![]() |
| মোদির রাম প্রণাম |
শান্তির দূত হয়ে সহ্য শক্তির পরম কাষ্ঠা দেখিয়ে তিনিই হয়ে উঠলেন বিশ্বাস ও শান্তির দেবদূত।
অপেক্ষার চরম পরীক্ষা দিলেন নিজের দেশে নিজের ঘরে ফিরে আসতে ।পাচঁশত বছর অপেক্ষা করে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজের ঘরে ফিরে বললেন "আমি তো সেই"। আনন্দবাজারে আনন্দ বিক্রেতা রাম।
![]() |
| রাশিয়ায় রাম লীলা |
রাম কি করে পৌছে গিয়েছিলেন বর্হি ভারতে?
জার্মানী, সুইডেন ও নরওয়ে, ইতালি, ফ্রান্স, ল্যাটিন আমেরিকা,দক্ষিন আফ্রিকা,পূর্ব আফ্রিকা,লাওস ,কম্বোডিয়া,ভিয়েতনাম,থাইল্যান্ড, ফিন ল্যান্ড, চীন,ফিলিপাইন্স,মালয় ও ইন্দোনেশিয়া।অস্ট্রেলিয়ায় রাম কি করে পৌছে গেলেন এ যেন রূপকথা। রাম মানব মনের অন্তলীন সমুদ্রের এক মহাযাত্রী। ভারতের আত্মা যেন আবার আমাদের বলছে ফিরে চলো নিজ নিকেতনে ।তাই রাম হয়ে উঠেছেন সর্ব ব্যাপি।
![]() |
| কেনিয়ায় শোভাযাত্রা |
ইতিহাসের পাতায় পৌছে যাই পিছন দিকের পাতা উল্টে গোড়ার দিকে । মহাঋষি বাল্মিকির মন এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছে। এমন কোন ব্যক্তি নেই যে তার প্রশ্নের উত্তর দেয়।ভারতের সংস্কৃতি ও ধর্ম তো প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে আছে। প্রশ্ন ও উত্তর এই দুইই আমাদের ভিত্তি।
মনে মনে ভাবলেন নারদ ই পারে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে। তিনি দস্যু রত্নাকর থেকে বাল্মিকি হয়েছেন যার স্পর্শে সেই নারদই পারে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে।ধর্ম এই ভারতের আত্মা এই মাটিতে দস্যু হয়ে যায় মহাকবি।
বাল্মিকী সকাশে এলেন নারদ।বাল্মীকিও নারদ আনন্দে উদ্বেল।প্রশ্নের উত্তর খুজতে কবি।বললেন আমি এমন একজন মানুষ খুঁজছি যার মধ্যে রয়েছে সব গুন। নারদ ঋষি শ্রেষ্ঠ। ভাষার নৈপুন্যে ও শব্দকোষের মধুর ব্যবহারে তিনি জগতের একজন।তিনি বাগ্মী শ্রেষ্ঠ ।বাল্মিকী তাকে জিজ্ঞেস করলেন,"মহর্ষি এখন কি এই পৃথিবীতে এমন কেউ আছেন যিনি গুনবান,বীর্যবান ,ধর্মজ্ঞ ,কৃতজ্ঞ,সত্যবাদী,দানী,চরিত্র বান, সালের হিতকারী, সর্বশক্তিমান,প্রিয়দর্শন,সংযতচিত্ত,জিতক্রোধ, শক্তিমান ও হিংসাদ্বেষ হীন,রণক্ষেত্রে যাকে রোষ যুক্ত দেখলে দেবতারা ও ভয় ভীত হন?। এই প্রশ্নের উত্তর জানবার জন্য মন কৌতুহলী হয়ে উঠেছে। আপনি এই রকম ব্যক্তির সন্দ্ধান থাকতে পারে।
![]() |
| থাইল্যান্ড |
তখন নারদ বললেন রামের কথাই আমার স্মরণ হচ্ছে।
বাল্মীকির এই কথায় সন্তুষ্ট হয়ে ত্রিকালজ্ঞ নারদ তাকে বললেন রাম মানব সভ্যতার এক দুর্লভ চরিত্র। তিনি সংযত চিত্ত মহাবীর , শক্তিমান, ধৈর্যশীল ,জিতেন্দ্রিয়,বুদ্ধিমান,নীতিমান,বাগ্মী,শ্রীমান শত্রুহন্তা ,বিশালস্কন্ধ মহাবাহু, কম্বুগ্রীব মাংসল, হনুমান বিশিষ্ট, প্রশস্ত বক্ষ,মহাধনুর্ধর,গূরাকন্ঠাস্হিযুক্ত, অরিন্দম আজানুলম্বিত বাহু,সুন্দরমস্তক, সুললাট,শোভনগতি, নাতিদীর্ঘ দেহ।সুসমনঞ্জস্য অবয়বযুক্ত,স্নিগ্ধবর্ন(শ্যাম বর্ন) প্রতাপী,উন্নত বক্ষ, আয়তন লক্ষীবন্ত। সুলক্ষণ পুরুষ।তিনি ধর্মজ্ঞ।সত্য প্রতিজ্ঞ, প্রতিজ্ঞা হিতৈষি।যশস্বী জ্ঞানবান।শুদ্ধাচার, বিজয়ী একাগ্র চিত্ত সবৈশ্বর্যশালী, প্রজাপতি তুল্য লোকপালক, রিপুনিসূদন,মর্ত্যলোকে ধর্মের রক্ষা কারি ,প্রাণী লোকে ও ধর্মের রক্ষক, নিজ ধর্ম ও স্বজনের পোষণ কারি,বেদ বেদাঙ্গ তত্ত্বজ্ঞ,ধনুর্বেদদক্ষ,সর্ব শাস্ত্র সুপন্ডিত,স্মৃতিশক্তি ধারক প্রতিভাবান,সর্ব জনপ্রিয়,সজ্জন ,নির্ভীক,বিচক্ষণ,লোকমান্য,সুদর্শন, সদা প্রিয়দর্শন।নদনদী যেমন সাগরের সেবা করে সেই রূপ সৎ লোকেরা তাহার সেবা করে আনন্দ লাভ করে।মাতা কৌশল্যার আনন্দ দান কারি কারি,সমুদ্রের ন্যায় গম্ভীর,হিমালয়ের ন্যায় ধৈর্য। বীরত্বে বিষ্ণুর ন্যায়। ক্রোধে মৃত্যু রূপ , সদা ক্ষমাশীল। তিনি দানশীল ও সত্যার্থে ধর্মের সমকক্ষ।
![]() |
| রাম ভারতের মিলন সেতু |
অযোধ্যা সরুযু নদীর তীরে দশরথ পুত্র রাম ,মা কৌশল্যার ঘরে পুত্র রূপে জন্ম গ্রহন করেন।নারদ রামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বলেন।
নারদ ও রাম কে দেবতা রূপে নয়,মনুষ্য রূপে পৃথিবীর সামনে নিয়ে আসেন। বাল্মীকি মানব রূপে তাকে বর্ণনা করেন।
নারদ যা বলেছেন তা হলো রামের জন্ম বৃত্তান্ত। তার অভিষেক অনুষ্ঠান। দশরথের মৃত্যু।দন্ডাকারণ্যে বাস।রাবণ বোন সূর্প নাখার নাসিকা কর্তন।রাবণ কতৃক সীতা হরণ।সুগ্রীবের মিলন। বানর সেনাদের সর্বত্র প্রেরণ।হনুমান কর্তৃক সংবাদ আনয়ন।সমুদ্রের উপর সেতুবন্দ্ধন।রাবণ বধ।।সীতা রামের মিলন।অযোধ্যা ফেরা। অগ্নি পরীক্ষা। নারদ রামের জীবনের সংক্ষিপ্ত এই বর্ণনা বাল্মীকির নিকট দেন।
রবীন্দ্রনাথ রামের জীবনি একেছেন "ভাষা ও ছন্দ "কবিতায় ।এ যেন তুলির টান।রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতার ছন্দে রামের চরিত্র একেছেন:
"কহ মোরে বীর্য কার ক্ষমারে করে না অতিক্রম,
কাহার চরিত্র ঘেরা সুকঠিন ধর্মের নিয়ম,
ধরেছে সুন্দর কান্তি মানিক্যের অঙ্গদের মতো,
মহৈশ্বর্যে আছে নম্র,মহাদৈন্যে কে হয়নি কে হয়নি নত,
সম্পদে কে থাকে ভয়ে, বিপদে কে একান্ত নির্ভীক,
কে পেয়েছে সব চেয়ে, কে দিয়েছে তাহার অধিক,
কে লয়েছে নিজ শিরে রাজভালে মুকুটের সম,
সবিনয় সগৌরবে ধরামাঝে দুঃখ মহত্তম,
কহ মোরে, সর্বদর্শী হে দেবর্ষি,তার পুণ্যনাম।
নারদ কহিল ধীরে,"অযোধ্যা রঘুপতি রাম"।
নারদ বাল্মিকিকে সংক্ষিপ্ত রামাযণ শোনান ।সেখানে উত্তরাকান্ড ছিল না। অর্থাৎ লব ও কুশের কাহিনী নিয়ে যে উত্তরাকান্ড । অনেকে বলেন উত্তরাকান্ড পরে সংযোজিত।
রামাযণে রয়েছে 6 টি কান্ড। 500 টি সর্গ।24000 শ্লোক।
রামায়ণ কোন কল্প কথা নয়।এ হচ্ছে ভারতের ইতিহাস। রাম ঐতিহাসিক চরিত্র। তার বংশ ছিল সূর্য বংশ ।তার পূর্ব পুরুষদের নামের তালিকা গবেষকরা তৈরি করেছেন।অনেক ঐতিহাসিক তার জীবন কে ঐতিহাসিক চরিত্র। রামায়ণের অনেক কিছু এখনও বর্তমান। রাম সেতু,শ্রীলঙ্কা,চিত্র কূট এবং দন্ডাকারণ্য প্রভৃতি।রাম সেতুতে মনুষ্য নির্মিত বলেছে ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন রামায়ণ হচ্ছে ভারতের চলমান ইতিহাস।
কোন কোন দেশে রামায়ণ রয়েছে তা জানা দরকার। থাইল্যান্ড ,কম্বোডিয়া,যবদ্বীপ,লাওস ,চীন,ভিয়েতনাম,ফিলিপাইন্স ও মালয়।বৌদ্ধ জাতকের মাধ্যমে রামাযণ ভারত থেকে অন্য দেশে গেছে।
![]() |
| কোচিতে রাম |
ভারতের সর্বত্র রাম কথা ও রাম ছড়িয়ে আছে যা বললে ভালো হয় আনাচে কানাচে।পূর্ব থেকে পশ্চিম ও উত্তর থেকে দক্ষিণ । বাল্মীকি রামায়ণ এবং রাম চরিত মানস উত্তর ভারতে।আবার দক্ষিণে কম্ব রামায়ণ এবং রঙ্গনাথ রামায়ণ। পূর্বে কৃত্তিবাস রামায়ণ অথবা পূর্ব উত্তর মহারাষ্ট্রে রয়েছে নানা রকমের রামায়ণ। আবার পশ্চিমে ভাবার্থ রামায়ণ।
ভারতীয় ভাষায় রামায়ণের যে খোজ পাওয়া যায় তা নিম্ন রূপ। 11টি রামায়ণ হিন্দিতে। 8 টি মারাঠি। 25 টি বাংলা। 12 টি তামিল। 12 টি তেলেগু। 6টি উড়িষ্যা ভাষায়।
রাম চরিত ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে।ইন্দোনেশিয়া কাকাবিনরামায়ণ,জাভা , হিমালয়ের সেরিরাম, রামক্লিঙ পাটনিরাম কথা।শ্যাম দেশ বা থাইল্যান্ড রামকেন।তিব্বতি রামায়ণ রয়েছে । টারকিস্হানে রয়েছে খোটানিরামায়ণ। ইন্দো চায়নাতে রয়েছে খামামি রামায়ণ, মায়ানমারে রয়েছে উটকি রামায়ণ। মঙ্গোলিয়ান রামায়ণ রয়েছে। আরবি ,ফার্সি ও উর্দু ভাষায় রামায়ণ রয়েছে।মালয়েশিয়ার রামায়ণ লোকের রূপে পরিচিত। লাওস,ফিলিপাইন্স ও জাপানে রামায়ণ রয়েছে।লাওস মনে করে এই দেশটির নাম লব থেকে হয়েছে।লাহরোরের বর্তমান ঐতিহাসিকরা মনে করেন লাহোরের নাম লব থেকে হয়েছে। লাহোরে লবের মন্দির রয়েছে।
মূল রামায়ণ বাল্মীকি বিরচিত। এছাড়া রয়েছে অধ্যত্ব রামায়ণ,অদ্ভুত রামায়ণ,যোগ বশিষ্ট রামায়ণ,ভূষন্ডি রামায়ণ প্রভৃতি রয়েছ।মহাভারতে ও রামায়ণ রয়েছে। বৌদ্ধ ও জৈন রামায়ণ রয়েছে। রামায়ণের রাম পরবর্তী সাহিত্যে রামায়ণ ও রাম স্বমহিমায় উপস্থিত।
![]() |
| অরুণাচল |
রামায়ণের বিশ্বায়াণ ঘটে গেছে সদূর অতীতে।ভারতের আধ্যাত্মিক সুধা পান করেছে বহু দেশ।তারপর কি হলো ? রবীন্দ্রনাথ এর উত্তর দিয়েছেন জাভার চিঠিতে।রবীন্দ্রনাথ বলেন,
"মূলের সঙ্গে যোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল ,ভারতবর্ষ চলে গেল দূরে -হিন্দুর সমুদ্রযাত্রা হলো নিষিদ্ধ ,হিন্দু আপন গন্ডির মধ্যে নিজেকে কষে বাঁধলে,ঘরের বাইরে তার যে এক প্রশস্ত আঙিনা ছিল এ কথা সে ভুললে।কিন্ত সমুদ্রপারের আত্মীয় বাড়ীতে অনেক বাণী ,অনেক মুর্তি,অনেক চিহ্ন,অনেক উপকরণ পড়ে আছে বলে আত্মীয় তাকে সম্পূর্ণ ভুলতে পারে না। পথে ঘাটে পদে পদে মিলনের নানা অভিজ্ঞান চোখে পড়ে।কিন্ত সেগুলোর সংষ্কার হতে পারেনি বলে কালের হাতে সে সব ক্ষয়ে ,কিছু বেকেচোরে কিছু গেছে লুপ্ত হয়ে"।রবীন্দ্রনাথ যে কথা এখানে বলেননি যা বলেছেন অন্যত্র,
এই দূরে সরে যাওয়ার প্রধান কারণ বিদেশী আক্রমণ।আরব ,মোগল,তুর্কী ও পাঠানের আক্রমণে সত সন্ত্রস্ত হিন্দুর প্রাণ ও ধর্ম বাচানোই দায় ছিল। তার কাছে সমুদ্রের পারের আত্মীয়ের খোজ ছিল বড় দায়।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে আমরা স্কুলে মুখস্থ করিয়া যে ইতিহাস পরীক্ষা দেই তাহা ভারতবর্ষের দু:স্বপ্নের ইতিহাস ।
বাল্মীকি তিনটি ডাইমেনশেনে কাজ করেছেন একটি হচ্ছে দেব শক্তির উত্থান। অন্যটি রাক্ষস জাতির ধ্বংস এবং অপরটি স্বল্প সভ্যতার ও বনবাসি মানুষ কে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাম। তাদের উত্থানে রামের ভূমিকা ভারতের এক বড় পাওনা।
বাল্মীকি রাক্ষস সভ্যতাকে কখনও খাটো করে দেখান নি।তারা ইতর বিশেষ ছিল না।বিদ্যা বুদ্ধি যথেষ্ট ছিল। ভালোমন্দে গড়া মানুষ।
বাল্মীকি রামকে একেছেন মানুষ হিসেবে দেবতা নয়।তাই রবীন্দ্রনাথের ভাষায় রাম মর্যাদা পুরুষোত্তম। লোক শিক্ষার আলোকে মানুষের পক্ষে দুঃসাধ্য কাজ যিনি করেন তার প্রতি আমাদেরই শ্রদ্ধার ভাব বেড়ে যায়।ভারতের স্বভাব বিপরীত নর মানব কে দেবতা বানিয়ে দূরে করে দেওয়া।
রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ থেকেই রাম চন্দ্রকে বেশী জানতে পারবো। ভারতে আর্য ও অনার্যদের মধ্যে একটা লড়াই চলছিল। এই আর্য ও অনার্যদের (আসুরিক) লড়াই যখন চলছিল তখন সেই কারণে আদি বাসি ভারতীয়রা ব্রাত্য হয়ে পড়েছিল।আসুরিক শক্তির লড়াই চলছিল লোকালয়ে এবং আশ্রমে।লড়াই এ ক্লান্ত মানুষ। এমন সময় ত্রাতা রূপে এলেন রাম ত্রেতা যুগ।
রাম রাবণের যুদ্ধ আভ্যন্তরীণ লড়াই এর পরিসমাপ্তি করে দিল। ঐক্যবদ্ধ সমাজের যাত্রা শুরু। রবীন্দ্র "সাহিত্য " থেকেই বেশী জানবার চেষ্টা করবো, রামকে বোঝার ক্ষমতা সকলের নেই, ভারতকে সংগঠিত রূপ দিতে রামই যেন শুরু করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কথায় "রাম চন্দ্র শত্রুদিগকে বশ করিয়াছিলেন, তাহাদের রাজ্য হরণ করেন নাই।বিভীষন তাহার বন্ধু হইয়া লঙ্কায় রাজত্ব করিতে লাগিল। কিষ্কিন্দ্ধ্যা রাজ্যভার বানরদের হাতে দিয়েই তাহাদিগকে চিরদিনের মতো বশ করিয়া লইলেন। এই রূপে রামচন্দ্র আর্য ও অনার্যদের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে পরস্পরের মধ্যে আদান প্রদানের সম্বন্ধ স্থাপন করেন। তাহারই ফলে দ্রাবিড় গণ ক্রমে আর্যদের সঙ্গে একসমাজ ভুক্ত হইয়া হিন্দুজাতি রচনা করিল ।এই হিন্দু জাতির মধ্যে উভয় জাতির আচার বিচার পূজা পদ্ধতি মিশিয়া গিয়া ভারতে শান্তি বর্ষিত হলো"।
রাম দেশ প্রেমী তথা ভারত ও ভারতবর্ষ প্রেমী।লক্ষণ রামকে বললো," হে রাম আমরা শ্রী লঙ্কা বিজয় করেছি ,আমরা শ্রীলঙ্কায় থেকে যাই।শ্রীলঙ্কা স্বর্ণময়ী ও ঐশ্বর্যময়ী "।রাম এখানে আমাদের দেশের কথা শোনালেন এ তো রাষ্ট্রীয়তা। এ তো অযোধ্যো নয় যেন ভারত বর্ষ।যে রাষ্ট্রীয়তা বেদে দেখতে পাই তাকে নিয়ে এলেন মাটিতে।
রাম বললেন," হে লক্ষণ আমার শ্রীলঙ্কাতে রুচি নেই।জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী অর্থাৎ জননী এবং জন্মভূমি স্বর্গের চেয়ে বড়ো"। দেশের উপর বা জন্ম ভূমির উপর প্রেমের ভাব পৃথিবীতে প্রথম প্রকাশ হলো রামের কন্ঠ দিয়ে
রামের ভারত প্রেম আরেক বার প্রকাশ হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের মুখ দিয়ে শুনে নিন,"উত্তর চরিত্র রাম ও সীতারাম যে সেই প্রেম আনন্দের প্রাচূর্য বেগে চারিদিকের জল স্হল আকাশের মধ্যে প্রবেশ করেছে।তাই রাম দ্বিতীয়বার গোদাবরীর গিরিতট দেখে বলে উঠেছিলেন,যত্র দ্রুমা অপি মৃগা অপি বন্ধবো মে';তাই তিনি সীতা বিচ্ছেদ কালে তিনি পূর্ব নিবাসভূমি দেখে আক্ষেপ করেছিলেন যেমনটি ই তার করকমল বিকীর্ন জল নীবার ও তৃণ দিয়ে যে সকল গাছ পাখি ও হরিণদের পালন করেছিলেন তাদের দেখে আমার হৃদয় পাষান গলার মতো গলে যাচ্ছে"।
রাম ও ভারতবর্ষ যেন এক সাথে গেথে আছে।রাম কে বুঝলে ভারত বর্ষ কে বোঝা যায়।" নবযুগে" রবীন্দ্রনাথ রামের ভূমিকার সম্পূর্ণ রূপ দিলেন। "ভারতবর্ষে এক সময়ে আর্য ও অনার্যের সংগ্রামে মানুষ সত্য পীড়িত হয়েছিল; ভারত তখনও প্রতিষ্ঠালাভ করেনি। তারপরে আবার একটা যুগ এল।রামায়ণে আমরা তার আভাস পাই, তখন আর্য অনার্যের যুদ্ধ অবসান হয়ে মিলনের কাল এসেছে।শ্রী রাম চন্দ্র সেই মিলনের সত্যকে প্রকাশ করেছিলেন এমন প্রমাণ করার হেতু আছে..... আর্য অনার্যের যেমন মিলন ঘটেছিল,শ্রীরাম চন্দ্র যেমন চন্ডালকে বুকে বেধে ছিলেন,সেই যুগ সমাগত"।
ভারতের তথা হিন্দু সমাজের এক স্বভাব মানুষ কে দেবতা বানিয়ে নিজ দায়িত্ব খালাস।মানুষের দু:সাধ্য কাজ গুলো যখন কোন মহাপুরুষ করেন তখন তাকে দেবতা বানিয়ে দিলে তার কাজ গুলো ও প্রচেষ্টাকে ছোট করা হয়ে।বাল্মীকির রাম মানব রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।পরবর্তী রামায়ণ কাররা তাকে দেবতা বানিয়ে দেন।
রামায়ণ রচনা করতে গিয়ে বাল্মীকির মনে ভয় শঙ্কা ,পাছে সত্য থেকে বিচ্যুত না হন।ইতিহাস বলেই সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার ভয়।তাই রবীন্দ্রনাথের কবিতায় বাল্মীকির এই ভাবের কথা পাওয়া যায়।
"তবু নাহি জানি সমগ্র বারতা,
সকল ঘটনা তার,ইতিবৃত্ত রচিব কেমনে,
পাছে সত্য ভ্রষ্ট হই,এই ভয় জাগে মোর মনে।"
রামায়ণ ও রাম ভারতবর্ষ কে বেধে রেখেছে আপন ছন্দে ,কে তাকে টলায় ,কে তাকে বেসুরো করে ?আধুনিক ভারত আবার যাত্রা করেছে আপন পথে।
Today's temperature is high.Weather is also dry and hot.
India West Bengal Sonarpur Arbinda Nagar Pin 700150.







মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমর বাংলা ব্লগে সবাই কে অভিনন্দন। মন্তব্য করতে পারেন।