যাত বই "জেলে ত্রিশ বছর"-এ একটি ছবি (অনুশীলিন সমিতির বিপ্লবীদের গ্রুপ ফটো) ছাপিয়েছিলেন যেখানে ডাক্তারজি উপস্থিত ছিলেন।
মহারাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিপ্লব শুরু করার জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করেন। তার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা একটি ব্রিটিশ আর্ম ডিপো লুট করে।
মহাত্মা গান্ধী: রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ,
মহাত্মা গান্ধী 1934 সালে আর,এস,এস ক্যাম্প পরিদর্শন করেছিলেন। গান্ধীজি আর,এস,এসের ওয়ার্ধা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছিলেন। গান্ধীজি ওয়ার্ধার কাছে সেবাগ্রাম গ্রাম আশ্রমে শিবির করেছিলেন। সেই বাড়ির ঠিক উল্টোদিকেই ছিল সঙ্ঘ শিবির। প্রায় 1500 স্বয়ং সেবক শিবিরে উপস্থিত ছিলেন। গান্ধীজি শিবির স্থাপনের প্রস্তুতি দেখেছিলেন। তিনি তার বাসভবন থেকে শিবিরের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিবিরটিকে কাছ থেকে দেখার মতো অনুভব করেন। তিনি মহাদেব দেশাইর সাথে কথা বলেছিলেন যিনি পালাক্রমে আপ্পাজি যোশীকে লিখেছিলেন । আপ্পাজি যোশী অবিলম্বে গিয়ে গান্ধীজির সাথে দেখা করেছিলেন এবং তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন: "দয়া করে যখনই আপনার পক্ষে সুবিধা হয় তখনই আসুন আপনাকে স্বাগত জানানো হবে"।
মহাত্মা গান্ধী একটি স্লিপে লিখেছেন যে তিনি পরের দিন সকাল 6 টায় ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে দেড় ঘন্টা কাটাবেন। সেদিন মহাত্মা গান্ধী মৌন দিবস পালন করছিলেন।
পরদিন সকালে গাধিজী ,মীরাবেহন, মহাদেব দেশাই এবং আরও কয়েকজনকে নিয়ে এলেন। সকল স্বয়ং সেবক তাঁকে ‘প্রণাম’ নিবেদন করেন, সঙ্ঘের বিশেষ পদ্ধতিতে। ক্যাম্প দেখার পর তিনি মুগ্ধ হন। গান্ধীজি আপ্পাজির পিঠ হাত ঠেকিয়ে বললেন, "যে তিনি এমন দৃশ্য দেশের কোথাও দেখেননি"।
পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে, তিনি রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, সবগুলি বিষয় ভালভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছাড়াই 1500 জনের জন্য খাবার তৈরি করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করে জানতে পেরেছিলেন যে প্রত্যেক শিক্ষার্থী এক টাকা এবং কিছু খাদ্যশস্য নিয়ে এসেছে। কোনো ঘাটতি থাকলে স্বয়ংসেবকরাই ঘাটতি মিটিয়ে দেয়। গান্ধীজি সন্তুষ্ট ও বিস্মিত হয়ে গেলেন।
তিনি আবার তাঁবু পরিদর্শন করেন এবং দেখেন যে সমস্ত স্বয়ংসেবক তাদের জাত ভুলে গেছে। নিজেদের জাত ভুলে এক সাথে খাচ্ছে, গল্প বলছে, খেলছে। মহাত্মা তাদের কোন জাত বলতে বলেছিলেন এবং সমস্ত স্বয়ংসেবক একই লাইনে উত্তর দিয়েছিলেন যে তারা হিন্দু। সংঘের মধ্যে ব্রাম্মন, মারাঠা, অস্পৃশ্য ইত্যাদির মধ্যে কোন পার্থক্য করে না। তাদের প্রশ্নের উত্তর শুনে গান্ধীজি সন্তুষ্ট হলেন।
গান্ধজি আপ্পাজিকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমাদের সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতা দূর করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। সংঘে এই ঘটনা কীভাবে সম্ভব হয়েছে?"
আপ্পাজি উত্তর দিলেন, "উচ্চ-নীচ, অস্পৃশ্যতা ও অস্পৃশ্যতার অনুভূতি শুধুমাত্র হিন্দুদের অন্তর্নিহিত একত্বের উপর জোর দিয়েই বিলুপ্ত করা যায়। তাহলেই তাদের আন্তরিক আচরণে ভ্রাতৃত্বের চেতনা প্রতিফলিত হবে, শুধু কথায় নয়। এই অর্জনের কৃতিত্ব। ডক্টর কেশবরাও হেডগেওয়ারের কাছে যায়।"
শিবিরে তখন সাধারণ সমাবেশের সময়। বিউগল বেজে উঠল। সমস্ত স্বয়ংসেবক উঠে দাঁড়ালেন। গৈরিক ধ্বজ উত্তোলন করা হয়। গান্ধীজি প্রার্থনায় অংশ নেন। গান্ধীজি ছিলেন একজন প্রধান সংগঠক। তিনি সব বিষয়ে তদন্ত করেন। গান্ধী জি কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের সাথে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
আপ্পাজি যোশী তাঁকে বলেছিলেন যে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার আগামীকাল ক্যাম্প পরিদর্শনে আসবেন।
গান্ধীজি এবং ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার
পরদিন সকালে ক্যাম্পে এলেন কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার।
শিবিরে তাঁর সমস্ত নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি গান্ধীজির সাথে দেখা করেছিলেন।
প্রাথমিক সৌজন্য বিনিময়ের পর, গান্ধীজি এবং গান্ধীজি তার মনের সবচেয়ে উপরের স্তরের দিকে ফিরে গেলেন:
ডাক্তারজি, আপনার প্রতিষ্ঠান প্রশংসনীয়। আমি জানি আপনি বহু বছর ধরে কংগ্রেসের কর্মী ছিলেন।
তাই আপনি কংগ্রেসের মতো একটি জনপ্রিয় সংগঠনের তত্ত্বাবধানে এমন একটি স্বেচ্ছাসেবক ক্যাডার তৈরি করলেন না কেন?
কেন আলাদা সংগঠন করলেন?
ডাক্তারজি বললেন, "এটা সত্য যে আমি কংগ্রেসে কাজ করেছি। ১৯২০ সালের কংগ্রেসের অধিবেশনের সময়ও আমি স্বয়ং সেবক দলের( Congress) সেক্রেটারি ছিলাম যখন আমার বন্ধু ডঃ পরাঞ্জপে দলের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীকালে, আমরা এমন একটি সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
মহাত্মা গান্ধী, "কেন আপনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হল? এটা কি আর্থিক সাহায্যের জন্য ছিল?
ডাক্তারজি, "না না! অর্থের কোনো অভাব ছিল না। অর্থ একটি মহান সাহায্য হতে পারে। কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু টাকা দিয়ে সবকিছু করা যায় না। আমাদের যে সমস্যাটির মুখোমুখি হয়েছিল তা ছিল অর্থ নয় বরং মনোভাব।"
মহাত্মা গান্ধী, এটা কি আপনার মতে কংগ্রেসে মহৎ মনের মানুষ ছিল না, নাকি এখন নেই?
এই আমি একথা বোঝাতে চায়নি , কংগ্রেসে অনেক ভালো মানুষ আছে। কিছু মৌলিক মনোভাবের সমস্যা ছিল। কংগ্রেস মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ........... কংগ্রেস নেতারা তাই স্বেচ্ছাসেবকদের অবৈতনিক সেবক হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত যারা সভা এবং সম্মেলনের সময় চেয়ার এবং বেঞ্চের ব্যবস্থা করে। কংগ্রেস বিশ্বাস করে না যে দেশের সমস্যাগুলি তখনই কার্যকরভাবে সমাধান করা যেতে পারে যখন নিবেদিত স্বয়ংসেবকদের একটি বৃহৎ এবং সুশৃঙ্খল সংস্থা থাকে যারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছামত দেশের সেবা করতে আগ্রহী এবং অন্য কোথাও থেকে অনুপ্রেরণার অপেক্ষা না করে।"
মহাত্মা, 'স্বয়ং সেবকের ধারণা কী?
একজন স্বয়ংসেবক হলেন তিনি যিনি ভালোবাসার সাথে জাতির সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য তার জীবন উৎসর্গ করবেন। এই ধরনের স্বয়ংসেবকদের তৈরি করাই সঙ্ঘের লক্ষ্য। সঙ্ঘে একজন স্বয়ংসেবক এবং একজন নেতার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আমরা সবাই স্বয়ংসেবক এবং তাই সমান। আমরা সবাইকে সমানভাবে ভালবাসি এবং সম্মান করি। আমরা স্ট্যাটাসের কোনো পার্থক্যের জন্য কোনো জায়গা দিই না। এবং প্রকৃতপক্ষে বাইরের অর্থ বা জনসাধারণের সাহায্য ছাড়াই এত অল্প সময়ের মধ্যে সংঘের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির রহস্য।"
মহাত্মা, "আমি সত্যিই খুব খুশি। আপনার প্রচেষ্টায় দেশ অবশ্যই উপকৃত হবে। আমি শুনেছি ওয়ার্ধা জেলায় সংঘের বিশাল অনুসারী অর্জিত হয়েছে"।
আবার মহাত্মা, এত বড় প্রতিষ্ঠানের খরচ মেটাবেন কী করে?
স্বয়ংসেবকরা নিজেরাই ভার বহন করেন, প্রত্যেকে তার সাধ্যমতো গুরু দক্ষিণা হিসেবে নিবেদন করেন। এই সমর্পণই সঙ্ঘের আর্থিক সমস্যা মিটিয়ে থাকে।"
বৈঠকটির সময় আরও বাড়ানো হয়েছিল তবে ঐগুলি ব্যক্তিগত অনুসন্ধান ছিল। ডাক্তারজি তাকে বলেছিলেন যে তিনি কখনই ডাক্তারি অনুশীলন করেননি তবে তাঁর সময় সংঘের জন্য উত্সর্গীকৃত। সর্বোপরি তার রোগী ছিলেন দেশ ও জাতি, একটি চরিত্র গঠনের চিকিৎসা দিয়ে তার কাজ শুরু হয়ে ছিল।
.
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং ডাক্তারজি:
1940 সালের মে মাসে, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাংলা থেকে একটি আবেদন নিয়ে, ডঃ হেডগেওয়ারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারপর অসুস্থ হেডগেওয়ারের সাথে কথা বলেন , বাংলার আবেদন নিয়ে। হিন্দুদের সম্পত্তি লুট করা হচ্ছে, তারা লুটপাট করছে, তাদের নারীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে মুসলমানদের হাতে। জানালার অবস্থা ছিল সবচেয়ে করুণ। ডাঃ হেডগেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন যে সংগঠন এবং একত্বের তীব্র অনুভূতিই একমাত্র উত্তর।
ডাক্তারজি উত্তর দিয়েছিলেন, "তা পাঞ্জাব হোক বা বাংলা বা অন্য যে কোনও প্রদেশেই হোক না কেন হিন্দুদের দুরবস্থার প্রধান কারণ হলো নিজেদের সংগঠনের অভাব। যতক্ষণ না এটি ঠিক করা না হবে, ততক্ষণ কোনও সমাধান সম্ভব নয়। হিন্দু সমাজকে এক জায়গায় বা অন্য জায়গায়, এই ধরনের যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ঐক্যবদ্ধ ও সঙগঠিত হিন্দু সমাজ একমাত্র উপায়, জাতীয় পুনরুত্থানের একমাত্র ইতিবাচক এবং স্থায়ী উপায়।
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এবং সাভারকর এবং আর,এস,এস:
আর,এস,এস প্রতিষ্ঠার আগে কোলকাতা মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে নেতাজির সঙ্গে দেখা করেছিলেন ডাক্তারজি। সব শুনে সুভাষ তার নির্ধারিত সময় বাড়িয়ে দিলেন। ডাক্তারজির কাছে সব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তিনি বলেন, দেশকে বাঁচানোর এটাই একমাত্র পথ। সুভাষ তাকে আরও বলেছিলেন যে তিনি আগ্রহী কিন্তু তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার সংগঠনে যোগ দিতে তিনি ব্যর্থ ।
জার্মানি যাওয়ার আগে তিনি নাগপুরে আরএসএস সদর দফতরে গিয়েছিলেন কিন্তু ডাক্তারজি কোমায় ছিলেন। সেই দিনের পরেদিন, ডাক্তারজি 1940 সালের 21শে জুন, সকাল 9.27 মিনিটে মারা যান।
ডক্টর সদাশিব গোলওয়ালকর ছিলেন আরএসএস-এর ২য় সরসঙ্গচালক। বেনারসে থাকাকালীন সময়ে ডাক্তারজি তাঁর নাম শুনেছিলেন যে নাগপুরের একজন সদাশিব হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক । কাশীতে প্রবাসের সময় ডাক্তারজি তাঁর সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু ব্যর্থ হন। একদিন নাগাপুরের পথে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে না জেনেও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। হিন্দু সমাজের জন্য এটি একটি মহান দিন ছিল।
নাগপুরের রাস্তায় একজন অপরিচিত লোককে দেখে ডাক্তারজি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি সদাশিব গোলওয়ালকর নন? এইভাবে এই দুই মহান আত্মা একত্রিত হয়।
স্বামী অখণ্ডানন্দ ছিলেন সদাশিব গোলওয়ালকরের আধ্যাত্মিক গুরু। স্বামীজি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের গুরু ভাই এবং রামকৃষ্ণের সরাসরি শিষ্য। দুই বছর সদাশিব সারগাছি আশ্রমে ছিলেন। তিনি গুরু অখণ্ডানন্দকে সকল প্রকার সেবা ও শ্রুশুসা ররেন। একদিন স্বামী অখণ্ডানন্দ তাঁকে বললেন, "আমি ধ্যানের মাধ্যমে রাতে রামকৃষ্ণের সাথে কথা বলব"। পরদিন তিনি সদাশিবকে মন্ত্র দেন। সদাশিব রামকৃষ্ণ মিশনে যোগ দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু স্বামী অখণ্ডানন্দ তাকে আর,এস,এসে যোগ দিতে এবং হেডগেওয়ারের সাথে কাজ করতে বলেছিলেন। এটা ছিল গুরুর নির্দেশ।
বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সদাশিবকে "গুরুজী" বলে ডাকতেন। হেডগেওয়ারের মৃত্যুর পর তিনি আর,এসএঢ়স-এর দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক হন। তিনি প্রাদেশিক শহর থেকে গ্রামে গ্রামে সংঘের প্রসার ঘটান। তিনি বিবিধ ক্ষেত্র শুরু করেন।
একবার ট্রেনে ছিলেন হিরন্ময় মুখার্জি, একজন মহান বাম সংসদ সদস্য। তিনি একই বগিতে গুরুজীর আগমন লক্ষ্য করলেন। গুরুজী পড়া শুরু করলেন। তিনি ডিকেন্সের একটি বই পড়ছিলেন। দেখে তিনি খুশি হলেন । গুরুজীর সাথে কথোপকথনে তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "আর,এস,এসের ভিত্তি কী?
গুরুজি উত্তর দিয়েছিলেন যে তীব্র ভালবাসা আমাদের ভিত্তি।
গুরুজী জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'কমিউনিস্ট পার্টির ভিত্তি কী?
হিরন্ময় মুখার্জি উত্তর দিয়েছিলেন যে আমাদের ভিত্তি হল "ঘৃণা"।
প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপযোগ্য পরামর্শ সংগঠনে গ্রহণযোগ্য। যুক্তিসঙ্গত সহনশীলতা এবং ভালবাসা আর,এস,এসের ভিত্তি। নেতৃত্ব তৈরি করে, আর,এস,এস ভারতকে শক্তিশালী ভারতে পরিণত করছে। আর,এস,এস সমস্ত সংঘাত উপেক্ষা করে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য হিন্দু জীবনকে একটি সংগঠিত জীবনে রূপান্তরিত করছে। সংগঠনটি হিন্দু সমাজে ঐক্যের প্রচার করে। হাজারো বাধা উপেক্ষা করে হিন্দু সমাজ ও সমাজের সহনশীল ও অহিংস চরিত্র বিবেচনা করে সংগঠিত সমাজে পরিণত হচ্ছে।
আবহাওয়া রিপোর্ট: তাপমাত্রা আরামদায়ক . । তাপমাত্রা 32 ডিগ্রী
বর্ষাকাল: নিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে।
সূর্যোদয়: 5.01 A. M
সূর্যাস্ত : , 6.24 P.M
বাংলা ইতি কথা, সোনারপুর, অরবিন্দ, নগর কলকাতা 700150
স্বাধীনভাবে বাচুন, মুক্তভাবে বাঁচুন, ভাল বোধ করুন।











মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমর বাংলা ব্লগে সবাই কে অভিনন্দন। মন্তব্য করতে পারেন।