ভূমিকা: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং Indian National Army and Subash and Savarkar and Rasbihari Bose এবং আজাদ হিন্দ সরকার। ডারতের প্রথম স্বাধীন সরকার।
 |
| Subash Chandra Bose |
Understanding and short mapping Indian Independence history.
কংগ্রেসের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন নেতাজী।মহাত্মা ,সীতারামাইয়ার হার মেনে নিলেন না।অগণতান্ত্রিক উপায়ে সুভাষ বসুকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করলেন। মহাত্মার গণতন্ত্রের প্রতি কোন শ্রদ্ধাবোধ ছিল না।সময় বসে থাকে না।গান্ধী স্তাবক পরিবৃত্ত হয়ে খৃষ্টীয় অহিংসার বাণী ভারতবাসিকে শুনিয়ে যেতে লাগলেন। এই অহিংসার বাণী শুনতে শুনতে হিন্দুরা নির্জীব হয়ে দাঙ্গায় প্রাণ হারাতে লাগলো।মুসলিম লীগ ভারতের সব ব্যবস্থাকে হরণ করে সভ্য সমাজের সমস্ত ব্যবস্থাকে অতিক্রম করে সহিংস হয়ে উঠলো।বৃটিশ ও মহাত্মা গান্ধীর সমর্থন তাদের প্রতি রইলো অটুট।রবীন্দ্রনাথ,শরৎ চন্দ্র চ্যাটার্জি মহাত্মার অহিংসা ও খিলাফতের তীব্র সমালোচনা করলেন। ঋষি অরবিন্দ সহ সুশক্তি সম্পন্ন মানুষ মহাত্মার বালখিল্য নীতির বিরোধিতা করলেন।তার মধ্যে সঙ্ঘ প্রণেতা ড: কেশব বলিরাম হেডগাওয়ার ছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ, সাভারকার হিন্দুদের পাশে দাঁড়ালেন।শক্তি সামান্য। মহাত্মার দিকে লোকসমর্থন রইলো আপাতত ভাবে।জিন্নাহ মুসলিম লীগের প্রধান হয়ে হিন্দু নিধন বাড়িয়ে দিলেন। হিন্দুরা ধনে প্রাণে মরতে লাগলো। অহিংস আন্দোলন কোনোভাবেই অহিংস রইলো না। বাম শক্তি প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তান আন্দোলনের সমর্থক হলো।বামেরা পাকিস্তান আন্দোলনের জন্য অর্থ সংগ্রহে ব্রতি হলো।
মহাপ্রাণ রাসবিহারি বোস ও আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন:
 |
| Rasbihari Bose |
মহাবিপ্লবী রাসবিহারী বোস জাপানে পৌছলেন।রবীন্দ্রনাথ তাকে জাপান যেতে সাহায্য করলেন। বৃটিশ গোয়েন্দারা তার পিছনে লেগে আছে।রবীন্দ্রনাথ জাপান যাবেন। অগ্রগামি দলের সাথে নাম ভাড়িয়ে পাসপোর্ট বের করে জাপান গেলেন রাসবিহারী বোস।তার নাম পাসপোর্টে ছিল পি:এন:ঠাকুর।
লুকিয়ে আছেন এক জাপানের এক মালপত্রের গুদামে।জাপানি ভদ্রলোক তাকে দেখতে পেলেন।জিজ্ঞেস করলেন ,"তুমি এখানে লুকিয়ে কেন"?
তিনি সব খোলে বললেন জাপানি ভদ্রলোককে। বৃটিশ গোয়েন্দাদের বিপদের কথা। তুমি কোন জাপানি মেয়েকে বিয়ে করো, নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে।তাহলে বৃটিশরা তোমাকে গ্রেফতার করতে পারবে না।
রাসবিহারী বললেন," চালচুলোহীন আমাকে কোন জাপানি মেয়ে বিয়ে করবে"? জাপানি ভদ্রলোক বললেন," আমার মেয়েকে বিয়ে করো"?
তাই করলেন রাসবিহারী বসু।তারপর শুরু হলো আত্মসমর্পণ কারি ভারতীয় সৈন্যদের সংগ্রহ করা।প্রীতম সিং ও মোহন সিংহ নামে দুই ভারতীয় সৈনিক কে নেতৃত্বে বসালেন।জার্মান থেকেও ভারতীয় সৈন্য সংখ্যা দাড়ালো কয়েক হাজার।
রাজবিহারী বোস সিঙ্গাপুর,থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় সৈন্য বেস তৈরি করলেন। অর্থ সংগ্রহ করতে লাগলেন। ঐ সব দেশের ভারতীয়রা সব কিছু বিলিয়ে দিয়েছিল।নেতাজীর আহ্বানে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
খবর পাঠালেন রাসবিহারী সাভারকারকে: Indian National Army কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
রাসবিহারী বোস তৎকালিন কোন ভারতীয় রাজনীতিককে বিশ্বাস করেননি। তিনি জানতেন মহাত্মার স্তাবকেরা অনেকেই বৃটিশ সরকারের সাথে যুক্ত। অনেকেই বৃটিশ সরকারের উকিল এবং বিপ্লবীদের বিরুদ্ধেও লড়ছিলেন।আবার অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতা।
বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা যাতায়াত করতেন ভারত ও জাপানে।বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর মাধ্যমে খবর পাঠালেন সাভারকারকে।মহাপ্রাণ ও দেশপ্রেমিক সাভারকার নেতাজীকে খবর পাঠালেন। একজন যুবক নেতা চাই। নেতাজীর ছদ্ধবেশ ধারণ করার ক্ষমতা ছিল। তিনি ছদ্ধবেশ ধারণ করে জার্মান দূতাবাসে যাতায়াত করতেন। অনেকে বলেন তিনি ছদ্মবেশে সাভারকারের সাথে দেখা করেন।আবার কেউ বলেন কোলকাতার মনুমেন্টের তলায় আজাদ হিন্দ সেনা তৈরির খবরটি নেতাজীকে দেন।এর সত্যতা জানা যায় না।
বাঙলা তথা ভারতের বিপ্লবী বীর সুভাষ চন্দ্র- নির্যাতিত সুভাষচন্দ্র।
তার অঙ্গুলি নির্দেশের অপেক্ষায় বিপ্লবীরা।বৃটিশ সাম্রাজ্যে কাপঁন ধরেছে।
সুভাষ ও সাভারকার সাথে কোথায় দেখা হয়েছিল?:দুই মহাত্মার মিলন
মুসলিম লীগ নেতা জিন্নাহ পাকিস্তান দাবিতে অনড় ।হিন্দুর রক্তে রঞ্জিত করছেন পথঘাট।মহাত্মার তোষননীতি অব্যাহত।
সুভাষ জিন্নাহ সাথে দেখা করার জন্য 1940 সালের 29 শে জুন মুম্বই গেলেন। কিন্ত জিন্নাহ আলাপ আলোচনা চালাতে আগ্রহী নন।কিন্ত বললেন আপনি সাভারকারের সাথে দেখা করুন।জিন্নাহ বাড়ি থেকে তিনি সাভারকার সদনে পৌছলেন। সাভারকার সুভাষের সাথে অনেক কথা বললেন। জিজ্ঞেস করলেন আপনার আগামী ভাবনা কি?
সুভাষ বললেন কলকাতায় ফিরে হলওয়েল মনুমেন্ট ভেঙে ফেলার কার্যক্রম করবেন।
তখন সাভারকার বললেন," বৃটিশরা সারা ভারত বর্ষ জুড়ে শোষণ করছে। আপনি একজন মৃত অত্যাচারি বৃটিশের স্মারক সরাতে গিয়ে বৃটিশ শাসকদের ফাঁদে পা দেবেন ও জেলে যাবেন, এতে দেশের কি হবে?
সাভারকার সুভাষ কে বললেন,"রাসবিহারি বসু Indian National Army গঠন করেছেন। 1940 সালের এপ্রিল মাসে দু'জন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর মাধ্যমে গোপনে খবর পাঠিয়েছেন একজন তরুণ নেতাকে তার কাছে পাঠাতে লিখেছেন"।
মহানিষ্ক্রমনের আগে RSS এর আদি স্বর সংঘ চালকের সাথে সাক্ষাৎকারের চেষ্টাও
 |
| Headgear and Subash |
RSS এর প্রতিষ্ঠা করেন ডঃকেশব বলিরাম হেডগাওয়ার মাত্র পনের বছর হয়েছে সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা হয়েছে।নেতাজীর সাথে ডাক্তারজীর পরিচয় ছিল। সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার পূর্বে ডাক্তার
কোলকাতা পৌরসভাতে নেতাজীর দেখা হয়।মেয়র ছিলেন সুভাষ বসু। নেতাজী মনযোগ দিয়ে নেতাজী ডাক্তারজীর সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা শুনেন ও সহমত পোষণ করেন বলে জানান। একবার মুম্বই যাওয়ার পথে R S S এর পথসন্চলন দেখতে পান।
তারপর জার্মান যাওয়ার আগে তিনি দুবার হেডগাওয়ারের সাথে দেখা করার কথা বলেন এবং অত্যন্ত গোপন ভাবে দেখা করার চেষ্টা করেন।কিন্ত ডাক্তারজী তখন কোমায়।
নেতাজীর মহানিষ্ক্রমন: জার্মান দূতাবাসে
নেতাজীর ভারত থেকে নিষ্ক্রমণ কোন আকস্মিক ঘটনা নয় সবটাই চলছিল পরিকল্পনামাফিক।1938 সাল থেকেই নেতাজী জার্মান দূতাবাসে যাতায়াত করতেন। প্রথম থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছিলেন মনে হয়। প্রথমে তিনি মুম্বইতে বন্ধুর বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া সারতেন তারপর ছদ্মবেশে জার্মানীর দূতাবাসে।
জাপানে রাসবিহারী বসু সংগঠন শুরু করেন ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিপ্লবীদের নেটওয়ার্ক তৈরি করেন
জাপানে রাসবিহারী বসু ইন্ডিয়ান ইনন্ডিপেন্ডস লীগের স্থাপনা করেন।তিনি এই লীগের মাধ্যমে কংগ্রেসকে একটি জাতীয় সরকার গড়ার অনুরোধ করে রিজিউলিশন পাশ করান। তখন বিভিন্ন দেশে ভারতের বিপ্লবী সংগঠন গুলো কাজ করছিল। তাদের মধ্যে আছেন প্রীতম সিং,প্রফুল্ল কুমার সেন,অমর সিংহ,ওসমান গণি,বাবা হরি সিংহ। উল্লেখ যোগ্য ছিলেন।তাদের নেটওয়ার্ক ভারতের বাইরে ছিল। বরকতউল্লাহ আমেরিকায় কাজ বন্ধ করে থাইল্যান্ডে ভোলানাথ চ্যাটার্জির সাথে যোগদান করেন। ভোলানাথ চ্যাটার্জি ছিলেন যুগান্তর বিপ্লবী দলের প্রতিষ্ঠাতা।
রাসবিহারী বোস সবাই কে এক সাথে যুক্ত করেন।নেতাজী ছিলেন সবার অসংবাদিত নেতা।পরে অনেকেই তার সহযোগী হয়ে যায়।পূর্ব বাংলার যুবক সত্যপুরি ছিলেন তার আপ্ত সহায়ক। তিনি ছিলেন মেধাবী ও সাবলীল।
মহাপ্রস্হান
নেতাজী কংগ্রেস ছেড়ে দেওয়ায় গান্ধী তার স্তাবকেরা সহ বৃটিশরাজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।নেতাজী নজর বন্দি ও ঘর বন্দি হলেন। মস্কো র সম্মতি অনুসারে ইতালীয় দূতাবাসের মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার পৌছান।মস্কো তখন তাকে সহযোগিতা করার উৎসাহ দেখায়নি।কিন্ত তারা নেতাজীকে খুশি করতে উৎসুক ছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে রাশিয়া মিত্র শক্তির সাথে ছিল। তাই বৃটিশ বিরোধিতার কোন উৎসাহ তার ছিল না।তখন তিনি জার্মান যাওয়া মনস্হির করলেন। ইতালি ও জার্মান যাওয়াই ঠিক করলেন। জাপান ও জার্মান থেকে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে।এই দুই দেশের থেকে বৃটিশ বিরোধী কাজ করা সম্ভব। যেই ভাবা সেই কাজ। তিনি জার্মান চলে এলেন।
জার্মানে আগমন
তিনি 1941 সালের 3rd এপ্রিল তিনি বার্লিন আসেন
জার্মান প্রথম দিকে উৎসাহ দেখায় নি।কিন্ত পরে উৎসাহ দেখাতে শুরু করে । জার্মান নাজি পার্টিতে নেতাজীর অনেক বন্ধু ছিলেন। তারই প্রভাবে জার্মান সরকার একটি ভারতীয় দপ্তর খোলে।নেতাজীর সাংগঠনিক ক্ষমতা তাদের প্রভাবিত করে।ইতালি ও জাপানের চাপে হিটলার দেখা করতে সম্মত হন।
নেতাজীর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হন হিটলার। পাচ মিনিট থেকে সময় বেড়ে যায় ।কিন্ত হিটলার সম্মত হলেন না সাহায্য করতে।একাধারে বর্ণ বাদি ও অন্য দিকে এক নায়ক।বাস্তবতার কথা বলে এড়িয়ে গেলেন। বিদায় জার্মানী।
জাপানে আগমন
জাপানই একমাত্র বিকল্প। সাবমেরিনে করে জাপান এলেন।জাপানে আগে থেকেই রাসবিহারী মজুদ ছিলেন।
নেতাজীকে দলের সর্বাধিনায়ক ঘোষনা করলেন :সুভাষ নেতাজী হলেন।
মালয়ের জিট্রায় Indian National Army গঠিত হয়।প্রীতম সিংহ ও মোহন সিংহ সহ মোট 54 জনকে নিয়ে এই বাহিনী তৈরি হয়।প্রীতম সিংহ Free India centre থেকে নেতাজীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে থাকেন।
সমন্বিত সংগঠন
জার্মানীতে গঠিত ইন্ডিয়ান লিজনে, লিবিয়ার ভারতীয় বন্দিরা যোগ দেয় । তাদেরকে ইতালিতে নিয়ে আসা হয়। 1942 সালে লিজিয়নদের নিয়ে নেতাজীর উপস্থিতিতে এক মহড়া হয়।
বিভিন্ন দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন বৃদ্ধ মহাপ্রাণ রাসবিহারী বসু।তিনি নেতাজীকে তাদের নেতা হিসেবে ঘোষনা করেন।জয়ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়।কিন্ত এটা মোহন সিংহের পছন্দ ছিল না। তিনি বিরোধিতা করেন।জাপান সরকার তাকে গ্রেফতার করে।পরে মুক্ত হয়ে তিনি সিঙ্গাপুর চলে যান। যুদ্ধের জন্য চাই সেনা।
গুপ্ত চর বাহিনী গঠন:
মহাপ্রাণ রাসবিহারি বসু গুপ্তচর বাহিনী গঠন করেন। তিনি বাঙালি যুবকদের বলেন যেহেতু বাংলা থেকেই ভারতের স্বাধীনতা হরণ হয়েছে সেহেতু বাংলার যুবক দের প্রাণ দিতে হবে সর্বাগ্রে। একশত যুবক গুপ্তচর বাহিনীতে যোগ দেয়। বৃটিশ আদলে গুপ্তচর বাহিনী তৈরি হয়।তাদের কল্পনা শক্তি ছিল সীমিত। নেতাজী জার্মান আদলে গুপ্তচর বাহিনী তৈরি করেন।প্রথম দিকে মোহন সিংহ প্রশিক্ষণ দেন।
উড়িষ্যার উপকূলে সাবমেরিনে করে নামিয়ে দেওয়া হয়।গুপ্তচর বাহিনীর বারোজন মুসলিম বিশ্বাসঘাতকতা করে।আর এই কারনে গুপ্তচর বাহিনী বিপদে পরে এবং অনেকের ফাঁসি হয়।
সরকার গঠন
1943 সালের 21 অক্টোবর ভারত ইতিহাসের স্মরণীয় দিন।
সেদিন আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন হয়।প্রথমে জার্মানি স্বীকৃতি দেয় পরে মোট 11টি দেশ স্বীকৃতি দেয়।ভারতের প্রথম স্বাধীন সরকার। নাম "আজাদ হিন্দ সরকার"।
অর্থ সংগ্রহ
সরকার গঠন হলো।সমর্থন মিললো।নেতাজী ঘোষনা করলেন জার্মানী যে অর্থ দেবে সেটা ঋন হিসেবে নেওয়া হবে।স্বাধীন ভারত ঋণ চুকিয়ে দেবে।অর্থ সংগ্রহে পারদর্শী ছিলেন নেতাজী।মাত্র দুই ঘন্টায় তিনি মালয়ে বারো লক্ষ ডলার সংগ্রহ করেন।এই সরকারের পতাকা ছিল তেরঙ্গা।
সৈন্য বাহিনী গঠন
মোট সৈন্য সংখ্যা ছিল 17000 জন।গেরিলা বাহিনীতে 9000 এবং গ্রাউন্ড ফোর্স 3000 জন।
45 টি গেরিলা দল। পরবর্তীতে সৈন্য সংখ্যা 30000 হয়েছিল। এবং 10000 ভলান্টিয়ার।
সেনা চলাচল
থাইল্যান্ড,মালয়, সিঙ্গাপুর ,জাপান ও সিংহল দেশ ঐতিহাসিক ভাবে ভারতের সাথে যুক্ত ছিলো।
এই দেশগুলো দিয়ে সৈন্য চলাচলের জন্য বেছে নিয়েছিলেন রাসবিহারী বসু ।তিনি এই দেশ গুলোকে বেছে নিয়েছিলেন।
সেনা সংগঠনের কমান্ড ক্ষেত্র:
সুপ্রীম কমান্ড: নেতাজী
অগ্রবর্তী কমান্ড: রেঙ্গুন:সেনা প্রধান । নিকটবর্তী হেড কোয়ার্টার: সিঙ্গাপুর ।
জেনারেল কাওয়ারের বর্ননা:
1945 সালে আজাদ হিন্দ সরকারের সদর দফতর রেঙ্গুনে নিয়ে আসা হয়।ইম্ফল আক্রমনের কর্ম তৎপরতা বাড়তে থাকে।বার্মা পুরোদস্তুর সাহায্য করতে রাজি হলেও বিশেষ বিশেষ সুবিধা আদায় করে নিচ্ছিল।আজাদ হিন্দের সেনারা জাপানি সেনার চেয়ে তৎপর ছিল। চন্দ্র বোসের ইচ্ছা ছিল জাপানি সেনার সাথে হাতে হাত মিলিয়ে সীমান্তে যুদ্ধ করতে।কিন্ত জাপানি সেনা স্ট্র্যটেজিক সমস্যার কথা বলে এড়িয়ে যায়।
বার্মা সেনা, জাপান সেনা ও আজাদ হিন্দের সেনারা মিটিং এ বসতেন। বার্মা সেনা ও আজাদ হিন্দ ফৌজের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত মুক্তান্চল আজাদ হিন্দ সরকারের হাতে তোলে দিতে হবে।
মুক্তান্চলে আজাদ হিন্দ সরকার জল,কৃষি , রাস্তাঘাট নির্মাণ, কৃষিবীজ ও ব্যবসা করার ব্যবস্থা করে।
আন্দামান
আন্দামান আজাদ হিন্দের ফৌজের দখলে আসে এবং স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলিত হয়। সেখানে তিনি দুবার আসেন। আন্দামানে জাপানি সেনারা আছে।কিছু স্থানীয় মুসলিমরা তাদের বোঝাতে সমর্থ হয় যে হিন্দুরা বৃটিশ দের দালাল । জাপানিরা আন্দামানের নির্মম ভাবে হিন্দুদের মারতে থাকে।এই ঘটনা এতোটাই বেড়ে যায় যে নেতাজীকে আন্দামানে আসতে হয়।এই কথা রয়েছে প্রতিভা বসুর আন্দামান উপর একটি বইতে।নেতাজী আন্দামান নিকোবার নাম রাখেন" স্বরাজ" ও "শহীদ" দ্বীপ
ভারতের আভ্যন্তরীণ অবস্থা:
নেতাজীর নিষ্ক্রমণের বহুপূর্বেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।মহাত্মা গান্ধীর তোষন ও অহিংসা নীতির ফলে হিন্দুরা নির্জীব হয়ে পড়ে।মহাত্মার এই সব নীতি মুসলিম লীগ ও বৃটিশ শাসকদের কাছে কোন মূল্য ছিল না।ভারত ভূমি মুসলিম লীগের ডাকা Direct actionএর কারণে হিন্দুস্হান হিন্দু বধ্য ভূমিতে পরিণত হয়। কম্যুনিস্টরা পাকিস্তান আন্দোলনের সমর্থনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে।
বামেরা নেতাজীকে তেজোর কুকুর বলে ঘোষনা করে অর্থাৎ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কুকুর।দেশহিতৈষী কাগজে নেতাজীকে অসম্মান করে কার্টুন ছাপায়।
নেহেরু বলেন তিনি তরবারি নিয়ে সুভাষ কে আক্রমন করবেন। মহাত্মা গান্ধীতো কংগ্রেস থেকে নেতাজীকে অগণতান্ত্রিক উপায়ে বিতাড়িত করেছেন। 1939 সালে সুভাষ চন্দ্র কে কংগ্রেস থেকে সরে যেতে বাধ্য করে গান্ধী জাতীয় জীবনে এক জ্বলন্ত দেশপ্রেমী নিষ্কলঙ্ক নেতৃত্বকে হারিয়ে দিয়ে নেহেরুকে কাছে টেনে নিলেন।
ঠিক তখন সাভারকার এই তেজস্বী, দেশপ্রেমিক সুভাষ চন্দ্রকে কাছে টেনে নিয়ে জাপানের হিন্দু মহাভারত সভাপতি বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। রাসবিহারি বসু
সাভারকারের বিখ্যাত বই "Indian War of Independence 1857'র তামিল জাপানি ভাষায় অনুবাদ করে তিনি তামিল ও অন্যান্য সৈন্যদের মধ্যেই বিতরণ করেন।
Mr. J.G Dhaswa,একটি বই লিখেন ।এই বইতে নেতাজী সুভাষ ও রাসবিহারী বিপ্লব ও যুদ্ধ সম্পর্কে তাদের ভূমিকা নিয়ে লেখেন। সাভারকারের যুদ্ধ সংক্রান্ত নীতি তাদের মাধ্যমে সাকার হয়েছে।
বৃটিশরা সিঙ্গাপুরে তাদের শক্ত ঘাটিতে INA এর হাতে পরাজিত হলো।প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন্য যোগ দেওয়াতে বৃটিশরা পরাজিত হলো।
Indian independent Radio Singapore থেকে 25 June 1944 নেতাজী বলছেন - এ কথা বলতে দু:খে হৃদয় ফেটে যাচ্ছে যে কংগ্রেসের সব নেতা ভুল পথে চালিত হয়ে ও অদূরদৃষ্টি সম্পন্ন হয়ে ভারতবর্ষের সৈন্যদের জঙ্গি বলে অভিহিত করছেন।কিন্ত সাভারকার ভয়হীন ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় যুবকদের ভারতীয় সৈন্য দলে যোগ দিতে বলছেন ।এই সমস্ত সৈন্যদের নিয়ে Indian National Army গঠিত হয়েছে।
দেশপ্রেমিকরা কংগ্রেসের ও বাম নেতাদের আচরণ দেখে ব্যথিত হলে কি হবে ,ওরা বৃটিশ ও মুসলিম তোষনে ব্যাস্ত ছিল।
রাসবিহারী বোস সুভাষ বসুকে আজাদ হিন্দের সর্বাধিনায়ক করে ভারতের স্বাধীনতা তরান্বিত করতে।
সাভারকার,রাসবিহারির ও সুভাষ বসুর মিলিত প্রয়াসে স্বাধীনতা তাত্ত্বিক হয়।রাসবিহারী ভারতের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারেন নি।তিনি কোহিমায় ও আন্দামানে স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন দেখে যান। 1945 সালের 21 January তিনি পরলোক গমন করেন।
আমাদের দুর্ভাগ্য, ভারতের ইতিহাস কে কালিমা মুক্ত করে নেহেরুকে মদত দিতে মার্কস বাদিরা মাঠে নামে। ফলে ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে পারেনি।ভারতের স্বাধীনতা এসেছে সাভারকার, রাসবিহারি ও সুভাষের মিলিত প্রয়াসে।বাকিরা তো মুসলিম তোষন বৃটিশ তোষন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। শুধুমাত্র গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের দ্বারা ভারত স্বাধীন হয়নি। ঐতিহাসিক ড: রমেশ চন্দ্র মজুমদার এই কথা তার বইতে লিখেছেন।
1956 সালে ফণী ভূষন চক্রবর্তী ছিলেন বাংলার রাজ্যপাল।সেই সময় এটলি ভারতে আসেন। তিনি ভারত স্বাধীন হবার সময় ছিলেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী। ফণী চক্রবর্তীর চিঠি থেকে জানা যায় যে তিনি এটলীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন," কেন বৃটেন তড়িঘড়ি করে ভারত কে স্বাধীনতা দিল? এটাকি মহাত্মার অহিংস আন্দোলনের ফল?
এটলি যে উত্তর দিয়েছিলেন তা প্রণিধান যোগ্য। গান্ধীর জন্য নয় নেতাজী সুভাষচন্দ্রের জন্য আমরা ভারত ছেড়েছি। তিনি আরও বললেন,
"Indian Army weakened the very foundation of the attachment of the Indian land, air, navy force's to the British, Government "
" তাই আমরা ভারত ছাড়লাম, গান্ধী বা কংগ্রেসের আন্দোলনের জন্য নয় বরং Indian National Army" এর জন্য।
Today's temperature is comfortable. The weather is good.
India,West Bengal , Sonarpur, A.P.Nagar, Kolkata 700150
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমর বাংলা ব্লগে সবাই কে অভিনন্দন। মন্তব্য করতে পারেন।