সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
"বিবেকানন্দ এবং নিবেদিতা এবং জগদীশ চন্দ্র বসু"
h2: "ভারত ও ইতিহাস", পরাধীন ভারত তার সব কিছু হারিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। হত্যা ,ধর্মান্তর, নারী হরন মন্দির ভাঙ্গা, পুথি জ্বলিয়ে সৈনিকের খাবার তৈরি হয়েছে। ধর্মান্তরিত হলে প্রাণে বাচব না হয় মৃত্যুর জন্য তৈরি হও এই ছিল ছবি। সম্রাট অশোক নির্মিত ছাব্বিশটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে তবুও ভারত বর্ষ ছিল তার পরিচয় নিয়ে। 1893 সালে, বিবেকানন্দ সেই বছরের শেষ দিকে ধর্ম মহাসভায় ভারতের বিজয় পতাকা উড্ডীন করেন।তখন থেকেই ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতীয়তাবাদের" উন্মেষ হয়। বহু অত্যাচারের মুখে ও ভারতের হার হয়নি।বলিদান বৃথা যায়নি।স্বামীজির ঐ সফর যেন ভারতের "সামাজিক ও রাষ্ট্রের" দেহে বিদ্যুত প্রবাহ বইয়ে দিল।ভারত ও বিজ্ঞান
h2: "ভারত ও বিজ্ঞান " , 1895 সালে আচার্য জগদীশ চন্দ্র কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে "মাইক্রোওয়েভ" এর সাহায্যে বিনাতারে দূরে রাখা গান পাউডার জ্বালিয়েছিলেন । একটা ঘন্টা বাজিয়ে দেখান। এই পরীক্ষা সম্পর্কে জগদীশ চন্দ্র লেখেন।,"The visible light can easily pass through bricks walls, building etc. Therefore messages can be transmitted by means of if without the mediation of wires.
1896 সালে একই জিনিষ করে দেখান মার্কনি। তার পরবর্তী কালে মার্কিন এই জিনিষটা করে দেখান এবং নোবেল প্রাইজ পান।জগদীশ বসুর একশত পঞ্চাশ জন্মবর্ষে মার্কনি নাতি কলকাতায় এসে বলেন ,"আমার দাদুর আগেই জগদীশ চন্দ্র বসুর নোবেল প্রাইজ পাওয়া উচিত ছিল।
1896 সালে জগদীশ চন্দ্র লন্ডনে যান।সেই কুমার রনজিৎ সিং ইংরেজদের জাতীয় খেলায় ইংরেজদের অতিক্রম করে যান। ওই বৎসর অতুল চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আই সি এস পরীক্ষায় প্রথম হন। একই বছর স্বামী বিবেকানন্দ লন্ডনের বিভিন্ন সভায় হিন্দু ধর্ম কে তোলে ধরেন।
একই সময়ে জগদীশ চন্দ্র লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ডি এস সি ডিগ্রি লাভ করেন।রয়েল একাডেমী তাকে সম্মান প্রদর্শন করে।
h3:" ভারত ও নিবেদিতা" , 1898 সালে ভগীনি নিবেদিতার সঙ্গে পরিচিত হন। ভারতবর্ষ প্রেমী নিবেদিতা জগদীশ চন্দ্রকে নানা ভাবে সাহায্য করেন। আচার্য বোস এই সময় আর্থিক সহযোগিতার জন্য চিঠি লেখেন। রবীন্দ্রনাথকে আর্থিক সামহোয়্যার জন্য চিঠি লেখেন নিবেদিতা । রবীন্দ্রনাথ ত্রিপুরার মহারাজের নিকট বসুকে সাহায্য করার জন্য চিঠি লেখেন।
1900 সালে প্যারিসে বিরাট এক অধিবেশন হয়। এই কংগ্রেসে অন্যতম বক্তা ছিলেন জগদীশ চন্দ্র বসু। এই কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা,রেশন দত্ত ব্যক্তিগন।এই কংগ্রেস সম্পর্কে স্বামীজির বক্তব্য খুবই উজ্জ্বল।
h4: "ভারত ও জগদীশ বসু" ,আজ 23 শে অক্টোবর 1900 সাল। "এ বছর প্যারিস সভ্যজগতের এক মহা প্রদর্শনী। নানা দিগদেশ সমাগত সজ্জিত সঙ্গম।দেশান্তরে মনীষীগন নিজ নিজ প্রতিভা প্রকাশে স্বদেশের মহিমা বিস্তার করেছেন আজ এ প্যারিসে। এই মহানন্দা যার নাম উচ্চারণ করবে , সে না তরঙ্গ সঙ্গে সঙ্গে তার স্বদেশের সর্বজনীন সপক্ষে গ্রাফিক্স করবে। আর আমার জন্মভূমি এ জার্মানি, ফরাসী ,ইতালি, প্রভৃতি বুধমন্ডলীমন্ডিত মহা রাজধানীতে তুমি কোথায় বঙ্গভূমি?কে তোমার নাম নেয় ? কে তোমার অস্তিত্বের ঘোষনা করে। সে বহু গৌরবর্ণ প্রতিভা মণ্ডলের মধ্য হতে এক যুবা যশস্বী বীর, বঙ্গ ভূমির আমাদের মাতৃভূমির নাম ঘোষণা করল সে বীর জগতপ্রসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক জে সি বোস। এক যুবা যশস্বি বাঙালি আজ বিদ্যুতবেগে পাশ্চাত্যমন্ডলীকে নিজের প্রতিভা মহিমায় মুগ্ধ করলেন। সে বিদ্যুত সঞ্চার মাতৃভূমির মৃত প্রায় শরীরে নবজীবনতরঙ্গ দান করলো।সমস্ত বিজ্ঞান মণ্ডলের শীর্ষ স্থানীয় আজ জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতবর্ষ বঙ্গবাসী ধন্য বীর।"
h5: "ভারত ও বিবেকানন্দ " স্বামীজি অত্যান্ত আনন্দিত হয়েছেন। জগদীশ চন্দ্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণা যখন যখন পদার্থ বিজ্ঞানের দৃষ্টি অতিক্রম করে শরীর বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রবেশ করলো এবং জড় ও জীবনের মধ্যে অখন্ড সত্যের প্রকাশ করলো স্বামীজি তখন কৃতজ্ঞ না হয়ে পারেন নি।যখন তিনি ইউরোপের একটি চাকরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং জগদীশ চন্দ্র বসুর দেশপ্রেম আরো গভীর ভাবে প্রকাশ পায়।
তার মনোভাব রবীন্দ্রনাথ কে লেখা চিঠিতে পাই।তিনি লিখেছেন "আমার সমস্ত মনপ্রাণ দু:খিনী মাতৃভূমির আকর্ষণ ছেড়ে কোন কাজ করতে পারে না।আমার সমস্ত inspiration এর মূলে স্বদেশী স্নেহ, সেই স্নেহ বন্ধন ছিন্ন হলে আর কি রহিল। আমার আর কি রহিল "? আমার হৃদয়ের মূল ভারতবর্ষ। সেখানেই যদি থাকিয়া কিছু করিতে পারি , তাহা হইলেও জীবন ধন্য হবে" ।
ভগিনী নিবেদিতা লন্ডনে অনেক বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে জগদীশ চন্দ্রের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন। ।যেমন জর্জ বার্ণাডশ, লর্ড হেক্সলী,রোমা রলা, লর্ড কেভিন সহ প্রমুখ। ভারতে এসে ও নিবেদিতা জগদীশ চন্দ্র বসু কে সহযোগিতা করেছেন। জগদীশ চন্দ্রের বই" Responsible in the living and non living". প্রকাশশনায় ও সম্পাদনায় নিবেদিতা সাহায্য করেছেন। 1902 সালে এই বই প্রকাশিত হয়। বইটি উৎসর্গ পত্রে লেখাছিল" This works is dedicated to my country man " উৎসর্গ পত্রের বা দিকে ছিল ঋণ বেদের বাণী "The real is one; wisemen call its variously." এবং সৎ,বিপ্রা:বহুধা বদন্তি ।
ঐ যুগ ছিল বাংলার সুদিন। রামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক বাণী ভারত বর্ষ কে পথ দেখালো । স্বামীজির মাথায় রামকৃষ্ণের আশীষ এবং সমুদ্র সম অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে এলেন স্বামীজি। যুবকেরা তৈরি হলো গীতা হাতে ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে। নব জাগরণের জোয়ার এলো।এমন কোন বিভাগ নেই এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে ইতিহাস রচনা হলো না।এ যেন স্বপ্ন পূরণের যোগ । সারা দেশে জাগরণের প্রদীপ জ্বালালো এক দল মানুষ। জন্মভূমির সম্মান ও গৌরব বড় হয়ে উঠল। স্বামীজির হাত ধরে সুপ্ত সিংহ জেগে উঠলো। সবাই বলে উঠলো " আমরা পারি"। ধর্মের পথে, আধ্মাতিকতার পথেই এসেছিল "মুক্তির স্বাদ "
(সত্যের জন্য,ন্যায়ের জন্য , লোকাশ্রয়ের জন্য , আপনাকে উৎসর্গ করিবার গৌরব দুর্গম পথের প্রান্তে তোমার জন্য অপেক্ষা করিতেছে। রবীন্দ্রনাথ)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমর বাংলা ব্লগে সবাই কে অভিনন্দন। মন্তব্য করতে পারেন।