✒🔱
গঙ্গাসাগর এখানকার তীর্থ ও দর্শনীয় স্হান। কপিল মুনির আশ্রম ছিল এখানে।গঙ্গাসাগরকে স্থানীয় ভাবে সাগর বলা হয়। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সংস্কৃতি অতি প্রাচীন কালের।ভারতের মূল সংস্কৃতি অর্থাৎ হিন্দু সংস্কৃতির সাথে জড়িত। কপিল মুনির আশ্রম এই জেলায়।সাগর দ্বীপে এই আশ্রম রয়েছে। বাল্মিকী এর উল্লেখ করেছেন রসাতল বলে। প্রাচীন কালে সুন্দর বন অন্চল পাতাল দেশ নামে পরিচিত। এই পাতালদেশে কালকবন রয়েছে।বলেছেন পাতঞ্জলি ও পাণিণি। মনে করা হয় এই কালকবন ই সুন্দর বন। সাগরে রয়েছে কপিল মুনির আশ্রম। কপিল মুনিই প্রথম বিশ্ব ও প্রকৃতিকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি দিয়ে বিচার করেছিলেন। তার পিতার নাম কর্দম ৠষি ও মাতার নাম দেবাহুতি।কপিল মুনির সাংখ্য দর্শন আজও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পড়ানো হয়।পাশ্চাত্য দেশে এই দর্শনের খুব আলোচনা।
বিজ্ঞানী কপিলের বিচার ও দর্শন রয়েছে সাংখ্য সূত্র নামক গ্রন্থে। সাংখ্য সূত্রে গ্রন্থে পাচশোর বেশি সূত্র রয়েছে। ছয়টি অধ্যায় রয়েছে। এমন অনেক যা আধুনিক গবেষণার সাথে মিলে যায়। পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানের গবেষক ও দার্শনিক রা অবাক হন কি করে কপিল এগুলো অনুধাবন করলেন। এই গ্রন্থটি ভারতের বিজ্ঞানের বিকাশের কথা বলে। সাংখ্য সূত্রে কপিল বলেছেন পদার্থের বিনাশ হয় না।কেবলমাত্র রুপান্তর ঘটে । এটা আধুনিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
কপিল হাজার হাজার বছর আগে বলেছিলেন, পদার্থ অনু,পরমাণু ইলেকট্রন ,প্রোটন এবং নিউট্রন নিয়ে গঠিত । কপিল কে সাংখ্য দর্শনের স্রস্টা বলে ধরা হয়ে থাকে। সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতি ও পুরুষে সম্বন্ধে তিনি যে বিচার বিশ্লেষণ করেছেন,যা আধুনিক বিজ্ঞানীরা মান্যতা দিয়েছেন। কপিল মুনির আধুনিক অকাশ বিজ্ঞানের জনক। কপিল মুনিকে ঘিরে সাগর দ্বীপ। সাগর দ্বীপে তীর্থ করতে সমগ্র ভারত থেকে আসে মানুষ । এ চলে আসছে আদিকাল থেকে।
জটা দেউল রায় দিঘীর মণি নদীর মোহনায় অবস্হিত। জঙ্গল পরিষ্কার কালে এই মন্দির নতুন করে মানুষের সম্মুখে আসে। যার শিল্প শৈলি উত্তর ভারতের নাগরিক নীতি অনুসারে।এই মন্দির টি পাল যুগে নির্মিত। মন্দির পুন: আবিষ্কৃত হওয়ার সময় অনেক নর কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়। মনে হয় এ সব বাঘের শিকার।বর্তমান সময়ে মন্দির টি 80/85 ফুট উচু। এই মন্দির টি জটার শিবের নামে।তাই জটার দেউল বলা হয়। 975 সালে এই মন্দির তৈরি হয়।সুড়কি নয় কাদা দিয়ে তৈরি।রায়দিঘীর কাছে মনি নদীর মোহনায়।
এই জনপদ অনেক সমৃদ্ধ শালি ছিল। হয়তো জল প্লাবন,ভূমিকম্প বা ডলদস্যুদের অত্যাচারে এখানকার মানুষ অন্যত্র চলে যায়। এখানে পাল আমলে তৈরি সূর্য মূর্তি ও ইটের স্তূপের গড় পাওয়া যায়। কঙ্কন দিঘী খনন কালে অনেক ঘর বাড়ির ধ্বংস স্তূপ পাওয়া গেছে।
ঐ মন্দিরের গঠন পদ্ধতির ও ইটের আকার ও রূপ দেখে মনে হয় এ পাল যুগের। ওখানে তাম্র লিপি পাওয়া যায় তা থেকে মনে হয় এ জয়ন্ত চন্দ্র নামে কোন নৃপতির তৈরি। কিন্ত এই লিপি পাঠ হয় নাই। তার আর খোঁজ নেই।
জটার দেউল যখন নির্মিত হয় তখন মন্দির টি কারু কার্য খচিত ছিল আজ আর তা নেই। নষ্ট হয়ে গেছে। জটার দেউলে রেখ দেউলের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।জগমোহন শৈলি বিশিষ্ট মন্দির এটি। একটি সুউচ্চ দেউলের সামনে আরেকটি সুউচ্চ দেউল এই দেউলের বৈশিষ্ট্য। সুউচ্চ দেউলে দেবতা মজুত থাকতেন। এই মন্দিরের অপর নাম বিমান। মন্দিরের সামনে জুড়ে দেওয়া হলো ছোট দেউল ।এই মন্দিরে দেবতা থাকতো। সামনের ছোট দেউল টিকে বলা হয় জগমোহন। বিশেষজ্ঞ রা বলেছেন বিয়ের টোপর পরা বর যিনি স্ত্রীর পিছনে দাড়িয়ে। মিথুন সদৃশ। জটার দেউল কে ও কি অদৃশ্য কারনে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল তা জানা যায় ন ।
দুর্গা প্রসাদ চৌধুরী ও দিগম্বর মিত্র নামে দুইজন জমির মালিক হন। জমি হাসিল করার জন্য বিশ জন মুন্ডা নিয়ে আসেন। কিন্ত বাঘের উৎপাত।জটা জুট বাঘের উপস্থিতি ছিল এখানে।ফিলিপ নাথ নামে এক ধর্মান্তরিত র্খৃষ্টান কে বাঘ মারার দায়িত্ব দেওয়া হয়।কুড়িটি বাঘ মারা হয়। তার নাম হয় ফিলিপস শিকারী। ঐ বংশের লোকেরা পরবর্তিতে শিকারী নামে পরিচিত। বন হাসিল করতে গিয়েই মন্দির টি আবিষ্কৃত হয়।আজ আর মন্দিরের সেই সৌন্দর্য নেই।
কঙ্কন দিঘী এক হারিয়ে যাওয়া নগর। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কঙ্কনদিঘী ছিল অরণ্য আচ্ছাদিত শ্বাপদ সঙ্কুল দ্বীপ ভূমি। ইংরেজরা এই জমি পত্তন দিতো। জমিদার রা জমি হাসিলের জন্য আবাদি পত্তন শুরু করে।বনভুমি জনপদে পরিবর্তিত হয়। চাষাবাদ ও বনভূমি পরিষ্কার করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এক রাজধানী শহর। কি ছিল না সেখানে রাজপ্রসাদ, প্রাকার বেষ্টিত আবাস স্হল,মন্দির,উপাসনা স্হল। সারি সারি কুয়ো, পয়: প্রণালী,ক্রীড়াঙ্গন,নাট্যভবন, কারখানা,শিল্পালয়, প্রভৃতি আধুনিক কালকে ও হার মানায়।
কঙ্কন দিঘী থেকে পাওয়া গেছে পাথরের বিষ্ণুর নানা মুর্তি,সূর্য রাজ,উমা মহেন্দ্র,মহিষমর্দিনি মূর্তি। প্রভৃতি মূর্তি পাওয়া যায়।চুরি হয়ে দেশ বিদেশে চলে যাচ্ছে।
এখানকার কিছু বাগান কৃষিক্ষেত্র এবং ঢিবির মধ্যে বাড়ির ঢিবি, প্রত্নতত্ত্ব বস্তু র পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখযোগ্য। বুড়ি মার ঢিবি,শ্বেতরাজার ঢিবি,গঙ্গার ঢিবি পিলখানা ঢিবির,কাতারে বাড়ির ঢিবি এবং মঠবাড়ির ঢিবি সম্ভাবনা ময় এবং প্রত্নতত্ত্ব সমৃদ্ধ। এই ঢিবি গুলি বিহার ও মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে।
এখানকার প্রাচীন গোষ্ঠীর মুখে মুখে শ্বেত রাজার কাহিনি ফেরে। এখনো ঢিবি দেখিয়ে বলে শ্রীরামপুর ঢিবির নিচে শ্বেতরাজার রাজপ্রসাদ রয়েছে।শ্বেতারাজার নামে একটি খাল বর্তমান। টলেমি সুন্দর বনের অববাহিত অন্চলে মুরন্ড নামে এক জাতির বাস বলে উল্লেখ করেছেন। এই মুরন্ড ছিল শ্বেতাঙ্গ হুন বলে মনে হয়। কুষান বংশের কেউ হবে । কুষান প্রত্নতত্ত্ব ও কুষাণ স্থাপত্যের লক্ষন বর্তমান। এ ছাড়া কুষাণ যুগের মুদ্রা পাওয়া গেছে।কঙ্কন দিঘী কোথা ছিল কিন্ত তার অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি।
মহাপ্রভু নীলাচলে যাওয়ার সময় একরাত্রি আটি সারা গ্রামে কীর্তন করে কাটান।বর্তমানে বারুইপুর বাজারের কাজে শ্রী অনন্ত লাল আচার্যের বাড়িতে ও তার গৃহে শ্রী গৌরাঙ্গ ও নিত্যান্দের দারু বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। আনন্দ গীরি প্রতিষ্ঠিত আনন্দ ময়ী কালি বাড়ি রয়েছে। বারুইপুরে রাধাগোবিন্দের মন্দির রয়েছে।দুটি পন্চাননের ,বিশালাক্ষী ও দুটি বাবাঠাকুরের থান রয়েছে।মাদারহাটে কালি ও পন্চানন্দের মন্দির আছে।
ধবধবিতে রয়েছে দক্ষিণা রায়ের মন্দির। তিনি ছিলেন ঐতিহাসিক ব্যক্তি। মোগলদের হাতে নিহত মুকুট রায়ের সেনাপতি। তিনি সুন্দর বন অন্চল ভাটিশ্বর নাম ধরে শাসন করতেন। তার সঙ্গে বড় খাঁ পীরের লড়াই শুরু হয়। সুন্দর বনের ইসলামিক যড়যন্ত্র কে শক্ত হাতে দমন করেন। দক্ষিণ রায়ের বেশ যুদ্ধ বেশ।তিনি ঘোড়ার উপর বসে যুদ্ধ বেশে।
নীমপীঠে স্বামী বুদ্ধানন্দ আসেন তখন এই অন্চল ছিল জঙ্গলাকীর্ন। কৃষিজীবিদের বাস। এখন এই আশ্রম কৃষি জীবনের সাথে যুক্ত।
ময়দা একটি বিখ্যাত গ্রাম। পর্তুগীজ দের আনোগোনা ছিল। ময়দা কালি বাড়ি বিখ্যাত ধর্মীয় স্হান। আদি গঙ্গা এখান দিয়ে বয়ে যেত।
ডায়মন্ড হারবার বিদেশীদের স্মৃতিতে ভরপুর। এই জেলাতে নদনদী কম নেই। রয়েছে সাগর।বিদ্যাধরি নদী,মাতলা,আদি গঙ্গা, গঙ্গা,মণি নদী,ভাগীরথী ও দামোদর প্রভৃতি। ভাগীরথী ও দামোদর ফলাফল মিলিত হয়েছে।
সুন্দর বনকে প্রাচীন কালে কালকবন নামে অভিহিত করা হতো।
বর্তমানে এক তৃতীয়াংশ ভারতে।এখানকার প্রাণীদের মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার,কুমীর ও বন্যবরাহ আছে। গন্ডার ও ছিল। হরিণ আছে সুন্দর বনে।মৎস্যজীবির সংখ্যা অনেক। কৃষি জীবি রয়েছে।সুন্দর বনের মধু বিখ্যাত। চিংড়ী ও কাকড়া বিদেশে যায়। সুন্দরী ,হেতাল,গরান জাতীয় বৃক্ষ রয়েছে। সুন্দর বনের বাঘ দেখতে সুন্দর বুদ্ধিমান ও হিংস্র। অতি সর্তক হয়ে ও নিঃশব্দে শিকার করতে পারে। সোনারপুর ও রাজপুর জানতে হলে আগের পাতায় চলে যান ।
( যদি জয়গান গাও দেশ মাতার জয়গান গাও)
https://wwwhowucoin.blogspot.com/2023/08/can-you-feel-to-assess-your-lifestyle.html
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমর বাংলা ব্লগে সবাই কে অভিনন্দন। মন্তব্য করতে পারেন।