শ্রীক্ষেত্রের রথ। পুরীর রথযাত্রা সংহতি ও একতার রথযাত্রা।ঈশ্বর ভক্তের সাথে মিলিত হন।সমাজের চৈতন্য যাত্রা ।জগন্নাথের আনন্দ যাত্রা। আনন্দ বাজার এবং আনন্দ বাজার।
![]() |
| রথযাত্রার মহামিলন |
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষ। মহাভারত তার নির্ণয় সম্পন্ন করেছে।অধর্মের সাথে ধর্মের লড়াই শেষ হয়েছে ।ধর্ম জয়ী হয়েছে।
শরশয্যায় পিতামহ ভীষ্ম। গান্ধারীর কোন কথা ধৃতরাষ্ট ও দুর্যোধন শোনেনি।গান্ধারী কুরুক্ষেত্র পরিদর্শনে এলেন এবং দেখতে পেলেন অসংখ্য মৃতদেহ।শিয়ালে ও গৃধিণীতে খাচ্ছে। মন ব্যাথায় ভরে উঠলো।
তিনি হতাশা ও ক্রোধে বিচলিত হলেন।শোক ও সন্তাপে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন।ক্রোধ ও হতাশা তার বুদ্ধিকে হরণ করলো।তিনি মনে করলেন শ্রীকৃষ্ণ এই যুদ্ধে রুখতে পারতেন। সেই মানসিক স্থিতি থেকে তিনি শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীকৃষ্ণ কে অভিশাপ দিলেন যে তার অপঘাতে মৃত্যু হবে।
প্রায় 36 বৎসর পর তার অপঘাতে মৃত্যু হলো। জরা নামে এক ব্যাধ তাকে মৃগ ভেবে তীর ছুড়লো।সেই তীরে তার মৃত্যু হয়।তার মৃতদেহ সৎকার করার জন্য সমুদ্র তীরে নিয়ে আসা হলো ।অর্জুন ও সুভদ্রা ছুটে এলেন।সুভদ্রা তা শ্রীকৃষ্ণ কে মৃত দেখে প্রাণত্যাগ করলেন।
যাদবরা সব মারা গেছে প্রভাস তীর্থে।দ্বারকা পুরুষ শুন্য। অর্জুনকেই সৎকারের সব ব্যাবস্থা করতে হলো।দেহ অর্ধদগ্ধ অবস্থায় সমুদ্রের ঢেউ এ ভেসে গেল। শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব নির্ধারিত আদেশ অনুযায়ী তিন দারুখন্ডে অস্হি পেচিয়ে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিলেন।শ্রীকৃষ্ণ ইচ্ছানুযায়ী পূর্ব ভারতে তিন দারুখন্ড পৌছবে। সেখানে তার পূজা হবে।শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম ও সমুদ্রের তিন জনই মারা গেলেন। এবং এও জানিয়েছিলেন বিশ্বাবসু নামে এক শবর রাজা এ দারু কাষ্ঠ খোজে পাবে এবং শ্যামসুন্দর নীলমাধব নামে পূজিত হবেন।
বিশ্বাবসু নামে এক শবর রাজা এই অঞ্চলে বাস করতো। সে সমুদ্র থেকে এই কাষ্ঠ জোগাড় করে এবং গভীর অরণ্যে মন্দির বানিয়ে পূজা শুরু করে। এই অঞ্চলেই মার্কন্ডেয় ঋষি বাস করতেন।
ইন্দ্রদম্ন্যু এক রাজা ছিলেন। তিনি ছিলেন ভগবান রামচন্দ্রের পূর্ব পুরুষ। তিনি স্বপ্নে আদেশ পান নীল মাধবের পূজা করতে।তিনি বিশ্বাবসুর কাছে নীলমাধবকে চাইলেন।বিশ্বাবসুর কাছ থেকে তিনি তা পাননি।
ইন্দ্রদম্ন্যু দিকে দিকে পন্ডিত পাঠালেন নীলমাধবের খোঁজে ।সবাই ব্যার্থ হয়ে ফিরে এলো।বিদ্যপতি নামে এক পন্ডিত অসুস্থ হলেন।তিনি শ্রীকৃষ্ণ কন্যা ললিতার সেবায় সুস্থ হয়ে উঠেন এবং তাকে বিয়ে করেন।শবর কন্যার মাধ্যমে সে জানতে পারলো নীলমাধব তার কাছেই আছে।
![]() |
| পুরীর মন্দিরের |
ইন্দ্রদম্ন্যু আবার বিশ্বাবসুর কাছে নীলমাধব প্রার্থনা করলেন। কিন্ত বিশ্বাবসু নীলমাধব কে দিতে অস্বীকার করলো।যুদ্ধের পরিস্থিতি।তখন আবার স্বপ্ন দেখেন ইন্দ্রদম্ন্যু ।তিনি স্বপ্নের মাধ্যমে জানতে নীলমাধব মন্দিরে অধিষ্ঠিত হবেন না।তিনি দারুখন্ড রূপে পূজিত হবেন।তার জন্য মন্দির চাই।সমুদ্রে যথা সময়ে ভেসে আসবে দারুখন্ড। নিম কাষ্ঠ ই দারু।তিনি বৃক্ষ রূপে পূজা গ্রহন করবেন।
রাজা তপস্যায় বসলেন। তিনি ঈশ্বর প্রেরিত সমুদ্রে ভেসে আসা দারুখন্ড লাভ করলেন। এবং এই দারুখন্ডে তৈরি বিগ্রহ, দেবতা রূপে পূজিত হবে। মন্দির তৈরি হলো।মুর্ত্তি তৈরি করতে বিশ্বকর্মা এলেন। বিশ্বকর্মা মুর্ত্তি তৈরি করবেন কিন্ত তিনি তা তৈরি করবেন বন্ধ ঘরে ।সেখানে কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ হলো।
![]() |
| চৈতন্য প্রেম রথযাত্রা |
কিন্ত রাজা বদ্ধ ঘরে কি হচ্ছে দেখার জন্য উদগ্রীব হলেন। তিনি বদ্ধ ঘরে প্রবেশ করতেই বিশ্বকর্মা অন্তর্নিহিত হলেন। রাজা ও রাণী কাঁদতে বসলেন। এমন সময় দৈব বাণী হলো আমার বিগ্রহ অর্ধ সমাপ্ত অবস্থায় পূজিত হবে।সেই থেকে পুরিতে পূজা শুরু হলো।
মান্যতা দেওয়া হলো শবরদের, তারা মহাভোগ তৈরি করবে।সেই মহাপ্রসাদ সবাই গ্রহন করবে।দেবী গৌরি বিষ্ণুকে বললেন আমার প্রসাদ যেন কোনদিন বন্ধ না হয়।বিষ্ণু দেবী গৌরিকে বিমলা রূপে প্রতিষ্ঠিত করলেন শ্রীক্ষেত্রে।
আনন্দ বাজার এবং আনন্দ বাজার:
মানুষ রথের দড়ি টেনে ঈশ্বরের সাথে একাত্ম হতে চেষ্টা করে।সবাই সমান,ঈশ্বর ভেদাভেদ দেখেন না ,এই বার্তা দেয় রথযাত্রা।রথযাত্রা এবং রথযাত্রা এক ঈশ্বরীয় আনন্দ এবং আনন্দ।
রথ যাত্রার প্রস্তুতি কবে থেকেই শুরু হয়?
পুরীকে বলা হয় শ্রীক্ষেত্র।শ্রীকৃষ্ণের এবং শ্রীক্ষেত্রে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়াতে রথযাত্রার প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়। পুরীর রথ প্রতিবছর রথ তৈরি হয়।পুরীর রথ আনুষ্ঠানিক ভাবে তৈরির কাজ শুরু হয়।বহু আগে রক্ত চন্দন আর পদ্মকাষ্ঠ দিয়ে রথ তৈরি হতো। এখন আর হয় না।কিছুকাল আগে দোতলার ও রণপুরের জঙ্গল থেকে কাষ্ঠ আসতো।দোতলার রাজা এই কাঠ যোগাতেন।এখন সরকার দেয়।এই রথ প্রতিবছর তৈরি হয়।
পুরীর রথ তৈরি করেন 150 জন কারিগর। তারা এই কাজ হাজার হাজার বছর ধরে করছেন।
রথের মূলকাঠামো উপর পাটাতন দিয়ে তৈরি করা হয় মন্চ।সেখানেই থাকে সিংহাসন ঘর।এর উপর লোহার রড ও কাঠ দিয়ে পুরীর মন্দিরের মতো ধাচা তৈরি করা হয়।
পুরীতে কয়টি রথ তৈরি হয় ?
রথ তিনটি তৈরি হয়।শ্রী শ্রী জগন্নাথের রথ।শ্রী শ্রী বলরামের রথ।শ্রী শ্রী সুভদ্রার রথ।তিনজনের রথ তিন রকমের।
শ্রী শ্রী জগন্নাথের রথ কে বলা হয় নান্দী ঘোষ বা গরুড় ধ্বজ।এই রথের চাকা থাকে 16 টি।রথের কাষ্ঠ লাগে 832 টি।এই রথের উচ্চতা 33 হাত পনের আঙুল। এই রথের ধ্বজ তৈরি হয় চন্দন কাষ্ঠ দিয়ে।রথের সারথি হলেন দারুকা।নন্দী ঘোষের অশ্ব থাকে চারটি। শাখ,বলাহক,শ্বেতা এবং হরিদাস। এই রথ প্রথম তৈরি করেন বিশ্বকর্মা ।
বলরামের রথকে বলা হয় তাল ধ্বজ। এই রথের চাকা 14 টি।760 টি কাষ্ঠ টুকরো ব্যবহার করা হয়।তালধব্জের উচ্চতা 32 হাত দশ আঙুল। এই রথের সার্থক হলেন মাতালি।রথের চারটি বাহক হলেন তীব্র,ঘোঢ়,দীর্ঘশরণ ও বাসুদেব ।আর সাথে থাকেন তদন্তকারী,হরিহর,ত্রৈম্বক,অঘোর,প্রলম্বরী,নম্বর,ত্রিপুরা শিব এবং মৃত্যুঞ্জয়।এই রথ প্রথম বানান ময়দানব।
সুভদ্রার রথের উচ্চতা 31 হাত।এর চাকা মোট 12 টি।সুভদ্রার রথকে বলা হয় দর্পদলন। এই রথ তৈরিতে 590 টি রথ কাষ্ঠ লাগে।রথযাত্রার দিন সুভদ্রার শরীরে শাল ও কালো কাপড়।দেবীদুর্গা রথাদীপ।সার্থক অর্জুন। এই রথের চারটি অশ্ব।রুচির,মোচিকা ,জিতা এবং অপরাজীতা।যে দড়িতে রথ টানা হয় তাকে বলা হয় স্বর্ণচূড়। এই রথের দেবী দুর্গ ছাড়া থাকেন চামুন্ডা,কাত্যায়নী,ভদ্রকালী,হরচন্দ্রিকা,কালী,মঙ্গলা ও বিমলা ।
একবার এই রথের চাকা থেমে যায়।কিছুতেই চালু হচ্ছে না।চৈতন্য দেব এবং চৈতন্য দেব তারা মাথা দিয়ে ঠেলে এই রথ চালু করেন।
বৌদ্ধ ধর্ম এবং গৌতম বুদ্ধ এবং রথযাত্রা:
বোধিসত্ব ,বোধিবৃক্ষের নীচে বুদ্ধ এবং হয়ে ফিরে এলেন।হৈচৈ পড়ে গেল চারিদিকে।লক্ষ লক্ষ লোক সমবেত হয়েছে।দর্শন দিতে হবে।কেমন আছেন তাদের রাজকুমার। তিনি তো রাজকুমার নন।তিনি ভগবানের অবতার রূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন।পিতা শুদ্ধোদন দেখতে এসে তাকে প্রণাম করলেন ।সবাই হতবাক। এ যে ভগবান বুদ্ধ। ছেলে ভগবানের রূপ নিয়েছে।জনতা তাকে দর্শন করতে চায়। কি করে নিয়ে যাবেন তাকে? মহারাজ মহাযান তৈরি করলেন। সেই মাহাযানে করে তিনি লোক সকাশে উপস্থিত হলেন।সবাই মহামান্য রথের দড়ি টানলো।সেই রথ টানার পরম্পরা থেকে রথযাত্রা শুরু হলো বৌদ্ধ ধর্মে।
কিছুদিন পর থেকে বিরোধিতা শুরু হলো। বৌদ্ধ ধর্ম হীনযানে এবং মহাযানে ভাগ হয়ে গেল।
সম্রাট কনিষ্ক বির্তক সভার আহ্বান করলেন। সেই বিতর্ক সভায় স্থির হলো পালির বদলে সংস্কৃত হবে রাষ্ট্র ভাষা। রাজ ধর্ম হবে বৌদ্ধ ধর্ম। এবং রথযাত্রা হবে জাতীয় উৎসব। সম্রাট অশোক এই রথযাত্রাকে বিভিন্ন দেশে পৌছে দেন।
![]() |
| রথযাত্রা এক বৌদ্ধ পরম্পরা |
বৌদ্ধরা মনে করে শ্রীশ্রী জগন্নাথ হচ্ছে বৌদ্ধ। সুভদ্রা হচ্ছেন সঙ্ঘ। বলরাম হচ্ছেন ধর্ম। বিগ্রহ অসম্পূর্ণ। কারণ কলিযুগে ভগবান কোন কাজ নিজ হাতে করবেন না।আবার ঈশ্বরের কোন রূপ নেই।তিনি বহুভাবে প্রকাশিত। তিনি অনন্ত। যার রূপ নেই তাই অনন্ত। অনন্ত সাধারণের কাছে অসম্পূর্ণ রূপে ধরা দেয়।
নীলমাধব শবরদের গৃহদবতা।তাদের মান্যতা হলো।"রাম -মা "হলো মাটি ওপৃথিবী।"বিম ই হলো"
![]() |
| শ্রীক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ |
প্রাচীণ কালে পৃথিবীর কোন কোন দেশে রথযাত্রা উদযাপন হতো?
এশিয়ার বিভিন্ন দেশে হতো।কম্বোডিয়া , থাইল্যান্ড,সিঙ্গাপুর সহ অন্যান্য দেশে।লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে 40টি গূহাচিত্রে রথযাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়।
বর্তমানে সানফ্রান্সিসকোতে কবে রথযাত্রা শুরু হয়?
1967 সালে ভক্তিবেদান্ত শ্রীল প্রভুপাদ সানফ্রান্সিসকোতে রথ যাত্রা শুরু করেন। এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রথযাত্রা শুরু হয়েছে।ইসকনের প্রতিষ্ঠিতা।
2024 রথযাত্রার তারিখ কবে?
এবারের রথযাত্রা 29 June 2024. উল্টো রথ 7th July 2024
উল্টো রথ কি? রথ কয়দিন গুন্ডিচা মন্দিরে থাকে?
আসলে জগন্নাথ মাসির বাড়ি যান।তিনি সেখানে থাকেন দশদিন।দশদিন তিনি গুন্ডিচা মন্দিরে থাকেন। তারপর ফেরেন একেই বলা হয় উল্টো রথ।7th July 2024 উল্টো রথে ফিরবেন জগন্নাথ।
আজকের আবহাওয়ার খবর :
Today's Weather:
Temperature is comfortable.
Temperature is 33 degree.
Rainy season:Rainy day
Sunrising : 4.54 A.M
Sunset:6.25 P.M
Bangla iti Katha, Sonarpur Arbinda Nagar Kolkatta 700150.





মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমর বাংলা ব্লগে সবাই কে অভিনন্দন। মন্তব্য করতে পারেন।