🔱
✒
বাংলার ইতিহাস। পশ্চিম বঙ্গের ইতিহাসে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা একটি জেলা । আর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ইতিহাসে "রাজপুর সোনারপুর" শহর ।পশ্চিম বঙ্গের রাজধানী কোলকাতার অনতিদূরে এই দুই শহর। সোনারপুরে সোনারখনি নেই ,আছে স্বর্নময়ী দেবীর কাহিনী।প্রথমে সোনারপুর । পরে রাজপুর ।সনাতনী মানুষের বাস। তাই নেই ধর্মের বাড়াবাড়ি ।
আদি গঙ্গার তীরে গড়ে উঠেছে রাজপুর। রাজপুরে রাজকাহিনী নেই।আছে বিদগ্ধ লোকেদের বাস। সুভাষ গ্রামে নেতাজী সুভাষ আসেননি কোনদিন কিন্ত রয়েছে পৈতৃক ভিটা। কোদালিয়ায় ছিল পৈতৃক বাড়ি । দুটি শহর মিলিয়ে একটি পৌরসভা। সোনারপুর এবং রাজপুর পৌরসভা। সোনারপুর ষ্টেশন থেকে লিভার ফাউন্ডেশনের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। অটো বাস পাওয়া ও যাওয়া যায়।
" শিয়ালদহ স্টেশন "
দক্ষিণ শিয়ালদহ ষ্টেশন দিয়ে সোনারপুরে ট্রেন ধরে আসা যায়। সুভাষ গ্রাম , নরেন্দ্রপুর,গড়িয়া স্টেশন রয়েছে এই পৌরসভায় । মল্লিকপুরেও রয়েছে। এখানে রয়েছে " লিভার ফাউন্ডেশন" নামে একটি বিখ্যাত হাসপাতাল । এখানে লিভারের চিকিৎসা হয়।
সোনারপুর
সোনারপুরের নামকরন হয় , কেদার ও চাঁদরায়ের বিধবা ভগিনী স্বর্নময়ী দেবীর নামে ।তখন বাংলায় দ্বাদশ পীরের আগমন হয়ে গেছে । এরা আরব থেকে এসেছিল ভারতকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য।বাংলায় এসেছিল বারো জন।
এরা ধর্মান্তর শুরু করে।হিন্দুরা ভাবতে শুরু করে এরা হিন্দুদের কোন সম্প্রদায় । রাজারা যখন বুঝতে পারে ব্যাপার টা অন্য দিকে গড়িয়ে গেছে।এরা দল ভারী করে মোগল পাঠান তুর্কীদের ডেকে আনে হিন্দু রাজাদের আক্রমণ করতে থাকে।সিলেটের হিন্দু রাজা গোবিন্দ ও খুলনার বাখের গঞ্জের হিন্দু রাজা পরাজিত ও নিহত হন। গাজি মানে তিনজন অমুসলিমকে হত্যা করে এই উপাধি প্রাপ্ত হতো। বিভিন্ন ইসলামিক গ্রন্থে ও বৃটীশ এনসাইক্লোপিডিয়াতে এর উল্লেখ আছে। পীরেরা নিজেরা বাইরে থেকে নবাব বাদশাহদের ডেকে এনে হিন্দু রাজাদের উপর আক্রমণ চালায়। (ঐতিহাসিক সতীশ চ্যাটার্জি ও ড: দীনেশ সেন)।
যা ছিল আরব ইসলামিক সাম্রাজ্য বাদের সহায়ক।আজমীর শরীফের পীর ঘোরী কে ডেকে এনেছিলেন ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে।
(1) সৈন্য বাহিনী তৈরি করে হিন্দু রাজাদের আক্রমণ।
(2) বাইরে থেকে মুসলিম নবাব বাদশাহদের ডেকে এনে হিন্দু রাজা দের আক্রমণ করতো ।
(3) হিন্দুদের ধর্মান্তর করন ও সংখ্যা বাড়াও ।
এই জন্য এরা হিন্দুদের প্রতারিত করার জন্য বন বিবি ও ঔলা বিবির পূজা শুরু করে। বিবি মানে বউ .হিন্দুদের বনদেবী হচ্ছে মা চন্ডি । হিন্দুরা মায়ের পূজা করে।কারো বউ এর পূজা করে না। মা পার্বতী , মা লক্ষী, মা সরস্বতী এবং মা দূর্গা প্রভৃতি। পীরেদের এই চক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মান্তরের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যায় হিন্দুরা। কামাল গাজী বিদেশ থেকে আসা এমনই একজন পীর। পীর মানে হিন্দু সন্ন্যাসী নয়। ইসলামে ত্যাগ বলে কোন বস্তু নেই।
মোগলরা যখন হিন্দু নারীদের উপর অত্যাচার শুরু করে( এক মুসলিম ঐতিহাসিক)তখন সুবেদার হয়ে আসেন মানসিংহের ভাই।ঐ মুসলিম ঐতিহাসিক বলেছেন ঐ নতুন সুবেদার তিন হাজার হিন্দু নগ্ন মেয়েকে উদ্ধার করেন মোগল সৈন্য ব্যারাক থেকে। মোগল আরব ইসলামিক সাম্রাজ্য বাদের প্রতিভূ মোগলরা হিন্দু রাজাদের আত্মসমর্পণ করার আদেশ দেয়।
বারোভূঈয়াদের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কেদার রায়ের রাজধানী বিক্রমপুরে। কেদার রায় চেয়েছিলেন আরব মোগল ইসলামিক সাম্রাজ্য বাদের সাথে ঐক্য বদ্ধ লড়াই। বিক্রমপুর তখন জ্ঞান বিজ্ঞানের পীঠ স্হান। ভারতবর্ষ খ্যাত শহর। সেই সম্মেলনেএক মাত্র মুসলিম বারোভূঈয়া ঈশা খা উপস্থিত ছিলেন। তিনি কোন কারনে স্বর্নময়ী দেবীকে দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। কেদার রায় এটাকে অপমান জনক মনে করেন। এবং ঈশাখাঁর রাজ্য সোনার গাও আক্রমণ করে দখল করেন। কিন্ত ঈশা খাঁ তাতে দমে নি।
কেদার রায়ের এক কুলপুরোহিতের যোগসাজসে স্বর্ণময়ী দেবীকে চুরি করে এই সোনারপুরে লুকিয়ে রাখে।পরে স্বর্নময়ী দেবী সোনা বিবি নামে পরিচিত হন।
ঈশাখাঁর কাছে মোগল আক্রমণ বড় কিছু ছিল না। কেদার রায় পরবর্তিতে স্বাধীনতার জন্য মোঘলদের সাথে লড়াই এ প্রাণ দেন।
বিদেশী আক্রমণ কারিদের একই ভূমিকা দেখতে পাই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে । যখন হিন্দুরা স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে তখন মুসলিম রা পাকিস্তান আন্দোলনের মাধ্যমে হিন্দু নিধন শুরু করে। রবীন্দ্রনাথ এই দাঙ্গার স্বরূপ দেখে বিচলিত হন । তিনি সেই দাঙ্গা পিড়িত অঞ্চল ভ্রমন করেন। তেলাঙ্গানার দাঙ্গার স্বরূপ ব্যাখা করেন কালান্তর নামক গ্রন্থে। তিনি লিখেছেন, " পৃথিবীতে দুটি পরস্পর বিরোধী অত্যুগ্র ধর্ম রয়েছে একটি মুসলমান ধর্ম অন্যটি খৃষ্ট ধর্ম ইহারা নিজেদের নিয়ে সন্তুষ্ট নয় অপরকে সংহার করিতে উদ্যত ইহাদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উপায় ধর্মান্তরিত হওয়া "।
আম্মেবেদকার বলেছেন মুসলমান রা বিদেশী আক্রমণ কারি। আম্বেদকার বিদেশী আক্রমণ কারি শব্দের সাথে মুসলমান শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
ঈশাখাঁ এদেরই একজন । তিনি মোগলদের আক্রমণ মুসলিম ভাইদের আক্রমণ হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। বাংলার ঐক্য ফাটল ধরাতে চেয়েছিল এবং সফল হয়েছিল। কোন বিদেশী পাঠানের কাছে বাংলার স্বাধীনতার প্রতি সম্মান ছিল না বলে মনে হয়। আবার রবীন্দ্রনাথে যাই কবি মুসলিম লীগের আক্রমণাত্মক আন্দোলনের সময়ে এখানে সেখানে হিন্দুর প্রাণ যাচ্ছিল এটা দেখতে পেয়ে মুসলিম সমাজ পতিদের সাথে বসেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন " ভারত বর্ষ যদি কোন মুসলমান দেশ দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে আপনারা কি হিন্দুর সাথে হাত মিলিয়ে যুদ্ধ করবেন ? মুসলমান সমাজ পতিরা বলেন, তারা কোন মুসলমান দেশের বিরুদ্ধে হিন্দুদের সাথে হাত মিলিয়ে চলবেন না। (আম্বেদকারের রচনা বলী)।
বোড়াল কথা
--------------------
বোড়ালে শশ্মান ও শশ্মানে চাঁদসওদাগরের স্থাপিত মন্দির রয়েছে। সেন বংশের তৈরি দিঘী রয়েছে। পাল বংশের অনেক মুর্তি পাওয়া গেছে বোড়ালে।
রাজনারায়ন বসুর চোখে ,"1748 শতকের তেইশ ভাদ্র দিবসে(ইং 7 ই সেপ্টেম্বর 1826) বঙ্গদেশের চব্বিশ পরগনর জেলার মাগুরা পরগণার বোড়াল গ্রামে আমার জন্ম হয়। চাপড়া ষষ্ঠির দিন আমার জন্ম হয়।।আমার স্মরণ হয়, যে পর্যন্ত না ব্রাহ্মধর্ম অবলম্বন করি, প্রতি জন্ম তিথি দিবসে মাতা ঠাকুরাণী আমাকে শীত বস্ত্র পড়াইতেন ও আমার দ্বারা একটি মাছ পুষ্করিণীতে ছাড়াইতেন। আমার পূর্ব পুরুষদের নিবাস গড় গোবিন্দ পুর ছিল।
ইংরেজরা এই স্হানে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করেন তখন বিনিময় স্বরূপ কলিকাতার বাহিরে সিমলা পল্লীতে আমার পিতৃপূরুষদের এই জমি দেন। বাহির সিমলার প্রাণকৃষ্ঞ বসু আমার পূর্ব পুরুষদের জ্ঞাতি ছিলেন।তাহার বংশোদ্ভূত যদুনাথ বসু বর্তমানে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ করিতেছেন।
বাহির সিমলা পল্লীস্হিত মতিশীলের পুষ্করীনির নিকট প্রাণকৃষ্ঞ বসুর বাড়ি হইতে আমার প্রপিতামহ শুক্রবার বসু কোন কারনবশতঃ বোড়াল গ্রামে বসতি করিতে বাধ্য হন। ইনি পান্ডু রোগে আক্রান্ত হইয়া বৈদ্যনাথ হত্যা দিবার উদ্দেশ্যে স্বগ্রাম যাত্রা করেন। রাস্তায় স্বপ্ন দেখেন।তাতে স্বপ্নাদ্য ঔষধ লাভ করেন , তাহা লইবার জন্য নানা স্হান হইতে বহুলোক আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করিত।
রেল ষ্টেশন
1870 ও 1882 সালে সোনাপুরে তথা সোনারপুরে প্রথম যথাক্রমে পোষ্ট অফিস ও রেল ষ্টেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পোষ্ট অফিস ও রেলষ্টশনটি যথাক্রমে সোনাপুর ডাকঘর ও সোনা পুর রেল ষ্টেশন নামে পরিচিত।
রেল স্টেশনের নাম দেওয়া হলো। যথা :
(1) গড়িয়া
(2) নরেন্দ্রপুর ষ্টেশন
(3) সোনারপুর ষ্টেশন
(4) সুভাষ গ্রাম স্টেশন
*হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা"
(1) লিভার ফাউন্ডেশন
(2) ইস্পাত হাসপাতাল
(3) সরকারি হাসপাতাল,সুভাষ গ্রাম
(4) বন বন্ধু পরিষদের হাসপাতাল ।
(5) পৌরসভার হাসপাতাল মনসাতলা , সুভাষ গ্রাম।
*"সোনারপুর রাজপুর ও মন্দির " বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান,
(1) নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন , নরেন্দ্রপুর
(2) কাঠিয়া বাবা আশ্রম , মহামায়া তল।
(3) বিপত্তারিনি মায়ের মন্দির , বোস পুকুর।
(4) ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির ,বোড়াল ।
(5) বোড়াল শশ্মানে" চাদঁ সওদাগরের " নির্মিত মন্দির ।
(6) জয়গুরু আশ্রম ,তেঘরিয়া।
(7) লোকনাথ ও বজরঙ্গী মন্দির,বাঘের খোল।
(8)লোকনাথ ও বজরঙ্গী মন্দির , কালি বাজার ।
(9) অনুকূল ঠাকুর আশ্রম , বাঘের খোল ।
(10) বারোনীর মন্দির , পেয়ারাবাগান ।
(11) লোকনাথ মন্দির ও পঞ্চায়েত মন্দির, বোস পুকুর।
(12) পন্চানন মন্দির , রাজপুর ও ময়ড়া পাড়া ।
(13) গৌরীয় মঠ , গ্রীন পার্ক।
(12) গৌরীয় মঠ , ধামাই তলা ।
(13) আত্মানন্দ আশ্রম , আশ্রম পাড়া ।
(14) জগদবন্ধু আশ্রম, সুভাষ গ্রাম, ভবানীপুর।
(15) রাম ঠাকুর আশ্রম, নেতারা স্কুল।
(16) ইস্কন মন্দির, হসপিটাল মোড়। সুভাষ গ্রাম।
(17) সৎসঙ্গ , হসপিটাল মোড়।সুভাষ গ্রাম।
(18) রাধাগোবিন্দ মন্দির, গাধী পাড়া। সুভাষ গ্রাম ।
(19) বজরঙ্গ বুলি মন্দির, ভবানীপুর। সুভাষ গ্রাম।
(20) তারামাঈ মন্দির , আশ্রম পাড়া, সুভাষ গ্রাম।
(21) শীতলা মন্দির , গাড়ী পাড়া , সুভাষ গ্রাম।
ঐ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমর বাংলা ব্লগে সবাই কে অভিনন্দন। মন্তব্য করতে পারেন।