![]() |
| শ্রী রামকৃষ্ণ এবং বিবেকানন্দ |
শ্রী শ্রীরামকৃষ্ণের বারো জন শিষ্য ভারতের উত্থান ঘটিয়েছিলেন।আজকের আধুনিক ভারতের রূপকথার নায়ক সেই বারোজন শিষ্য আমাদের আজকের সোনার ভারত রচনা করেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ তাদের আলাদা করে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করেছিলেন। প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ এবং স্বামী বিবেকানন্দ সবাইকে কাজ বন্টন করে দিয়েছিলেন। সেই কাজ করতে গিয়ে স্বামী ত্রীগুনাতীতানন্দ চার্চের কোপে হাজার হাজার লোকের মাঝে বোমার আঘাতে সানফ্রান্সিসকোতে মারা যান।
শ্রীরামকৃষ্ণ এবং ভারত যেন এক অদৃশ্য সূত্রে গেথে গিয়েছিল।
![]() |
| স্বামী বিবেকানন্দ |
রামকৃষ্ণের হাজারো শিষ্য ছিলেন তাদের মধ্যে বারোজনের ভেতর তিনি জিজ্ঞাসার উদ্ভব ঘটিয়েছিলেন।মনে রাখতে হবে হিন্দু সভ্যতা প্রশ্ন ও উত্তরের উপর দাড়িয়ে আছে।অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে প্রশ্ন বাণে জর্জরিত করেছিলেন। তাও আবার যুদ্ধক্ষেত্রে । শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়েছিলেন। রাজর্ষি জনক যাজ্ঞ্যবল্ক্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। মৈত্রেয়ীর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন যাজ্ঞ্যবল্ক্য। ভারতীয় এবং ভারতীয় সভ্যতার মূলসূত্র ছিল প্রশ্ন তার উত্তর খোজা।
শ্রীরামকৃষ্ণের প্রশ্নের উত্তর করতো তারা। তারাও পরীক্ষা নিরীক্ষা করতো।রামকৃষ্ণ তাদের সামনে সব বিষয়ের ব্যাখা করতেন।শুধুমাত্র বালক ও যুবক দের নয় তৎকালিন সময়কার বিদ্বৎজনেরা রামকৃষ্ণের কাছে যেতেন তার উপদেশ নিতেন।কে না যেতেন? কেশব সেন,বঙ্কিম চন্দ্র,গিরিশ ঘোষ প্রভৃতিরা তার সাথে একত্রিত হতেন।সামান্য শিক্ষিত ব্যক্তিটি অসামান্য জ্ঞান দিয়ে তাদের মুগ্ধ করেছিলেন।
যুবক ও বালকেরা যারা উপস্থিত থাকতেন তারাও অসামান্য বিদ্বান ও মেধাবী ছিলেন।তাদের অনেকেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দর্শন অধ্যায়ন করেছিলেন সেই বয়সে।সংস্কৃতে ও তারা পন্ডিত ছিলেন। তাই স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণের লক্ষ্য যে জপ তপ করা নয়। ভারতের অবনমন দূর করে এক শক্তি শালি আত্মবিশ্বাসী ভারতের জন্য কাজ কাজ করতে হবে তারা তা বুঝেছিলেন। আজকে বারোজন সন্ন্যাসীর কথা বলবো।
স্বামী ব্রম্মানন্দ এবং রামকৃষ্ণ এবং স্বামী বিবেকানন্দ :
![]() |
| Swami Bhrammananda and Vivekanand |
বিশ্ববিখ্যাত রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের নেতা স্বামী ব্রম্মানন্দ।তিনিই বিবেকানন্দের হাত থেকে এই কাজ পান। সকলের ঘনিষ্ঠ রাখাল মহারাজ। জন্ম 1863 সালের 21 শে জানুয়ারি চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের কাছে শতকরা করলেন গ্রামে।ছোট্ট বালক আসে কলকাতায় মামার বাড়িতে পড়াশোনা করতে।কলকাতার ট্রেনিং একাডেমীর সহপাঠী নরেনের সাথে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ।কঠোর ব্রম্মচর্য্য পালন ও সারারাত জেগে ব্রম্মের ধ্যান।
এক সময় কোন্ননগরের ডাক্তার ভুবন মোহন মিত্রের কন্যার সঙ্গে তার বিবাহ হয়।তার নাম ছিল রাখাল।নতুন জামাইকে প্রণাম করতে মিত্র বাড়ির সবাই দক্ষিণেশ্বরে হাজির। রাখালকে দেখা মাত্র ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলে উঠলেন- 'এ যে ব্রজের রাখাল ', প্রণাম করার পর বলেন-'আবার আসিস'।ঠাকুরের এই কথা আকর্ষণ করে ,তাকে আবার দক্ষিণেশ্বরে নিয়ে আসে।এক সময় সংসার ত্যাগ করেন তিনি।সব কিছুই ছেড়ে এক সময় দক্ষিণেশ্বরে,কিন্ত কথার মাঝে শ্বশুর বাড়ির কথা আসে।
এমন সময় ঠাকুর দেখা দিলেন।সে ছুটে এলো দক্ষিণেশ্বরে। কোমল কঠিন রামকৃষ্ণ তাকে গড়ে তোললেন।তৈরি হয় রামকৃষ্ণের মানস পুত্র। রাখাল দুঃখী ভারত মায়ের দুঃখ দূর করতে এসেছে।শ্রী শ্রী ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের অস্হি ও মুর্ত্তি নিয়ে তৈরি হয় বরাহনগরের মঠ।স্বামীজি যখন বিদেশ থেকে ফিরলেন তখন তাকে প্রণাম করে বললেন," প্রণাম মহারাজ "। প্রণাম ,বলে তাকে বললেন "প্রণাম কেনরে ভাই?"
স্বামীজির কথার উত্তরে বললেন,"গুরুবৎ গুরুপুত্রেষু"।
এই ভাবেই দুই আত্মা ভারত আত্মার পথে যাত্রা করেছিলেন। স্বামীজি স্বামী ব্রম্মানন্দ কে রামকৃষ্ণ মিশনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এতো ! নব ভারতের নব উত্থানের কেন্দ্রস্হল। মহাপ্রয়াণ ঘটে 1922 খৃষ্টাব্দের 10 এপ্রিল।
স্বামী প্রেমানন্দ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ এবং বিবেকানন্দ।
![]() |
| Swami Premananda Right |
1861 খৃষ্টান 10th December,Hoogly, জেলার আটপুরে জন্ম ।পিতা শ্রীযুক্ত তারাপদ ঘোষ।
ছোট্ট বাবুরাম আটপুর থেকে এল মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউটের ছাত্র হয়ে পড়া শুনো করতে।শ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের কথামৃত লিখে জগত বিখ্যাত হয়েছেন শ্রী মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত। তাকে সবচেয়ে ভালো লাগে।এই মাষ্টার মহাশয়ের হাত ধরে দক্ষিণেশ্বরে এসে উপস্থিত। এই মাষ্টার মহাশয়ের হাত ধরেই দক্ষিণেশ্বরে শ্রীশ্রী ঠাকুরের কাছে হাজির। পড়াশোনা শেষ হলো না কিন্ত দক্ষিণেশ্বরে যাওয়া আসা বাড়তে লাগলো।একদিন মাতা মাতঙ্গীনি দেবীকে নিয়ে গেলো দক্ষিণশ্বরে।মা ঠাকুর কে বললেন আমার ছেলের ঈশ্বরে যেন মতি থাকে।শ্রী শ্রী ঠাকুরের সাহচর্যে তার দিন কাটে মহানন্দে।একদিন তার মায়ের আদেশে সব বন্ধুদের নিয়ে আসেন আটপুর বাড়ীতে। এই আটপুর গ্রামেই তারা সন্ন্যাস গ্রহন করেন।শপথ নেন এই বলে হিন্দু সমাজকে সন্ন্যাস ধর্মের মাধ্যমে গড়ে তোলবেন এক সংগঠিত হিন্দু সমাজ এবং তা হবে খৃষ্টান আদলে।সন্ন্যাসীদের নতুন নামকরণ হলো। বাবুরামের নাম হলো প্রেমানন্দ। সেবা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। ম্যালেরিয়া ও কালাজ্বরে তিনি নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করতেন।এই ভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।এবং পরমাত্মায় মিলিয়ে যান।1918 সালের 30th July তে পরমত্মায় মিশে যান।
শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং স্বামী বিবেকানন্দ এবং স্বামী অভেদানন্দ:
![]() |
| Swami Avedananda And Swami Adwitananda |
শ্রী শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের কথা লোক মুখে শোনে এক আনমনা বালক ছুটছে দক্ষিণশ্বরের পথে।মন্দিরে প্রবেশ করেই বালকটি জানতে চাইলো মন্দিরের পুরোহিতের কাছে ,"এখানে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস থাকেন? "
"হ্যাঁ, তিনি থাকেন ।এখন তিনি কলকাতায় গেছেন" পুরোহিত বললো।হতাশ হয়ে বালকটি সেখানেই বসে পড়লো। মন্দিরের আরতির পর গাড়ী থেকে নামলেন ঠাকুর ।কালী,কালী বলে তিনি মন্দিরে ঢুকলেন ।ঠাকুরের কথায় বালকটি সেদিন দক্ষিণশ্বরে রাত্রিবাস করে।পরের দিন ঠাকুরের আশীর্বাদ নিয়ে বাড়ি ফিরল বালকটি।1866 সালের 2রা অক্টোবর ছেলেটির মাতা শ্রী নয়নতারার গর্ভে জন্ম গ্রহন করেন তিনি। তার বাবার নাম রসিকলাল চন্দ্র।বালক কালীপ্রসাদ থেকে কালি তপস্বী ,তপস্বী থেকে নাম হয় স্বামী অভেদানন্দ। তার পর স্বামী বিবেকানন্দের নির্দেশে বিদেশ পাড়ি।স্বামী বিবেকানন্দের কথা অনুসরণ করে ভারতবর্ষকে তোলে ধরেন স্বামী অভেদানন্দ। পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানী ও দার্শনিকের কাছে তার ছিল অবাধ গতি। 1939 খৃষ্টাব্দে 8th September তিনি ইহধাম ত্যাগ করেন।
স্বামী ত্রীগুনাতীতানন্দ এবং ঠাকুর রামকৃষ্ণ এবং স্বামী বিবেকানন্দ,
![]() |
| Swami Turiananda (Left)And Swami Triguniatananda |
24 পরগনা জেলার পাইকাহাটির জমিদার বাড়ী।মাতুলালয়ে 1865 খৃষ্টাব্দের 30th জানুয়ারীতে তার জন্ম হয়। তার নামকরণ হয় সারদাপ্রসন্ন ।শিশুর জন্ম লগ্ন খুউব ভালো ।গনৎকার বললেন শিশু নিশ্চয়ই মহাপুরুষ হবে।মাত্র চৌদ্দ বৎসর বয়সে চন্ডিপাঠ থেকে বিভিন্ন স্ত্রোত্রম পাঠ করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে।পিতা শিবকৃষ্ঞ মিত্র তাকে কলকাতায় এনে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউটশন স্কুলে ভর্তি করে দেন। সেখানেই মাষ্টার মহেন্দ্রনাথ গুপ্তের সাথে পরিচয় হয়।মহেন্দ্রনাথ গুপ্তের সাথে তিনি দক্ষিণশ্বরে যান। তার ধর্মের দিকে ঝোঁক দেখে বাবা গোপনে বিবাহের ব্যবস্থা করেন। সারদাপ্রসন্ন স্তম্ভিত। তিনি রামকৃষ্ণের সাথে দেখা করে পুরী চলে যান। বাবা মা তাকে পুরো থেকে ফিরিয়ে আনেন। পরীক্ষায় ভালো করলেন।ত্রিগুনাতিতানন্দ নাম নিয়ে সন্ন্যাসী হলেন।তিনি উদ্বোধন পত্রিকাটি বের করলেন।এবং সমাজে তাকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। তারপর তিনি রওনা হলেন পাশ্চাত্যের পথে।আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো তে। হাজার হাজার লোকের সমাবেশে তিনি বক্তৃতার দেওয়ার সময় ষড়যন্ত্র কারিদের বোমার আঘাতে আঘাত প্রাপ্ত হন। হাসপাতালে কোন আঘাতের জন্য দুঃখিত হননি।তিনি এক শিষ্য কে বলেছিলেন যে স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম দিনে তার মৃত্যু হবে।তাই হয়েছিল। 1915 সালের 12th January পরমলোকে চলে যান।
স্বামী অখন্ডানন্দ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ এবং স্বামী বিবেকানন্দ:
![]() |
| Swami Latto Maharaj And Swami Akhananda |
ভারত এবং নব ভারত ইতিহাসে তার নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে।কলকাতা মানিকতলা ঘাট স্ট্রিটে মহালয়া তিথিতে তার জন্ম। সাতটি 1864 সালের 30 সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জন্ম গ্রহন করেন।শিশুটির নাম হলো গঙ্গাধর। ছোট থেকেই নিষ্ঠাবান সাধক। বাগবাজারের দেবনাথ বসুর বাড়ীতে শ্রী শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের আগমন ঘটেছে তাই শুনে বালক গঙ্গাধর ছুটে এলো।তিনি দক্ষিণশ্বরে গিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের স্নেহ স্পর্শে নতুন জগতের সাথে চেনা হলো।সন্ন্যাস নেওয়ার পর মুর্শিদাবাদ সারগাছিতে এসে পৌছলেন। দেখলেন গঙ্গাতীরে একটি ছোট মেয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।তিনি জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন। তারা খুব গরীব।একটি কলসি নিয়ে এসেছিল তাও ভেঙ্গে গেছে। একে সন্ন্যাসীরা নিজের খাবার জোটাতে খুব কষ্ট করেন ।তার কাছে থাকা সব পয়সা দিয়ে দিলেন ।তার পর গরীব মানুষের লাইন পড়ে গেল।সেখানে শুরু করেন সেবা কাজ ধীরে ধীরে সারগাছিতে আশ্রম করেন।
তিনি দেশ প্রেমিক। চরকা কাটতেন।তাত বুনে কাপড় পড়তেন। আবার পরিব্রাজক ছিলেন।
সারগাছি আশ্রমে আসেন দ্বিতীয় স্বরসংঘ চালক মাধব সদাশিব গোলওয়েলকার। যিনি গুরুজী নামে পরিচিত। তিনি আশ্রম থেকে অখন্ডানন্দের কাছ থেকে দীক্ষা দেন।দু বছর তার সেবা করেন।1937 সালের 7th February এই আধ্যাত্মিক মানুষটির অনন্তের শ্রীরামকৃষ্ণের সাথে এক হয়ে যান।
স্বামী বিজ্ঞানানন্দ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দ:
![]() |
| Swami subodananda And Swami Bijananda |
হরিপ্রসন্নের জন্ম হয়1868 সালের 28th October in the 24 Parganas.পিতা তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়। পিতা মাতার আদরের পুত্র হরিপ্রসন্ন ছিল মেধাবী।বিদ্যলয়ের শিক্ষা সমাপনের পর বিহারের বাকীপুর গিয়ে পাটনা কলেজ থেকে স্নাতক হন এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য পুনা যান।মেধা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক কষ্টের কারণে পরীক্ষায় বসতে পারেনি।বড়দির আর্থিক সহযোগিতায় পরিবর্তী বছরে পরিক্ষায় বসে পাশ করে যান। একটি সরকারি কাজে যোগ দেন।উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন শহরে কাজ করেন।সংস্কৃত ছাড়াও দর্শন ও ধর্ম,জ্যোতির্বিজ্ঞান অসাধারণ জ্ঞান ছিল। শ্রী শ্রীরামকৃষ্ণের কথা শুনেছিল লোকমুখে।একদিন দেওয়ান গোবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে রামকৃষ্ণকে দেখেন। বন্ধু প্রতিম শরৎ মহারাজের এবং বরদা পালের সঙ্গে তিনি দক্ষিণশ্বরে আসেন এবং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের স্নেহ সম্পর্কে বাধা পড়েন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের টানে এই যুবক দক্ষিণশ্বরে যাতায়াত করতে থাকেন। একদিন চাকরি ছেড়ে আলম বাজার মঠে যোগদান করেন।তারপর স্বামী বিবেকানন্দের অনুরোধে তিনি1896 সালে বিজ্ঞানানন্দ নাম নিয়ে তিনি সন্ন্যাস গ্রহন করেন।কঠোর সাত্ত্বিক জীবন যাপন করে ও তপ জপ করে দিন কাটাতেন।
তিনি ইঞ্জিনিয়ার দের পরামর্শে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের কাজ শুরু ও সম্পন্ন করেন।তিনি মঠ ও মন্দির তৈরি করেন। তিনি 1938 সালের 25th April স্বর্গ বাসি হন।রামকৃষ্ণ মিশনের চতুর্থ অধ্যক্ষ হয়েছিলেন ।
স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ এবং বিবেকানন্দ:
![]() |
| Swami Sibananda And Swami Ramakrishnananda |
হুগলি জেলার ময়াল ইছাপুর গ্রামে 1863 সালে 13th July আষাঢ়ের কৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে তার জন্ম হয়। পিতা ঈশ্বর চন্দ্র চক্রবর্তী গৃহ আলো করে এল এক শিশু যার নাম হলো শশী।ছোট বেলা থেকেই,মেধাবী ও বুদ্ধিমান। কলকাতায় এসে পড়াশোনা শেষে চাকরি শুরু করলো শশী।ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে ছিল অজ্ঞ। শরতের এক শুভ লগ্নে শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ।প্রথম দর্শনে মিলেছে তার চির পাওয়ার ধন। শশীর সেবা ভাব ছিল অতুলনীয় ।গুরুসেবা ও গুরুনিষ্ঠাতেই সে করেছিল সিদ্ধিলাভ।কি অপূর্ব তার গুরুভক্তি।আটপুরে সন্ন্যাস নেওয়ার সময় থেকে তার নাম হলো স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ। শশী মহারাজ ত্রিবাঙ্কুর,মহীশূর,চেন্নাই ও ব্রম্মদেশে মঠ তৈরি করেন।1911 সালের আগষ্ট মাসে তিনি অনন্তে মিলিয়ে যায়।
স্বামী নিরন্জনানন্দ এবং স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ :
24 পরগনর বিষ্ণুপুর গ্রামে তার জন্ম। তিনি কলকাতায় আসেন মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করবেন। 1862 সালের শ্রাবণ পূর্ণিমাতে তার জন্ম। শ্রীরামকৃষ্ণের দেখা করতেই তিনি বলে উঠলেন সারাদিন যদি ভূত ভূত করো তবে ভূত বিশেষ হবে আর যদি ঈশ্বর ঈশ্বর করো তবে দেবতাদের হবে।কিন্তু মামা বাড়ির কড়া শাসন থাকা সত্ত্বেও শ্রী শ্রীরামকৃষ্ণে সাক্ষাৎ হতে লাগলো। ভগবান,ও পরমদেবতা বলে স্বীকার করলো শ্রীরামকৃষ্ণকে। আটপুর গ্রামে গিয়ে সন্ন্যাস নিলেন।নাম হলো নিরন্জনা নন্দ।গুরুভক্তি ছিল অপরিসীম ।1904 খৃষ্টাব্দের 9th মে পরলোকে গমন করেন।
স্বামী তুরীয়ানন্দ এবং রামকৃষ্ণ এবং বিবেকানন্দ: হরিলুটের সময়কার জন্ম হয় বলে তার বাবা মা তার নাম রাখেন হরি নাথ।বাগবাজার ও বাগবাজারের বসু এবং বসু পাড়ায় তার বাড়ি। জন্ম হয় 1863 সালের 3rd January. কনিষ্ঠ সন্তান বলে সবার আদরের।পিতার নাম শ্রীযুক্ত চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং মাতার নাম শ্রী প্রসন্ন দেবী।কিন্ত মাত্র তিন বছর বয়সে মাতৃহারা , বোউদির কাছে মানুষ হতে লাগলো।বাংলা ইস্কুলে পড়াশোনা,শরীর চর্চা, সংস্কৃত ও শাস্ত্র আলোচনা।মাত্র বারো বছর বয়সে পিতৃহারা হলেন।দু:খ শুধুমাত্র বাড়ে কমে কই!কলকাতার এক বাড়ীতে শ্রীরামকৃষ্ণ এসেছেন শুনে তাকে দেখতে গেলেন।
ঠাকুর জানতে পারলেন হরণাথ বেদান্ত বিচার করে।শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন," ব্রম্ম সত্য জগত মিথ্যা"।এই কথা তার দুচোখে জলের ধারা। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের দিকে।কোথায় যেন ভাসিয়ে নিয়ে গেল তাকে।ধীরে ধীরে ঠাকুরের কাছে ধর্ম শিক্ষা। ধীরে ধীরে শ্রী শ্রী ঠাকুরের কাছে ধর্ম শিক্ষা।একদিন ঘরদোর ছেড়ে সন্ন্যাসীর বেশ ধারণ করলেন।নাম হলো তুরীয়ানন্দ।বিভিন্ন তীর্থ স্হানে সাধনা করলেন এবং পাড়ি দিলেন সমুদ্র পাড়।কেম্ব্রিজ সানফ্রান্সিসকো এবং নিউইয়র্ক প্রভূতিস্হানে।সাবলীল ইংরেজী বলেন।যেখানেই যান সেখানেই ছেলেরা ছেকে ধরে মানুষ। বিদেশে ছেলেমেয়েরা ঘিরে ধরতো তাকে। 1922 সালের 21 শে জুলাই স্বর্গ বাসি হন।
স্বামী সারদানন্দ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ এবং বিবেকানন্দ:
![]() |
| Swami Swaradananda |
পিতা শরতের হাত ধরে বললেন," তোমাকে ধরে রাখতে পারলাম না।কিন্ত তুমি যে পথে গেছো সে পথে ইষ্ট সাধন হয়। যে পথে গেছো সে পথে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে"।
আটপুরে পিতা গিরিশ চন্দ্র চক্রবর্তী ও মাতা শ্রী যুক্ত নীলমণি দেবীর সম্মুখে তিনি সন্ন্যাস নেন তার নাম হয় শ্রী সারদানন্দ।অপরিসীম মাতৃভক্তের কারনে তিনি প্রতিদিন যেতেন মাকে দেখতে যেতেন দক্ষিণশ্বরে। সঙ্ঘ জননী মা সারদা এবং সারদা দেবীর মাধ্যমে ধর্ম শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। বিবেকানন্দ সোসাইটির সব মায়েরা ধর্ম শিক্ষা পেতো।তারপর স্বামী বিবেকানন্দের সহকারি হয়ে সূদূর পাশ্চাত্যে।1865 সালের 23rd December এ পৃথিবীতে এসেছিলেন। 1927 সালের 19th August ধরধাম থেকে বিদায় নেন।
স্বামী শিবানন্দ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ এবং স্বামী বিবেকানন্দ:
তারকদা! তিনি তো সাধারণ সন্ন্যাসী নন,তিনি যে মহাপুরুষ। সবার কাছে পরিচিত মহাপুরুষ মহারাজ নামে। রামকানাই ঘোষালের ছেলে তারক নাথ1854 সালের 16th November জন্মগ্রহণ করেন।মাতার নাম বামা সুন্দরী। তারকনাথ বন্ধুদের কাছে শুনেছে দক্ষিণশ্বরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের কথা। দক্ষিণশ্বরে পরিচিত হন প্রাণের দেবতার সাথে।শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের সংস্পর্শে এসে তার হৃদয় গঙ্গা প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।পন্চবটিতে ধ্যানভ্যাস করেন।প্রভু শ্রীরামকৃষ্ণের জয়ধ্বনি ও প্রচার কার্যে মাদ্রাজ সিংহল যাত্রা।হিমালয়, আলমোড়া , কাশী, নাগপুর ও পূর্ব বাংলার যেখানেই যান সেখানেই তাকে মানুষ দেয় অর্ঘ্য। সমাজের শ্রদ্ধাবোধ তাকে উৎসাহিত করে তোলে। শ্রীরামকৃষ্ণের মত ও পথে নিজকে বিলিয়ে দিয়ে1934 সালের 20 February অনন্তের পথে যাত্রা করেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস এবং মানস পুত্র স্বামী বিবেকানন্দ:
তিনি ছিলেন বাকী এগারো জনের সেনাপতি।শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস জানতেন আগামীতে কি হতে চলেছে? এক অধ:পতিত জাতিকে টেনে তোলার দরকার। তাই সেনাপতির দরকার ।স্বামীজি নেতা ঠিক হয়েই এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ তার পৃথিবীতে আসার পূর্বে কি ঘটেছিল তা আমাদের বলেছেন। সেই কথা আমাদের এই অনুমান করতে বলে যে তিনি যে ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসেছিলেন।
অধঃপতিত জাতি।আশা আকাঙ্খা সব নির্বাপিত।অপমান ও অত্যাচারে একটা জাতি চরিত্র হীন হয়ে পড়েছে।নেতাজী বলেছেন চরিত্র নির্মাণে স্বামী বিবেকানন্দের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। তিনি হীন জাতিকে টেনে তোলার জন্য গুরু ভাইদের কাজ ভাগ করে দিলেন। ভারত কে বিদেশে তোলে ধরলেন তার সনাতনী ধর্মীয় রূপ নিয়ে।আধ্যাত্মিকতা বেদ বেদান্ত ভারতের মূল পরিচয়। বিদেশ পাঠালেন ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত , প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দর্শনে ইতিহাসে পন্ডিত গুরু ভাইদের।স্বামী অভেদানন্দ,ত্রীগুনাতীতানন্দ, তুরীয়ানন্দ এবং সারদানন্দকে।আমেরিকা ও ইউরোপের দার্শনিক ও পণ্ডিত এবং বিজ্ঞানীদের কাছে তোলে ধরলেন প্রাচীন ভারত কে বিবেকানন্দ ও তার গুরু ভাইরা। পাঠালেন আরও দুই গুরুভাইকে সিংহল, ব্রম্মদেশ।ভারতের এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত ঘুরে বেড়ালেন নিজে।ক্ষুধা দারিদ্র্য কে সঙ্গে করে পদব্রজে ঘুরে বেড়ালেন নিজে।কখনও কখনও ধর্ম চর্চা।বিভিন্ন বাড়িতে অতিথি।শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের ঐশ্বরিক কল্পনায় সব চলতে লাগল। টগবগ করে ফুটছে প্রাণশক্তি।কথার ফোয়ারা নয়। কর্ম যোগী তৈরি করতে হবে। হিন্দু সমাজের রক্ষনশীলতার দরজায় আঘাত করলেন। জাত পাতকে বললেন পাপ।ভয় , ভীরুতা এবং আলস্য হতে মুক্ত হবার আহ্বান জানালেন।
স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ছড়িয়ে পড়লো ভারতের তথা হিন্দু সমাজে।বিপ্লবীদের মাঝে স্বামী বিবেকানন্দ তড়িতাহতের কাজ করলেন ।ভারত এবং ভারতের হিন্দুদের ভেতর নব চেতনার সন্চার হলো। বিপ্লবীদের কাছে মন্ত্র স্বরূপ দেখা দিল তার বাণী।
আমেরিকান শিষ্যদের কাছে বললেন হিন্দুত্বই হবে পৃথিবীর ছাতা।মাটিতে ওম একে বললেন আগামী পৃথিবীর চিহ্ন হবে এইটি।এই ওমের লেজ টি মোটা।আর বললেন আমার ভাইব্রেশন আগামী 1500 বছর থাকবে।
ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন পথের সন্ধান দিলেন জামসেদজি টাটাকে। বিবেকানন্দের পরামর্শে ভারতের শিল্প জগত শুরু করলো যাত্রা ।রকফেলার ও ফোর্ডকে স্বামী বিবেকানন্দ পথ দেখান জগতের সেবা করার জন্য। তাকে তারা অনুসরণ করেছেন। এখন সেই পরিবার গুলো হিন্দু জীবন পদ্ধতি মেনে চলে।
জগদীশ চন্দ্র বোস যখন ইউরোপে তার সাথে ছিলেন স্বামীজি।প্যারিসে গেলেন স্বামীজি জগদীশ বসুর সাথে।বিজ্ঞান সাধক ও ভারত সাধকের গন্তব্য যেন ভারতবর্ষ।
জ্ঞানের জগতের তিনি বিচরনশীল।লিও টলষ্টয়,রমারলা এবং প্রফেসর রাইটের মতো লোকেরা তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকট করেছেন।প্রবন্ধের পর প্রবন্ধ লেখা হয়েছে তাকে নিয়ে।
স্বামী বিবেকানন্দ এক অসাধারণ বাগ্মী ,এক তেজোদীপ্ত সন্ন্যাসী, এক মহাজ্ঞানী, অসাধারণ সুসংগঠক ও আধ্যাত্মিক যুগপুরুষ।আসমুদ্র হিমাচল নয় পৃথিবীর নানা প্রান্তে তার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।এই যুগ পুরুষ অফুরন্ত তেজ নিয়ে নির্জীব জাতির দেহে প্রাণ সন্চার করেছেন।
স্বামী বিবেকানন্দের বাণী অমর অক্ষয়।তিনি নিজে বলেছেন আমার বাণী 'অশরিরী বাণী' এবং ' আমি জগতের নৈর্ব্যক্তিক সত্তা'।মাত্র 40 বছরে জীবন ।পৃথিবীর নানা প্রান্তে তিনি আজও যেন শারীরিক হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।











মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমর বাংলা ব্লগে সবাই কে অভিনন্দন। মন্তব্য করতে পারেন।